নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

এক্সিট পোল সত্য না মিথ্যা

যদিও এক্সিট পোল জিনিসটার মধ্যে গলদ আছে। পশ্চিমের উন্নত দেশগুলোতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় সব এক্সিট পোল ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

মিজানুর রহমান
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৯, ১৪:৫১ আপডেট: ২১ মে ২০১৯, ১০:৩২
প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৯, ১৪:৫১ আপডেট: ২১ মে ২০১৯, ১০:৩২


নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) প্রায় সব এক্সিট পোলে দেখা যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি বিপুল প্রতাপে আবারও ক্ষমতায় আসছেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এই নির্বাচনে মোট ৩০৫ থেকে ৩২৫টি আসন পেতে পারে। আর বিজেপি এককভাবে পাচ্ছে ২৪৫-২৭০টি আসন। অর্থাৎ সরকার গঠনের জন্য হয়তো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বিজেপি। ৫৪৩ আসনের লোকসভা নির্বাচনে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ২৭২ আসন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি একাই পেয়েছিল ২৮২ আসন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছিল ৩৩৬ আসন। গত নির্বাচনে কংগ্রেসের যে ভরাডুবি হয়েছিল, এ নির্বাচনে হয়তো ততটা ভরাডুবি হচ্ছে না। তবে এক্সিট পোল অনুসারে তারা কাঙ্খিত সাফল্যও পাচ্ছে না।

প্রায় সব এক্সিট পোলের ফলাফল অনুসারে, এ নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেতে পারে ১২৫-১৪০ আসন। কংগ্রেসের জন্য সবচেয়ে আশঙ্কার কথা হচ্ছে, হিন্দি বলয়ের যে রাজ্যগুলোতে (উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থান) গত ডিসেম্বরের বিধানসভা নির্বাচনে তারা বিজেপিকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়েছিল, লোকসভা নির্বাচনে সে রাজ্যগুলোতেও বিজেপির কাছে বিপুল ব্যবধানে হারতে যাচ্ছে কংগ্রেস। অর্থাৎ এ রাজ্যের মানুষেরা তাদের রাজ্যে কংগ্রেসের ওপর ভরসা করলেও কেন্দ্রে মোদির উপরই ভারসা রাখতে চাইছে। এক্সিট পোল যদি সত্যি হয়ে তাকে, তাহলে এটা কংগ্রেসের জন্য অপমানজনক। এ তিন রাজ্যের বাইরে এখনো পর্যন্ত এক্সিট পোলে সবচেয়ে বিষ্ময়কর ফলাফল দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এ রাজ্যের ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে ভালো ফলাফল করতে যাচ্ছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে মাত্র দুটি আসন জিতেছিল বিজেপি, সেখানে এবার তাদের আসন সংখ্যা দুই অঙ্কে উন্নীত হচ্ছে। এক্সিট পোল অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ১২-১৫টি আসন জিততে চলেছে। এটা সত্য হলে বিজেপির জন্য তা হবে এক বিশাল বিজয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় বিজেপিকে যেভাবে রাজ্যছাড়া করার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন, তা মিথ্যা প্রমাণিত হবে। মমতা বরাবরই বলে আসছেন, পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের সবগুলোতেই তার দল তৃণমূল কংগ্রেস জিতবে। সেটা যে হচ্ছে না, তা নিশ্চিত হবে বলছে এক্সিট পোল। যদিও মমতা এসব ফলাফল উড়িয়ে দিয়েছেন। 

কংগ্রেস নেতা শশী থারুরও জরিপের এসব ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতীয় অনেক নাগরিকই কাকে ভোট দিয়েছেন, তা জরিপকারীদের কাছে বলেন না, কারণ ভোটাররা তাদেরকে সরকারের লোক বলে মনে করে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক্সিট পোলের হিসাব অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পাচ্ছে ৩০৪ আসন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পাচ্ছে ১১৮ আসন, আর অন্যরা পাচ্ছে ১২১ আসন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়েলসন কোম্পানির এক্সিট পোল অনুসারে, এনডিএ জোট পেতে যাচ্ছে ২৬৭ আসন, আর ইউপিএ পেতে পারে ১২৭ আসন। অন্য দলগুলোর ঘরে যেতে পারে ১৪৮ আসন।

