তিন বছর যাবত বিনা দোষে জেল খাটছেন আরমান (ডানে) ও সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবন বামে। ছবি প্রিয়.কম

শাহাবুদ্দিনের বদলে জেল খাটছেন আরমান, ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

আবেদনে নির্দোষ আরমানের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০২ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০২
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০২ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:০২


তিন বছর যাবত বিনা দোষে জেল খাটছেন আরমান (ডানে) ও সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবন বামে। ছবি প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) পিতার নামের সঙ্গে মিল থাকায় মাদকের একটি মামলায় ৩ বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন মিরপুরের পল্লবীর বেনারসি কারিগর মো. আরমান। তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা, মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

২১ এপ্রিল, রবিবার এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন।

আবেদনে নির্দোষ আরমানের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পল্লবীর ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে রিটে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে  আগামী ২৩ এপ্রিল, মঙ্গলবার আবেদনটি শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধী না হয়েও পাটকল শ্রমিক জাহালমকে জালিয়াতির ৩৩ মামলার আসামি হয়ে ৩ বছর কারাভোগ করতে হয়েছিল। অনেক ঘাটের জল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপে তিনি কারামুক্ত হন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা এখন মানুষের মুখে মুখে। এর রেশ না কাটতেই আরেক জাহালম-কাণ্ড বেরিয়ে এসেছে।

পল্লবীর বেনারসি কারিগর মো. আরমান নির্দোষ হয়েও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গত ৩ বছর ধরে কারাভোগ করছেন। রাজধানীর পল্লবী থানার একটি মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাদক কারবারি শাহাবুদ্দিন বিহারি এ মামলার প্রকৃত আসামি। কিন্তু তার পরিচয়ে, তার পরিবর্তে সাজাভোগ করছেন আরমান।

শুধু পিতার নামে মিল থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে শাহাবুদ্দিন নামে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। অন্যদিকে প্রকৃত আসামি শাহাবুদ্দিন কারাগারের বাইরে দিব্যি মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ঘটনায় প্রশ্ন জেগেছে, এটি কি পুলিশের ভুল, নাকি সচেতন অপরাধ? উৎকোচের বিনিময়েই কি প্রকৃত মাদক কারবারিকে রক্ষার অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে? যদি তা-ই হয়, তবে এ ঘটনায় কে কে দায়ী? তাদের আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব কি? একদিকে যখন এসব প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে তখন নির্দোষ কারাবন্দী আরমানের দরিদ্র মা, স্ত্রী আর সন্তানের যাপিত জীবন হয়ে পড়েছে মানবেতর।

পুলিশের ভুলে অথবা গোপন কারসাজিতে মৃত ইয়াছিন ওরফে মহিউদ্দিনের ছেলে শাহাবুদ্দিনের পরিবর্তে দীর্ঘ ৩ বছর ধরে কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মো. আরমান (৩৬)। শুধু পিতার নামে (মৃত ইয়াছিন) মিল থাকায় শাহাবুদ্দিনের বদলে পল্লবীর ১৩ হাটস, ব্লক-এ, সেকশন-১০ তেজগাঁও নন লোকাল রিলিফ ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃগী রোগী আরমানকে বিনা অপরাধে সাজা ভোগ করতে হচ্ছে।

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...