হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত

দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি নিয়ে বিতর্ক: ২০ নয় ২৩ বল লেগেছে মোসাদ্দেকের!

অর্থাৎ মোসাদ্দেক বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির মালিক।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৮ মে ২০১৯, ১৪:২৭ আপডেট: ১৮ মে ২০১৯, ১৫:৩০
প্রকাশিত: ১৮ মে ২০১৯, ১৪:২৭ আপডেট: ১৮ মে ২০১৯, ১৫:৩০


হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে আহামরি কোনো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। তবে সাকিব আল হাসানের ইনজুরিতে ফাইনালে উইন্ডিজের বিপক্ষেও তার ওপর আস্থা রাখে টিম ম্যানেজম্যান্ট। দলের সেই আস্থার প্রতিদান ব্যাট হাতে দিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত

ব্যাটিং করতে ডানহাতি এই অলরাউন্ডার যখন ক্রিজে যান, তখনও বাংলাদেশের জিততে ৫০ বলে ৬৭ রানের প্রয়োজন। দলের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সপ্তম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মোসাদ্দেক। শুরু থেকেই অ্যালেন-গ্যাব্রিয়েল-রোচদের ওপর চড়াও হয়ে রানের ফুলঝুড়ি ছোটান মোসাদ্দেক।

দুজনে মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৭০ রানের জুটি। এই জুটি গড়ার পথে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পান ২৩ বছর বয়সী মোসাদ্দেক। এই হাফ সেঞ্চুরি নিয়েই ঘটেছে বিপত্তি!

ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো বলছে, মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়েছে ২০ বলে আর ম্যাচ শেষে তিনি অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ৫২ রানে। এমনকি তারা একটা গ্রাফিক্সের মাধ্যমেও দেখিয়েছে তা। ওই গ্রাফিক্সে মোসাদ্দেকের স্কোর দেখানো হয়েছে এভাবে - ১১০৪১০৬১১১১১৬১১৬৬৪৬২।

অর্থাৎ ২০ বলের মাঝে মোসাদ্দেক মোট দুটি ডট বল খেলেছেন। সিঙ্গেল নিয়েছেন ১০টি। ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৫টি এবং চার মেরেছেন দুটি। আর ২০তম বলে ডাবল নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজও তাদের স্কোরকার্ডে দেখাচ্ছে মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়েছে ২০ বলেই।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সেই গ্রাফিক্স।

এর মধ্যে প্রথম দুই বলে দুটি সিঙ্গেল নেওয়ার পর একটা ডট খেলেছেন মোসাদ্দেক। চতুর্থ বলটি সীমানা ছাড়া করেছেন। এটা ছিল ইনিংসের ১৭তম ওভারে। পরের ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহ সিঙ্গেল নিলে স্ট্রাইকে যান মোসাদ্দেক। এই ওভারে টানা তিনটি বল ডট দেন তিনি। যদিও ওই গ্রাফিক্সে দেখানো হচ্ছে একটি সিঙ্গেল ও একটি ডট দিয়েছেন তিনি।

এই ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নেন মোসাদ্দেক। যদিও গ্রাফিক্স বলছে, ওই বলে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। টিভি পর্দায় দেখা যাচ্ছে এই ওভার শেষে মোসাদ্দেক ৮ বলে ৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ফলে মোসাদ্দেকের প্রথম ৮ বলের গ্রাফিক্স হবে এরকম ১১০৪০০০১। কিন্তু ক্রিকইনফো বলছে ১১০৪১০৬১!

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার, ক্রিকইনফোসহ ক্রিকেট বিষয়ক সব ওয়েবসাইটের বল বাই বল আপডেটে লেখা, ১৮ তম ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহ সিঙ্গেল নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে মোসাদ্দেক সিঙ্গেল নিয়েছেন এবং পরের তিন বল মাহমুদউল্লাহ ডট দিয়েছেন।

ইএসপিএনের বল বাই বল আপডেট।

অথচ টিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ১৮তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। দ্বিতীয়-তৃতীয়-চতুর্থ বল ডট দেওয়ার পর পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়েছেন মোসাদ্দেক। ষষ্ঠ বলে আবার সিঙ্গেল নেন মাহমুদউল্লাহ। ১৮তম ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৫৫। মোসাদ্দেক ৮ বলে ৭ ও মাহমুদউল্লাহ ৮ বলে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু ইএসপিএন ১৮তম ওভার শেষে স্কোরকার্ডে দেখাচ্ছে মোসাদ্দেক ৫ বলে ৭ ও মাহমুদউল্লাহ ১১ বলে ৬ রান করেছেন। অর্থাৎ মোসাদ্দেকের খেলা তিন বল মাহমুদউল্লাহর নামে যোগ হয়েছে।

ভিডিওতে দেখুন, ম্যাচের হাইলাইটস-

১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আবারও স্ট্রাইক পান মোসাদ্দেক। ওই বলটি ডট দেন তিনি। তৃতীয় বলেই ছক্কা হাঁকান তিনি। পরের বলে সিঙ্গেল নেন।

ইএসপিএনের গ্রাফিক্স অনুযায়ী প্রথম চার বল ঠিক। এরপর তিনটি বল ডট যা ইএসপিএনের গ্রাফিক্স ও স্কোরকার্ডে নেই। পরের অংশটুকু আবার ঠিক আছে।

অর্থাৎ বল বাই বল বিশ্লেষণ করলে মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরি দাঁড়াবে - ১১০৪০০০১০৬১১১১১৬১১৬৬৪৬২। সেক্ষেত্রে মোসাদ্দেকের হাফ সেঞ্চুরি হয়েছে ২৩ বলে।

মোসাদ্দেক বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে তৃতীয় দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির মালিক। ২০০৫ সালে নটিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা আশরাফুলের ২১ বলে হাফ সেঞ্চুরিটি বাংলাদেশের ওয়ানডেতে দ্রুততম। দ্বিতীয় রেকর্ডটির মালিক আব্দুর রাজ্জাক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনিও ২১ বলে পূর্ণ করেন হাফ সেঞ্চুরি। 

প্রিয় খেলা/রুহুল