ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। ফাইল ছবি

‘বিপদ কেটে গেছে, ঘরে ফিরতে পারবেন দুর্গতরা’

আমরা যতটুকু ক্ষয়ক্ষতির খবর শুনেছি, একটু আগে আমাদের সচিব মহাদয় বলেছেন, চার জন নিহত হয়েছে।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০১৯, ১৫:৫১ আপডেট: ০৪ মে ২০১৯, ১৫:৫১
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০১৯, ১৫:৫১ আপডেট: ০৪ মে ২০১৯, ১৫:৫১


ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় সমুদ্র বন্দরগুলোতে বিপদ সংকেত নামিয়ে নিতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। একই সঙ্গে বিপদ কেটে যাওয়ায় ঝড়ের আগে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে যারা উঠেছিলেন, ৪ মে শনিবার বিকেল ৪টার পর থেকে তারাও ঘরে ফিরতে পারবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান জানান, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা ১৬ লাখের বেশি মানুষ বিকেল নাগাদ তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন।

এর আগে শনিবার সকাল ৬টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ফণী দুর্বল হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। দুপুরে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এটি বৃষ্টি ঝরিয়ে আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলে জানানো হয়।

এ কারণে মোংলা, পায়রা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরগুলোর বিপদ সংকেত নামিয়ে শনিবার দুপুর থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে ঝড়ের কারণে বায়ুচাপের তারতম্য এবং অমাবস্যা সমাগত বলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ২-৪ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এ ছাড়া সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এনামুর রহমান বলেন, ‘আমরা যতটুকু ক্ষয়ক্ষতির খবর শুনেছি, একটু আগে আমাদের সচিব মহাদয় বলেছেন, চার জন নিহত হয়েছে। দুই জন হলো ঘর ধসে পড়ে আর দুই জন হলো গাছ চাপা পড়ে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যেভাবে আমাদের প্রস্তুতি ছিল সেভাবে আমরা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে তাদেরকে নিয়ে যেতে পেরেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা ১৬ লাখ ৪০ হাজার লোককে সরিয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম একটি লোকও মারা যাবে না। কিন্তু যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে, তারা আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি। তারা ঘরে ছিল। ঘরে থেকে তারা মৃত্যুবরণ করেছে। সেই জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।’

পরবর্তী সময়ে একটি লোকও যেন উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে না থাকে, সেটি লক্ষ রাখা হবে বলেও জানান দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুর রহমান।

প্রত্যেকটি আশ্রয়কেন্দ্রে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি, নগদ টাকা এবং চাল, চিকিৎসা…পৌঁছে দিয়েছিলাম। আমরা মোট প্রত্যেকটা জেলা প্রশাসকের কাছে দুইশো মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ নগদ টাকা এবং দুই হাজার প্যাকেট করে শুকনো খাবার, ৩০টি ট্রাক মাউন্টেন ওয়াটার পিউরিফেকশন প্লান্ট আমরা সেখানে দিয়েছিলাম।’

এনামুর রহমান আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমাদের চার হাজার ৭১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র আছে। এই চার হাজার ৭১টিকেই আমরা প্রস্তুত করেছিলাম। সেখানে ১৯টি জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা কথা বলেছি এবং তারা জানিয়েছেন সবগুলো প্রস্তত আছে। সেখানে আলোর ব্যবস্থার জন্য সোলার সিস্টেম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সেইগুলো কার্যকর ছিল। দুই-একটি জায়গায় সোলার ব্যবস্থা ছিল না, সেখানে আমরা হেজাক বাতির ব্যবস্থা করেছি আমাদের জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে।’ ‍

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী