ক্যাডারভুক্ত না করলে আন্দোলন চলবে বলে মানববন্ধন থেকে জানানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

ক্যাডারভুক্তির দাবিতে নন-ক্যাডার চিকিৎসকদের মানববন্ধন

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হাজারো নন-ক্যাডার চিকিৎসকের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮ মে ২০১৯, ২১:০১ আপডেট: ১৮ মে ২০১৯, ২১:০১
প্রকাশিত: ১৮ মে ২০১৯, ২১:০১ আপডেট: ১৮ মে ২০১৯, ২১:০১


ক্যাডারভুক্ত না করলে আন্দোলন চলবে বলে মানববন্ধন থেকে জানানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ক্যাডারভুক্তির দাবিতে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডাররা চিকিৎসকদের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

১৭ মে, শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে হাজারো নন-ক্যাডার চিকিৎসকের উপস্থিতিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। গত ৩০ এপ্রিল এই বিসিএসের ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ পান। এর পরই ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার আট হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক ক্যাডারভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করছেন।

মানববন্ধনে নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা জানান, দেশে চিকিৎসকের সংকট আছে। তারা ক্যাডারভুক্ত হতে পারেননি। চিকিৎসক-সংকট নিরসনে ক্যাডারভুক্তির দাবি করেন তারা। ক্যাডারভুক্ত না করা হলে আন্দোলন চলবে বলে মানববন্ধন থেকে ঘোষণা করা হয়।

‘সবাই শোনে ডাক্তার নেই, আমরা শুনি পদ নেই’, ‘পিতা দিয়েছেন প্রথম শ্রেণির সম্মান, কন্যা দেবেন ক্যাডার সম্মান’, ‘আমরা যোগ্য চিকিৎসক, ক্যাডারভুক্তি করতে হবে’—আন্দোলনকারীরা এমন স্লোগানে ফেস্টুন-ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

মানববন্ধনে নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা অভিযোগ করে বলেন, দেশে চিকিৎসকের সংকট থাকলেও তারা যোগ্য হওয়ার পরও ক্যাডারভুক্তি করা হয়নি। পদ সৃজন না করায় লিখিত-মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্যতার পরিচয় দিলেও তাদের নন-ক্যাডার করা হয়েছে। তারা তা মেনে নেবেন না, তাদের ক্যাডারভুক্তি করে দেশের যেকোনো স্থানে নিয়োগ দিলে সেখানে গিয়ে তারা চিকিৎসা সেবা দেবেন। ক্যাডারভুক্তি না করা হলে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তারা জানান, ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সারা দেশে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়। সে নির্দেশনা মোতাবেক বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগ দিতে ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার আয়োজন করে। এ পরীক্ষায় আমরা ৩৮ হাজার চিকিৎসক অংশগ্রহণ করে আট হাজার ৩৬০ জন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জন করলেও শূন্যপদের সংখ্যা কম হওয়ায় উত্তীর্ণ মাত্র চার হাজার ৫০০ জনকে ক্যাডার করে বাকিদের নন-ক্যাডার করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, দেশে ১০৫টি মেডিকেল কলেজে ২৫ হাজার ৩০০ জন শিক্ষক প্রয়োজন থাকলেও সেখানে মাত্র ৯ হাজার ৫০৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। ৬৩ শতাংশ শিক্ষক সংকট রেখেই মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা চলছে। যোগ্যদের ক্যাডারভুক্তি করলেও এসব কলেজে শিক্ষক সংকট নিরসন করা সম্ভব হবে।

পিএসসি সূত্র জানায়, ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে থেকে যাতে আরও ২২৫০ চিকিৎসক নেওয়া হয়, সে জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায়। এর অনুলিপি পিএসসিকে দেওয়া হয়। এ বছরের ১৫ এপ্রিল এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সময় দেয় পিএসসি। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো জবাব পিএসসিতে আসেনি। এ কারণে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে দেরি হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয় এই বিসিএস থেকে আরও দুই হাজার চিকিৎসকসহ মোট ছয় হাজার ৫৪২ জন চিকিৎসক নিয়োগ করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলে, উপজেলা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর পর্যন্ত প্রতিটি হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে এক হাজার চিকিৎসক অবসরে যাবেন। ৩৯তম বিসিএস থেকে যে ৪৫৪২ সহকারী সার্জন ও ২৫০ সহকারী ডেন্টাল সার্জন নেওয়া হচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়। সব বিষয় বিবেচনা করে ৩৯তম বিশেষ বিসিএস থেকে আরও দুই হাজার চিকিৎসক নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

৩৯তম বিশেষ বিসিএস আয়োজন করা হয় চিকিৎসকদের জন্য। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এরপর গত ৭ মার্চ এই বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...