মাহিয়া মাহি। ছবি: শামছুল হক রিপন

প্রয়োজনে সিনেমা করব না, করলে ভালো প্রজেক্টে: মাহি

গত দুই বছর ঢালিউডে মাহির অবস্থান মোটেই সুখকর ছিল না। তাই এখন পুরনো সেই অবস্থান ফিরে পেতে একেবারে ছক কষে পথ চলছেন তিনি।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ মে ২০১৯, ১৯:২৮ আপডেট: ১৯ মে ২০১৯, ২০:০৪
প্রকাশিত: ১৯ মে ২০১৯, ১৯:২৮ আপডেট: ১৯ মে ২০১৯, ২০:০৪


মাহিয়া মাহি। ছবি: শামছুল হক রিপন

(প্রিয়.কম) চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ার যখন ঠিক মধ্য গগনে তখনই মাহিয়া মাহির ক্যারিয়ারে ঘটেছে ছন্দপতন। অল্প সময়েই প্রযোজকদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ তার সে আস্থার জায়গায় সংকট তৈরি হয়। গত দুই বছর ঢালিউডে তার অবস্থান মোটেই সুখকর ছিল না। তাই এখন পুরনো সেই অবস্থান ফিরে পেতে একেবারে ছক কষে পথ চলছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা, ভুল শুধরে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া, বর্তমান ব্যস্ততাসহ বেশকিছু বিষয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এ নায়িকা কথা বলেছেন প্রিয়.কমের সঙ্গে।

চলতি বছর নতুন কোনো ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হননি মাহিয়া মাহি। তবে কথাবার্তা চলছে। খুব তাড়াতাড়ি দারুণ খবর দিবেন বলে জানান তিনি।

মাহি চান নির্মাতার দিক থেকেই সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা আসুক। আর ঈদের আগে ‘আমার মা আমার বেহেস্ত’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’ ছবির শুটিং করার কথা রয়েছে।

নিজেকে খুঁজে পাওয়ার মিশনে রয়েছেন মাহি।

গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির বাণিজ্যিক দুর্দশা চললেও আপনার সহ-শিল্পী যে নায়িকারা রয়েছেন, তারা অল্প কিছু হলেও মানসম্মত কাজ করছেন। সে তুলনায় আপনার ঝুলিতে তেমন কোনো কাজ কম কেন? 

মাহির কাছে এমন প্রশ্ন ছুড়তেই জবাব এলো সঙ্গে সঙ্গেই, ‘আমার বিয়ের আগে কিংবা পরের সময়টা মিলিয়ে চলচ্চিত্রের সঙ্গে দেড়-দুই বছরের একটা গ্যাপ ছিল। কোনো কাজ করিনি। এরপর যখন কাজ শুরু করলাম, তখন আমার কাছে অনেক সিনেমার প্রস্তাব এসেছে। এরমধ্যে “ঢাকা অ্যাটাক” ও “কৃষ্ণপক্ষ”-এর মতো সিনেমাও ছিল। তা ছাড়াও বেশ কিছু বাজে প্রজেক্ট ছিল, সেগুলোও করেছি। তখন মনে হয়েছে, আমার কাজের ভেতর থাকা উচিত। কিন্তু সব ধরনের কাজ করার সিদ্ধান্তটাই ভুল ছিল, যা ক্যারিয়ারে বাজে প্রভাব ফেলেছে।’

এ বিষয়ে কথা বলার সময় মাহি ব্যাখ্যা দিলেন ঠিক তার অবস্থান তুলে ধরে। তিনি বলেন, ‘আমি তো অনেকগুলো ভালো ভালো ছবি দর্শকদের উপহার দেওয়া একজন হিরোইন। আমার কাছ থেকে দর্শক বাজে সিনেমা প্রত্যাশা করে না। যদি এরকম করতে থাকি একটা সময় আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে।’

‘সেই জায়গা থেকে ২০১৯ সালে শুরুতে প্রতিজ্ঞা করেছি দরকার হলে সিনেমা করব না। কিন্তু একটাও করি, সেটা আমি ভালো প্রজেক্ট করব। যেটা দেখে দর্শকদের অনেক ভালো লাগবে।’

জীবন থেকে খামখেয়ালিপনা ঝেড়ে ফেলে দিতে চান মাহি।

বিয়ে পরবর্তী সময়ে এই যে ক্যারিয়ারের ‘দিক হারানো’ এবং আবার এখন ফিরে আসার চেষ্টা, তা কতটুকু সম্ভব? জবাবে মাহি বলেন, ‘দিক হারিয়ে ফেলার বিষয় না, মানুষের ক্যারিয়ারে আপ অ্যান্ড ডাউন থাকে। আমি বলব শেষ দুই বছর আমার ক্যারিয়ারের বাজে সময় গেছে। কারণ আমি কোনো চিন্তা-ভাবনা করে সিনেমা করি নাই। আমার ক্যারিয়ারের এ অবস্থার জন্য আমি দায়ী।’

