জাতীয় পার্টির লোগোটি সংগৃহীত

জাপায় গণপদোন্নতি নিয়ে ক্ষোভ, একজনের পদত্যাগ

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ ছাড়লেও দল থেকে পদত্যাগ করেননি লিয়াকত হোসেন খোকা। ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো এমপি যে দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ হারাবেন।

আজাদ চৌধুরী
জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০১৯, ২২:২৬ আপডেট: ০৯ মে ২০১৯, ২২:২৬
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০১৯, ২২:২৬ আপডেট: ০৯ মে ২০১৯, ২২:২৬


জাতীয় পার্টির লোগোটি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় পার্টিতে (জাপা) বিরাজ করছে ক্ষোভ আর হতাশা। সেই হতাশা আর ক্ষোভ আবার দেখা গেল নতুন করে আট জনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করায়। অন্যদিকে গণপদোন্নতিতেও প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে না পেরে ক্ষোভে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ ত্যাগ করেছেন লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি।

৯ মে, বৃহস্পতিবার জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ পদোন্নতি দেন।

বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে সৈয়দ দিদার বখত, কাজী মামুনুর রশিদ, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, নাজমা আখতার এমপি, আবদুস সাত্তার মিয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি ও এমরান হোসেন মিয়াকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করেন এরশাদ। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর ছয় জনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করেছিলেন জাপা চেয়ারম্যান। এই আট জন নিয়ে দলটিতে প্রেসিডিয়াম সদস্যের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫।

এদিকে গণপদোন্নতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। তিনি পদত্যাগের সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দল যেভাবে চলার কথা সেভাবে চলছে না। এ কারণে পদত্যাগ করেছি। অযোগ্যদের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে, যাদের দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা নেতৃত্বে চান না।’ এরশাদের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তার দাবি।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ ছাড়লেও দল থেকে পদত্যাগ করেননি লিয়াকত হোসেন খোকা। ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো এমপি যে দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ হারাবেন।

এ বিষয়ে লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ ছাড়লেও আমি এখনো জাপার কর্মী। দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এরশাদের সঙ্গে আছি। ভবিষ্যতেও থাকব। এরশাদ আমার নেতা। এরশাদের কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব।’

এর আগে গত শনিবার মধ্যরাতে বারিধারার বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে তাদের সামনে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন এরশাদ। তখন বলেছিলেন, তার অসুস্থতার কারণে দলের দৈনন্দিন কাজের ক্ষতি হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের তার অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া না পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের জানিয়েছিলেন, জাপায় দীর্ঘদিন ধরে চলা কথায় কথায় পদোন্নতি ও বহিষ্কারের রীতি বন্ধ করবেন। দলে যোগ দিয়েই আর কেউ প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে পারবেন না। দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে চান তিনি। তার এ ঘোষণার চার দিনের মাথায় গণপদোন্নতির ঘটনা ঘটল জাপায়।

দলটির সূত্রে জানা গেছে, জিএম কাদেরের সম্মতিতেই একসঙ্গে আট জনকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। যাদের অনেকেই ছিলেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতা। এক লাফে তারা এখন প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়ে গেছেন।

গত ২১ মার্চ জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতি দেন এরশাদ। পরের দিন তাকে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে রওশন এরশাদকে এ পদে বসান এরশাদ। গত ৪ এপ্রিল রংপুরের নেতাদের চাপে কো-চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান জিএম কাদের। তবে উপনেতার পদে এখনো রওশনই রয়েছেন।

জাপা সূত্রের খবর, জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় ক্ষুব্ধ রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা। তাদের মোকাবিলায় দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের অনুসারীদের নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন জিএম কাদের। তারই অংশ হিসেবে প্রেসিডিয়ামে আট জন নতুন সদস্য যোগ করা হয়েছে।

সূত্র: সমকাল

প্রিয় সংবাদ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...