১৯ মে ভারতে সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট হওয়ার পরই সবগুলো মিডিয়া তাদের নিজস্ব এক্সিট পোল প্রকাশ করা শুরু করেছে। বিজেপির জন্য আশার কথা হচ্ছেে এক্সিট পোলগুলো একটির সঙ্গে অন্যটি প্রায় মিলে যাচ্ছে। কোথাও আকাশ-পাতাল ফারাক দেখা যাচ্ছে না। মিডিয়াগুলোও নিশ্চয়ই দায়িত্ব সহকারে এক্সিট পোলগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করেছে। কারণ ২৩ তারিখ ভোটের আসল ফলাফল দিলে কেউ দর্শকদের কাছে স্টুপিড প্রমাণিত হতে চাইবে না।

তবে এক্সিট পোল জিনিসটার মধ্যে গলদ আছে। ভারত তো দূর কি বাত, পশ্চিমের উন্নত দেশগুলোতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় সব এক্সিট পোল ভুল প্রমাণিত হয়েছে। পপুলার মিডিয়া ও এক্সিট পোল বলেছিল, ব্রেক্সিট হচ্ছে না। কিন্তু ফলাফল দেওয়ার পর দেখা গেল, মানুষ ব্রেক্সিটের পক্ষেই ভোট দিয়েছে। সব মিডিয়া, জরিপ প্রতিষ্ঠান ও সবশেষ এক্সিট পোলগুলো বলেছিল, ট্রাম্পকে বিশাল ব্যাবধানে হারিয়ে ক্ষমতায় আসছেন হিলারি ক্লিনটন, আদতে যা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এক্সিট পোল ভুল প্রমাণিত হওয়ার সর্বশেষ উদারহণটি ঘটেছে গত পরশুদিন অস্ট্রেলিয়াতে। দেশটির ফেডারেল ইলেকশন শেষে সবগুলো এক্সিট পোলের ফলাফল বলছিল, বিরোধী লেবার পার্টি ভালো ব্যবধানে ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেল ক্ষমতাসীন লিবারেল-ন্যাশনাল জোট ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ভোটের এ ফলাফলকে ‘মিরাকল’ বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

এক্সিট পোলের গলদের উদাহরণ আছে স্বয়ং ভারতেই। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের এক্সিট পোল বাজেভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। মূল ফলাফল ঘোষণার পর সবাই অবাক হয়েছে। এমনকি নানা প্রতিকূলতা সত্বেও কংগ্রেস নিজেকে সরকারে দেখে তারাও যথেষ্ঠ অবাক হয়েছে।

২৩ তারিখই নিশ্চিত জানা যাচ্ছে, কে বসতে যাচ্ছে ক্ষমতায়। কংগ্রেসের জেতার সম্ভাবনা কমই দেখা যাচ্ছে। এ নির্বাচনে কংগ্রেস হারলেও তাদের ক্যাম্পইনটিই সঠিক ছিল। বিশ্বব্যাপী বিভেদ সৃষ্টিকারীদের যে উত্থানের জোয়ার বইছে, চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার পরও এই জোয়ারের টানেই হয়তো ‘ইন্ডিয়ািস ডিভাইডার ইন চিফ’ নরেন্দ্র মোদি আবারও প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। কিন্তু বরাবরই মনে হয়েছে, রাহুল গান্ধী ভদ্র, সহনশীল ও ঐক্যের ক্যাম্পেইন চালিয়েছেন। সময়টা এখন খারাপ যাচ্ছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঐক্যেরই জয় হবে।