‘আমি যদি ওই মানহীন সিনেমাগুলো না করতাম, তাহলে কেউ আমাকে জোর করে ওই সিনেমাগুলো করাতে পারত না। আমি চিন্তাভাবনা করে কাজ করি নাই। আমি খামখেয়ালি হয়ে গিয়েছিলাম। আমার সচেতন হয়ে কাজ করা উচিত।’

২০১৮ সালের শেষে তার কাছে মনে হয়েছে জীবনের সবকিছু নিয়ে খামখেয়ালি করতে নেই। আজকে তার যে পজিশন, সে বিষয়ে তিনি মনে করেন, এটা সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন।

এ নিয়ে মাহির ভাষ্য, ‘আমি এটা ডিজার্ভ করি না। আমি এটা পাওয়ার জন্য কখনো পরিশ্রম করি নাই। এটাকে পরিচর্চা করা আমার দায়িত্ব। মানুষ যখন ছোট থাকে তখন তার বুদ্ধি কম থাকে। যখন বড় হয় তখন তার বুদ্ধি বাড়ে। আমার ক্যারিয়ারে প্রথম দিকে বুদ্ধি ছিল না। মাঝখানে আরও ছিল না। এখন বোধ-বুদ্ধির জায়গাটা গাঢ় হয়েছে।’

ক্যারিয়ারটাকে পরিচর্চা করার বোধটা সম্প্রতি তারমধ্যে গাঢ় হয়েছে।

সম্প্রতি ফের গুঞ্জন রটেছে সংসার ভাঙার বিষয়ে। বিচ্ছেদও ঘটতে যাচ্ছে, এমনটাও চাউর হয়ে উঠেছে শোবিজ জগতে। জানতে চাইলে মাহি বলেন, ‘কেন এমন গুঞ্জন রটে, আমি জানি না। আমি খুবই ইমোশনাল। ফেসবুকে আমি এত এত স্ট্যটাস দিই, আমার স্ট্যটাস দেখে অপু প্রায়শই বলে, “তোমার স্ট্যটাস দেখে বোঝা যায়, কখন তোমার সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছে, কখন ঠিক হচ্ছে।” আমি পারলে দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৬ বার অপুকে ডিভোর্স দিয়ে দিই। কারণ ও রোমান্টিক না।’

‘আমি কোনো হিরোর সঙ্গে কাজ করলে ও কোনো ঈর্ষা করে না। এটাই আমার দুঃখ। ঝগড়া লাগলে দেখা যায়, আমি একাই ঝগড়া করি। ও চুপচাপ থাকে। এটা আরও বেশি বিরক্তিকর। এতো শান্ত বৈশিষ্টের ছেলে আমার ভালো লাগে না।’

তবে গসিপ ভালো লাগে মাহির। কারণ তিনি বাস্তবতা মেনে চলেন। আর তারকা জীবনে যদি গসিপ না থাকে সেটা অর্ধেকই মিছে বলে মনে করেন মাহি।

তিনি বলেন, ‘মানুষ ছড়াক না গসিপ, কথা বলুক না। আমি তো জানি আসল ঘটনা কি। এ নিয়ে অপু, আমি কিংবা আমাদের পরিবারের কেউ চিন্তিত না। আশেপাশের কে কি বলল, তাতে কিছু যায় আসে না। শুধু এটুকু বলব, অপুর সঙ্গে আমার কখনো ডিভোর্স হবে না, এটা নিশ্চিত।’

জীবনটাকে সবুজের রঙেই রাঙিয়ে দিতে চান মাহি।

সবকিছু ঠিক থাকলে মাহি এবারের রোজার ঈদ উদযাপন করবেন দেশের বাইরে। কারণ হিসেবে বললেন, ‘আমার বান্ধবীরা সবাই এমবিএ করে ফেলেছে। শুধু আমিই করি নাই। তবে আমার গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট। আমার ইচ্ছে আমি দেশের বাইরে কোনো ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ করব। তার জন্য খোঁজ-খবর ও প্রস্তুতি নেওয়ার একটা বিষয় আছে। কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হবো, কীভাবে কী করব, এজন্য।’

‘কদিন আগে অপুকে বলেছি, সবসময় আমি সিলেটে ঈদ করি। এবার হয় ঢাকায়, না-হয় দেশের বাইরে ঈদ করব। এরপরই অপু বলল, লল্ডনে ওর এক কাজিনের বিয়ে আছে। আমরা সবাই মিলে বিয়েতে যাব। আর এর ফাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও খোঁজ-খবর নেবো।’

সম্প্রতি ভিসার জন্য আবেদন করেছেন মাহি। ভিসা পেলেই এই মাসের শেষ না হয় আগামী মাসের শুরুর দিকে ঢাকা ছাড়বেন তিনি ও অপু।

প্রিয় বিনোদন/রিমন