বাজারের দুধ ও দই যাতে মেশানো হয় শিসাসহ রাসায়নিক দ্রব্য। ছবি সংগৃহীত

‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না’

কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দইয়ে ভেজাল বা রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়া গেছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের নাম-ঠিকানা দাখিলের জন্য বুধবার দিন ধার্য ছিল।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ মে ২০১৯, ১৪:৫৮ আপডেট: ১৫ মে ২০১৯, ১৪:৫৮
প্রকাশিত: ১৫ মে ২০১৯, ১৪:৫৮ আপডেট: ১৫ মে ২০১৯, ১৪:৫৮


বাজারের দুধ ও দই যাতে মেশানো হয় শিসাসহ রাসায়নিক দ্রব্য। ছবি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) খাদ্যে ভেজাল মেশায় যারা তাদের সতর্ক করে হাইকোর্ট বলেছে, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। নিরাপদ খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৫ মে, বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

আদালত ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা স্মরণ করিয়ে বলে, স্বাস্থ্য ঠিক না হলে জাতি গঠন হবে কীভাবে, ভবিষতের কথা চিন্তা করুন।

কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দইয়ে ভেজাল বা রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়া গেছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের নাম-ঠিকানা দাখিলের জন্য বুধবার দিন ধার্য ছিল। তবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আদালতে তালিকা দাখিল না করে সময় চেয়ে আবেদন করে। তাদেরকে ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বাজার থেকে সংগৃহীত কাচা তরল দুধের ৯৬ নমুনার মধ্যে ৯৩ টিতেই সিসা, অ্যান্টিবায়েটিক অণুজীব পাওয়া গেছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে কোন কোন কোম্পানি দুধে এই ভেজাল বা রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর সঙ্গে জড়িত তাদের পরিচয় জানাতে নির্দেশ দেয় আদালত।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গাভির দুধ ও দইয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক, সিসা!' শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাভির দুধে (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে বিভিন্ন অণুজীবও। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত গাভীর দুধেও অ্যান্টিবায়োটিক ও সীসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত। বাদ পড়েনি দইও। দুগ্ধজাত এ পণ্যেও মিলেছে সিসা।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) গবেষণায় এসব ফলাফল উঠে এসেছে। সংস্থাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গাভীর খাবার, দুধ, দই ও প্যাকেটজাত দুধ নিয়ে এ জরিপের কাজ করেছে। ওই প্রতিবেদন নজরে আসার পর ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট স্বতপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন।

আদেশে গাভীর দুধ (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) ও বাজারের প্যাকেটজাত দুধ, দই এবং গো খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তাতে কি পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, সিসা, রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর তা নিরূপণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। 

প্রিয় সংবাদ/রুহুল