নোলক ছবির একটি দৃশ্যে শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

‘জটিলতা’ কাটিয়ে ছাড়পত্র পেল ‘নোলক’

‘নোলক’ ছবি নিয়ে যে জটিলতা, তা চলচ্চিত্রের দুটি সমিতি (চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক) চেষ্টা করেও কোনো সমাধানে যেতে পারেনি। তারমধ্যেই এলো ছাড়পত্রের খবর।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৩৮ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৪০
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৩৮ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৪০


নোলক ছবির একটি দৃশ্যে শাকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) অবশেষে ‘জটিলতা’ কাটিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে ‘আনকাট’ ছাড়পত্র পেয়েছে সময়ের জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান অভিনীত ‘নোলক’ ছবিটি। এর আগে ২২ এপ্রিল বিকেলে ছবিটির সেন্সর শো অনুষ্ঠিত হয়।

২৩ এপ্রিল, মঙ্গলবার দুপুরে প্রিয়.কমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ‘নোলক’ ছবির প্রযোজক কাম নির্মাতা সাকিব ইরতিজা চৌধুরী সনেট।

তিনি বলেন, ‘ছবিটির বিরুদ্ধে সেন্সর বোর্ডে যে সব অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে কথা বলার জন্য আমাকে সেন্সর বোর্ডের মাননীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডেকেছিলেন। আমি গিয়েছি, তার সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি কথা বলেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার কাছে যে সব প্রমাণ ও যুক্তি ছিল, আমি তার সামনে উপস্থাপন করেছি। তারপরই ছবিটি সেন্সর শো-এর জন্য অনুমতি পায়।’

ছবিটির কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন ফেরারি ফরহাদ। ছবিটি প্রযোজনা করেছে বি হ্যাপি এন্টারটেইনমেন্ট। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে ‘নোলক’ ছবির শুটিং শুরু হয়। টানা ২৮ দিন শুটিং শেষে ইউনিট নিয়ে দেশে ফেরার পর ছবির পরিচালক রাশেদ রাহা’র সঙ্গে প্রযোজক সনেটের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ কারণেই ছবির নির্মাণকাজ কয়েকবার পিছিয়ে যায়। পরে রাশেদ রাহাকে সরিয়ে দিয়ে পরিচালকের ভূমিকায় আসেন প্রযোজক নিজেই। এ নিয়ে জটিলতা আরও প্রকট হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২২ জুলাই ফের কলকাতায় ছবির শুটিং শুরু হয়।

ছবিটি মুক্তির বিষয়ে সনেট বলেন, ‘আমার তো ইচ্ছে রয়েছে, এই ঈদেই ছবিটি মুক্তি দিবো। তারপরও আমার যে সিনেমার টিম রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত দিবো। কারণ ছবিটি তো বিগ বাজেটের। তার থেকেও বড় কথা হলো আমার যে কনটেন্ট, এটা ঈদের। কাজটি করতে গিয়ে বহু জটিলতার সম্মুখীন আমি হয়েছি।’

‘ফাইনালি ছবিটি তো আমি দেখেছি, আমার বিশ্বাস গত কয়েক বছরে শাকিব ভাইয়ের ক্যারিয়ারে উল্লেখ করার মতো এটি একটি ছবি হবে।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল মালেকের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। মেসেজ পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এরপর কথা হয় প্রযোজক সমিতির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম খসরুর সঙ্গে, যিনি বর্তমানে সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল ছবিটির সেন্সর শো হয়েছে, ছাড়পত্র পেয়েছে। ছবিটির নির্মাতা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব, সেটা সেন্সর বোর্ডের দেখার বিষয় না। এগুলো দেখার বিষয় ছিল বাইরে। সে বিষয়ে কি সমাধান হয়েছে, আমি তা জানি না। আর সেন্সর ছাড়পত্রের যে সার্টিফিকেট, সেটা দু-এক দিনের মধ্যেই প্রযোজককে দেওয়া হবে।’

বোর্ডের এ সদস্য বলেন, ‘সেন্সর শো-এর জন্য প্রযোজক সেন্সর বোর্ডের নির্ধারিত একটি ফর্মে আবেদন করেন। সেখানে প্রযোজক, পরিচালক, গীতিকারসহ আরও অনেক বিভাগ আছে, সেগুলা পূরণ করে দেন। সব তথ্য ঠিক আছে কি না, তা যাচাই-বাচাই করা হয়। সব তথ্য ঠিক থাকলেই সেন্সর শো-এর জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর বাইরে সেন্সর বোর্ডের আর কিছুই দেখার নাই।’

চলচ্চিত্রটি নিয়ে এত জটিলতার পর ছাড়পত্রের মধ্য দিয়ে বিষয়গুলোর সমাধান হয়েছে বলে মনে করেন সাকিব ইরতিজা চৌধুরী সনেট।

তার ভাষ্য, ‘আমি মনে করি বাংলা চলচ্চিত্রের এই দুঃসময়ে চলচ্চিত্রের স্বার্থে যারা যারা ছবিটি নিয়ে একের পর এক মিথ্যাচার করেছিলেন, তাদের এখন ছবিটির পাশে দাঁড়ানো উচিত। কারণ এখনকার দর্শক যে ধরনের ছবি দেখতে চান, নোলক ঠিক তেমনই একটি ছবি।’

‘নোলক’ ছবি নিয়ে যে জটিলতা, তা চলচ্চিত্রের দুটি সমিতি (চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক) চেষ্টা করেও কোনো সমাধানে যেতে পারেনি। তারমধ্যেই এলো ছাড়পত্রের খবর।

এর আগে ২ এপ্রিল সনেট বলেছিলেন, ‘আমার ছবিটির মুক্তি আটকে দেওয়ার জন্য অনেক ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা প্রতিটা পদে পদেই। আমাকে এখন পর্যন্ত যতগুলো পদে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, সব জায়গা থেকেই আমি ছবিটির ছাড়পত্র নিয়ে এসেছি। আমার যে ক্ষতিটা হয়েছে, আমার ছবিটি মুক্তির তারিখ বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি চাই না, এখন আর কোনো বাধা আসুক।’

‘নোলক’ ছবির প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও ববি হক। এ ছাড়াও অভিনয় করেছেন মৌসুমী, ওমর সানী, তারিক আনাম খান, ভারতের রজতাভ দত্ত, সুপ্রিয় দত্তসহ অনেকেই।

প্রিয় বিনোদন/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...