ঘাড় ফোটালে ধমনী, স্নায়ু, লিগামেন্ট এমনকি হাড়ের ক্ষতিও হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

ঘাড় ফোটাতে গিয়ে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হলেন নারী

ঘাড় ফোটালে ব্লাড ক্লট তৈরি হয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এমনকি ঘাড় ফোটালে স্নায়ু, লিগামেন্ট, এমনকি হাড়ের ক্ষতিও হতে পারে।

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৪২ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৪২
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৪২ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৪২


ঘাড় ফোটালে ধমনী, স্নায়ু, লিগামেন্ট এমনকি হাড়ের ক্ষতিও হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ঘাড়ে ব্যথা হলে অনেক সময়েই আমরা ঘাড় এদিক-ওদিক নাড়াচাড়া করে ব্যথাটা কমানোর চেষ্টা করি। এতে অনেক সময় আঙুল ফোটানোর মতো শব্দ হয়, যাতে আমরা একটু আরাম পাই। কিন্তু এভাবে ঘাড় ফোটানোটা মোটেই নিরাপদ নয়! যুক্তরাজ্যের এই নারী এই কাজটি করতে গিয়ে আংশিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছেন।

২৩ বছর বয়সী নাটালি কুনিকি বিছানায় এক বন্ধুর সঙ্গে বসে সিনেমা দেখছিলেন। তিনি ঘাড় টানটান করেন এবং জোরে মট করে একটা শব্দ হয়, কিন্তু একে তেমন পাত্তা দেননি। কারণ তার শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে অহরহ এমন শব্দ হয়। কিন্তু ১৫ মিনিট পর তিনি বাথরুমে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখেন, বাম পা নাড়াতে পারছেন না। সকালে তাকে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানের ডাক্তাররা দেখেন, ঘাড় ফোটাতে গিয়ে ঘাড়ের একটি ধমনী ফেটে গেছে। এতে একটি ব্লাড ক্লট তৈরি হয় যাতে একটি স্ট্রোক হয় তার। ফলে তার শরীরের বাম দিকটি অবশ হয়ে পড়ে।

একজন মানুষ যখন আঙুল ফোটায়, পিঠ বা ঘাড় টানটান করে ফোটানোর চেষ্টা করে, তখন শব্দ হয় কেন? কারণ এসব জয়েন্টের ভেতরে থাকা নাইট্রোজেনের বুদবুদ ফেটে যায়, অথবা লিগামেন্টগুলো রাবারের মতো টান খেয়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে আসার সময়ে শব্দ করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জয়েন্ট ফোটালে কোনো ক্ষতি হয় না, কিন্তু ব্যথা বা ফোলা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখানো উচিত।

সব ক্ষেত্রেই ঘাড় ফোটানো ও জোরে জোরে ঘাড় নাড়াচাড়া করা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ ঘাড় দিয়ে অনেকগুলো রক্তনালী গেছে মস্তিষ্কে। এগুলোর দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ঘাড় ফোটাতে গেলে। এতে ব্লাড ক্লট তৈরি হয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি দেখা দেয়। শুধু তাই নয়, ঘাড় ফোটালে স্নায়ু, লিগামেন্ট, এমনকি হাড়ের ক্ষতিও হতে পারে।

কুনিকির ডাক্তাররা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ধমনীটি সারিয়ে তুলতে সক্ষম হন, তবে ব্লাড ক্লটটি সরানো যায়নি। তা সময়ের সঙ্গে গলে যাবে বলে আশা করছেন ডাক্তাররা। তবে কুনিকির পক্ষাঘাত অস্ত্রোপচারের পরেও পুরোপুরি সারেনি। ফিজিক্যাল থেরাপির মাধ্যমে তার হাত-পা ও আঙুলে কিছু অনুভূতি ফিরিয়ে আনা গেছে। আরো কয়েক মাস তাকে থেরাপি নিতে হবে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

প্রিয় লাইফ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


loading ...