চলে গেলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

চলে গেলেন সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ

সব প্রক্রিয়া শেষে রবিবার বা সোমবার মাহফুজউল্লাহর মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন মরহুমের বড় মেয়ে মুসাররাত হুমায়রা অঙ্গনা।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৪৫ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৫৫
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৪৫ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৫৫


চলে গেলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজউল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) থাইল্যান্ডের ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজউল্লাহ (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

২৭ এপ্রিল, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা) সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানান বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

মরহুমের স্ত্রী দিনারজাদী বেগম, ছোট মেয়ে ডা. নুসরাত হুমায়রা, ছোট মেয়ের জামাতা মিনহাজুল হক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।

সব প্রক্রিয়া শেষে রবিবার বা সোমবার মাহফুজউল্লাহর মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন মরহুমের বড় মেয়ে মুসাররাত হুমায়রা অঙ্গনা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

গত ২ এপ্রিল সকালে ধানমন্ডির গ্রিন রোডে মাহফুজউল্লাহ তার নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখা‌নে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। পরে শারী‌রিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মাহফুজউল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে।

১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া মাহফুজউল্লাহ বাংলাদেশের প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনের একজন নেতৃস্থানীয় কর্মী। ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। ছাত্রাবস্থায়ই সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন তিনি।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ দেশের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন সিনিয়র এই সাংবাদিক।

সেন্টার ফর সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল মাহফুজউল্লাহ বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার সূচনা করেন। রাজনীতি উন্নয়ন ও পরিবেশ বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা তার বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর করজারভেশন অব নেচারের একজন নির্বাচিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত হন।

মাহফুজউল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করেন। তার বাবা শিক্ষাবিদ মরহুম হাবিবুল্লাহ ও মাতা মরহুমা ফয়জুননিসা বেগম। তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কমরেড মোজাফফর আহমদের নাতি সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল/আশরাফ