বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের ঘৃণিত ক্রিকেটারদের একাদশে মুশফিক!

মুশফিক বেশ শান্ত স্বভাবের। মাঠে তার আচরণেই সেটা প্রমাণিত। তাকে নিয়ে বিতর্ক নেই বললেই চলে। অথচ মুশফিকের নামই কি না উঠেছে ঘৃণিত ক্রিকেটারদের একাদশে!

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২১ মে ২০১৯, ২১:৩০ আপডেট: ২১ মে ২০১৯, ২১:৩৪
প্রকাশিত: ২১ মে ২০১৯, ২১:৩০ আপডেট: ২১ মে ২০১৯, ২১:৩৪


বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের প্রাণ বলা হয় মুশফিকুর রহিমকে। বহু ম্যাচে দলকে পথ দেখিয়ে জয়ের পথে নিয়ে গেছেন ডানহাতি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। মাঠে ব্যাট হাতে খেপাটে স্টাইলে ব্যাটিং করলেও মুশফিক বেশ শান্ত স্বভাবের। মাঠে তার আচরণেই সেটা প্রমাণিত। তাকে নিয়ে বিতর্ক নেই বললেই চলে। অথচ এই মুশফিকের নামই কি না উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত ক্রিকেটারদের একাদশে।

অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার। যে ক্রিকেটার তার লম্বা ক্যারিয়ারে এতটুকু কালির আচড় লাগতে দেননি, তাকেই কি না এমন একাদশে রাখা হলো! বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এমন খবর চরম হতাশার হলেও ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম এমনই দাবি করেছে। ভারতীয় ক্রিকেটভক্তদের দেওয়া ভোটের ভিত্তিতে ক্রিকট্যাকার নামের এই ওয়েবসাইটটি ঘৃণিত একটি একাদশ তৈরি করেছে। যেখানে মুশফিক রয়েছেন সাত নম্বরে।

ক্রিকট্যাকারে প্রকাশিত আর্টিকেল। ছবি: সংগৃহীত

শুধু মুশফিক নন, এই একাদশে আছেন গ্রেগ চ্যাপেল, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক, শেন ওয়ার্নের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা। ১১ জনের মধ্যে ভারতেরই তিনজন। কিন্তু এসব ক্রিকেটারদের এই তালিকায় কেন রাখা হয়েছে? কারণ হিসেবে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সারা বিশ্বে ক্রিকেটারদের অনেক ভক্ত থাকলেও মাঠের কোনো আচরণ বা কোনো কথায় অপছন্দের তালিকায় চলে যেতে পারেন। এসব ক্রিকেটারদের বেলাতেও তাই হয়েছে।

ঘৃণিত একাদশের এক নম্বরে আছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার সালমান বাট। তার এই একাদশে থাকার কারণ অবশ্য সবারই জানা। ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিং করে শুধু পাকিস্তানেই নয়, সারা বিশ্বের ক্রিকেটমোদীদের কাছে ঘৃণার পাত্রে পরিণত হন তিনি। দুই নম্বরে আছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান জেসি রাইডার। মাথা গরম করার কারণে অনেক বিতর্কে তার নাম জড়িয়েছে তার। মাতাল হয়ে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গসহ বারে মারামারি করে নিন্দিত হয়েছেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান।

এরপর যথাক্রমে তিন, চার, পাঁচ ও ছয় নম্বরে আছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক রিকি পন্টিং, গ্রেগ চ্যাপেল, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ও মাইকেল ক্লার্ক। দলকে জেতাতে মাঠে যে কোনো কিছু করার জন্য প্রস্তুত থাকতেন পন্টিং। তবে ভারতীয় কাছে পন্টিংয়ের ঘৃণিত হওয়ার মূল কারণ, কিছু কিছু ম্যাচে এক পন্টিংয়ের কাছেই হার মানতে হয়েছে ভারতকে।

গ্রেগ চ্যাপেলকে অপছন্দ করার কারণও মোটামুটি সবার জানা। ভারতের কোচ হয়ে দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে ফেলেছিলেন তিনি। নিজে দেশের ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন স্পট ফিক্সিং করে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। ক্লার্ক ভারতীয়দের কাছে অপছন্দের পাত্রে পরিণত হয়েছেন ২০০৭-০৮ সালে শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগসহ অন্যান্য ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়িয়ে।

সাত নম্বরে আছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। তাকে অপছন্দ করার কারণও অনেকের জানা। ভারতের বিপক্ষে মুশফিকের উদযাপন অপরিণত ও দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে তাদের ভক্ত-সমর্থকদের কাছে। এ ছাড়া ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উইন্ডিজের বিপক্ষে ভারত হারার পর ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। যে কারণে ভারতীয়দের অপছন্দের তালিকায় চলে গেছেন বাংলাদেশের তারকা এই ক্রিকেটার।

মুশফিকের পর চার ক্রিকেটার হলেন শ্রীশান্ত, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, মোহাম্মদ আসিফ ও অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন। ভারতের শ্রীশান্ত ও পাকিস্তানের আসিফের নাম ঘৃণিতের তালিকায় উঠেছে ফিক্সিংয়ের কারণে। শ্রীশান্ত আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিং ও আসিফ লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিং করে অপছন্দের তালিকায় চলে গেছেন।

আইপিএলের গেল আসরে মানকাড করে নিজেকে বিতর্কিত করে তুলেছেন অশ্বিন। সর্বশেষ শেন ওয়ার্ন অনেক কারণে বিতর্কিত ছিলেন। মাঠ ও মাঠের বাইরে বেশ কিছু কাণ্ড ঘটানোয় ব্যাড বয় সিল লেগে গিয়েছিল তার গায়ে। মাদক গ্রহণের দায়ে ২০০৩ বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি সাবেক এই স্পিন জাদুকর। তার বিরুদ্ধে ছিল যৌন হয়রানির অভিযোগ। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বড় কারণ ছিল, যেসবের কারণে নিন্দিত হয়েছেন ওয়ার্ন।