রেল সেবা অ্যাপে টিকেট কাটা যাচ্ছে না। টিকেট বিক্রির ওয়েবসাইটও ডাউন (বামে)। ছবি: স্ক্রিনশট

ট্রেনের টিকেট বিক্রির সার্ভার ডাউন, অ্যাপে দুর্ভোগ

রেলওয়ে টিকেট কাটতে দুর্ভোগ কমানোর জন্য ‘রেল সেবা’ নামে অ্যাপ চালু করলেও দুর্ভোগ বেড়েছে।

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৯, ১৪:০১ আপডেট: ২০ মে ২০১৯, ১৪:০৭
প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৯, ১৪:০১ আপডেট: ২০ মে ২০১৯, ১৪:০৭


রেল সেবা অ্যাপে টিকেট কাটা যাচ্ছে না। টিকেট বিক্রির ওয়েবসাইটও ডাউন (বামে)। ছবি: স্ক্রিনশট

(প্রিয়.কম) ঈদের ছুটি শুরুর বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। ঈদে বাড়ি ফিরতে যানবাহনের চাহিদা থাকে অন্যান্য সময়ের থেকে কয়েকগুণ বেশি। আর যানবাহনের টিকেট সংগ্রহ করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। সেই দুর্ভোগ কমাতে এখন অনলাইনে টিকেট কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বিধিবাম! সেখানেও দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বাড়ি যেতে ইচ্ছুকরা।

বাস-উড়োজাহাজের যাত্রীরা অনলাইনে টিকেট কিনতে পারলেও ভুগছেন ট্রেনের যাত্রীরা। ২২ মে ঈদের ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, আগেই ভুগতে হচ্ছে তাদের। অনলাইনে রেলওয়ের ঈদযাত্রার টিকেট তো দূর, সাধারণ সময়ের টিকেট কিনতে পারছেন না যাত্রীরা।

সকালে রেলওয়ের টিকেট কাটার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা গেলেও টিকেট কাটা যাচ্ছিল না। আর এ প্রতিবেদন লেখার সময় ওয়েবসাইট ডাউন ছিল। প্রতি বছর ঈদের আগে ও পরে এমন সমস্যা হলেও এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির কোনো বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আর ‘রেল সেবা’ নামের ট্রেনের টিকেট কাটার অ্যাপ থেকে টিকেট কাটতে গেলেই ‘সার্ভার আন্ডার মেইনটেনেন্স’ বার্তা দেখায়। ওয়েবসাইটেও একই অবস্থা।

১৯ মে, রবিবার রাত আটটার দিকে অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেনের টিকেট কাটার জন্য অ্যাপে প্রবেশ করেন তানজিল আহমেদ। প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টা করেও ক্রয় করতে পারেননি ২৮ মের ট্রেনের টিকেট।

২০ মে, সোমবার সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত চেষ্টা করে রেলওয়ের ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে একটি টিকেটও ক্রয় করতে পারেননি তিনি।

ভুক্তভোগীর তথ্য যাচাইয়ে গুগল-প্লে স্টোর থেকে রেল সেবা অ্যাপটি ডাউনলোড করে এই প্রতিবেদক। মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করা হয় রেলওয়ের অ্যাপটিতে। ট্রেনের টিকেট কেনার জন্য নির্দিষ্ট অপশনে গিয়ে চেষ্টা করা হয় বিমান বন্দর টু রংপুরের টিকেট। তবে বিপত্তি বাধে সিট নির্বাচনের সময়। এ সময় স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘সার্ভার আন্ডার মেইনটেনেন্স, প্লিজ ট্রাই লেটার’ অর্থাৎ বর্তমানে সার্ভারের কাজ চলছে, পরে চেষ্টা করুন।

এমন অভিযোগ নতুন নয়

‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট কাটার ভোগান্তি নতুন নয়। ২৮ এপ্রিল অ্যাপটি চালু করা হয়। চালু হওয়ার পর থেকেই সেবাগ্রহীতাদের রোষানলে অ্যাপটি।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে অ্যাপটির ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, তারা অ্যাপটির মাধ্যমে টিকেট ক্রয় করলেও ট্রেনের ছাড়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর পাচ্ছেন টিকেট। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে ফের স্টেশনে গিয়ে কিনতে হচ্ছে টিকেট। পরে প্রথম টিকেটের টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। 

আবার অনেকেই অ্যাপটিতে প্রবেশ করতে পারছেন না বলে অভিযোগও করেছেন। নেতিবাচক রিভিউ দেওয়ার কারণে অ্যাপটির বর্তমান রেটিং ৫ এর মধ্যে ৩।

ভোগান্তির অভিযোগ জানানোর স্থান নেই

অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট কিনে টিকেট না পাওয়া, অর্থ ফেরত পাওয়াসহ কোনো সমস্যায় পড়লে সেই অভিযোগ জানানো ব্যবস্থা রেখেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে টিকেট কিনতে গিয়ে ভোগান্তি শিকার হলে অভিযোগ জানানোর কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

জাতীয় কল সেন্টারে (৩৩৩) কল করলে এসব তথ্য জানান সেখানে দায়িত্বরত এক কর্মী।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সার্ভার ডাউন বা এই জাতীয় অভিযোগ তারা গ্রহণ করেন না। বিষয়টিকে তিনি সাময়িক বলেও উল্লেখ করেন।

রেল সেবা অ্যাপের এমন ভোগান্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের বিষয়ে কথা বলতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. শরিফুল আলমকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

একাধিকবার ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেনেরও।

অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেনের যাত্রী সেবা দেওয়ার মূল উদ্যোক্তা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, রেল সেবা অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের দেখভাল করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান। টিকেট কাটার ভোগান্তির বিষয়ে কথা বলতে প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর মনির উজ জামান চৌধুরীর মোবাইলে কল করে ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেডকে কেন্দ্র করে ২০১২ সালে ‘শর্ত পূরণ না করেও বিপুল কমিশন পাচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান’ শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছিল দেশের শীর্ষ একটি দৈনিক। প্রতিবেদনটিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অনিয়ম তুলে ধরা হয়।

প্রিয় প্রযুক্তি/রিমন