ফটোসেশনে ১০ দেশের অধিনায়ক। ছবি: আইসিসি

বিশ্বকাপ নিয়ে ১০ অধিনায়কের যত ভাবনা, দেখুন ভিডিওতে

কথায় কথায় বিশ্বকাপের উত্তাপটা যেন বাড়িয়ে দিলেন অংশ নিতে যাওয়া ১০ দলের অধিনায়ক।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০১৯, ১০:১৬ আপডেট: ২৪ মে ২০১৯, ১০:১৬
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০১৯, ১০:১৬ আপডেট: ২৪ মে ২০১৯, ১০:১৬


ফটোসেশনে ১০ দেশের অধিনায়ক। ছবি: আইসিসি

(প্রিয়.কম) দামামা বেজে গেছে ২০১৯ বিশ্বকাপের। ১০ দলের প্রত্যেকেই পৌঁছে গিয়েছে ইংল্যান্ড। ২৩ মে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অধিনায়কদের মহাসম্মেলনও।

কথায় কথায় বিশ্বকাপের উত্তাপটা যেন বাড়িয়ে দিলেন অংশ নিতে যাওয়া ১০ দলের অধিনায়ক। আইসিসির ‘মিট দ্য ক্যাপ্টেনস’ অনুষ্ঠানে ১০ দেশের অধিনায়কের কণ্ঠে ফুটে উঠল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস বিশ্বকাপ নিয়ে নানা ভাবনা, পরিকল্পনা আর লক্ষ্যের কথা!

২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটের ‘মক্কা’ খ্যাত লর্ডসে। কেমন হবে সেখানে ফাইনালে খেলতে পারলে? এক স্কুল শিক্ষার্থীর এমন প্রশ্নের জবাবে রসিকতা দিয়েই শুরু করেছেন স্বাগতিক অধিনায়ক ইয়ন মরগান।

‘উফ্! দারুণ হবে বিষয়টা। আমার তো মনে হয় এখানে উপস্থিত প্রত্যেক অধিনায়কই চাইবে তাদের বাঁ-পায়ের বিনিময়ে হলেও লর্ডসের ফাইনালে খেলতে। এখানে এমন কেউই নেই যে হোম অব ক্রিকেটে ফাইনাল খেলতে চাইবে না! ছোটবেলা থেকেই আমরা এমন এক ফাইনালের স্বপ্ন দেখেছি।’

২০১৫ বিশ্বকাপের পর ঘরের মাঠে ৯টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এই উন্নতির ধারা বিশ্বকাপে কতটা ধরে রাখা যাবে? মাশরাফি বিন মুর্তজার  দিকে এমন প্রশ্ন ছুটে যেতেই সপাটে ব্যাট চালিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক।

মাশরাফির ভাষ্য, ‘দারুণ একঝাঁক ক্রিকেটার নিয়েই আমাদের দলটা গড়া। জুনিয়র-সিনিয়রদের দারুণ বোঝাপড়া আছে। নতুন যারা আসছে, তারাও ভালো করছে। আয়ারল্যান্ডে সবশেষ যে সিরিজটা তারা খেলেছে, সেখানেও ভালো করেছে। আমার মনে হয় ২ জুন ডু প্লেসির দলের সঙ্গেও ভালো একটা সূচনা পাবো।’

মাশরাফির পাশেই ছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। মুচকি হেসে সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দিয়েছেন তিনি, ‘আমি  মোটেও তা আশা করি না!’

মাশরাফি বিন মুর্তজা, অ্যারন ফিঞ্চ ও ফাফ ডু প্লেসিস। ছবি: সংগৃহীত 

ইংল্যান্ড-পাকিস্তান সিরিজে দুদল মিলিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই রান ছাড়িয়েছে ছয়শো-সাড়ে ছয়শো। মূল আসরে এক ইনিংসে ৫০০ রান সম্ভব কিনা এমন প্রশ্ন ছুটে গেছে বিরাট কোহলির দিকে। ভারত অধিনায়কের জবাব, ‘ছেলেরা চাইলে হতেই পারে। তাহলে আমাদের ৫০ ওভারের প্রতিটি বলেই পেটাতে হবে।’

‘আমার মনে হয় ৩৫০-৩৮০ রান তাড়া করার চেয়ে ২৫০-২৮০ রান তাড়াই কঠিন হবে। কারণ সবাই বেশি করতে চাইবে। অল্প রান তাড়ায় মানসিকতার কিছু পরিবর্তন আসবেই।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব অধিনায়কই অবশ্য স্বীকার করেছেন, এবারের বিশ্বকাপে রানবন্যা হবেই। রান থামাতে তাই বোলারদের উপরে দায়িত্বটা ছেড়ে দিলেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দ্বিমুথ করুনারত্নে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে উঠে আসে ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গও। চিরবৈরী রাজনীতির লড়াই মাঠে চলে আসবে না তো? কোহলির জবাব, ‘মাঠে ঢুকলে উত্তেজনা থাকবেই। দর্শক-সমর্থকরা অনেককিছু বলবে। তবে একবার খেলার মাঝে ঢুকে গেলে এসব নিয়ে ভাবার সময়ই থাকবে না। দিনশেষে এটা মাঠেরই খেলা।’

বিশ্ব আসরে খেললেও কেন পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না ভারত? এমন প্রশ্নও শুনতে হয় কোহলিকে। জবাবটা কূটনৈতিকভাবেই দিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক, ‘এটা ক্রিকেটারদের বিষয় নয়। বোর্ডই ভালো জানে। সংবাদ সম্মেলনে আমি এর উত্তর দিতে পারবো না। আমার মন্তব্যও এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়!’

বিরাট কোহলি-সরফরাজ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

বল টেম্পারিং কাণ্ডে এক বছর নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। আছেন বিশ্বকাপ দলেও। এই দুজনকে নিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে এসে উগ্র সমর্থকদের হামলার মুখে পড়বে না তো অস্ট্রেলিয়া?

অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ অবশ্য বললেন, এ নিয়ে তারা মোটেও ভাবছেন না। ফিঞ্চের ভাষ্য, ‘ওরা কয়েকদিন আগে দলে ফিরেছে। দুজনে অসাধারণ ক্রিকেটার। দলের বাকিরা দুজনকে সাদরে গ্রহণও করেছে। দুজনের মনোবলও বেশ চাঙ্গা। দর্শকরা মাঠে থাকবে, অনেক কিছু বলবে। সবকিছু মেনে নিয়েই মাঠে খেলতে হবে।’

জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে বাছাইপর্ব খেলে বিশ্বকাপে এসেছে আফগানিস্তান। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা দেশের জন্য এ এক ভীষণ প্রাপ্তি বলে মনে করেন গুলবাদিন নাইব।

এ নিয়ে আফগান অধিনায়কের ভাষ্য, ‘আফগানিস্তানে খেলা বলতে এখন ক্রিকেটকেই বোঝায়। জনগণের আশা, ভালোবাসা নিয়ে আমরা খেলবো। আফগানিস্তান এখন বেশ শান্তিপূর্ণ। ক্রিকেট তারই একটা অংশ। এরকম একটা দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি বেশ গর্বিত।’

১০ দলের অধিনায়ক। ছবি: সংগৃহীত

দশ দলের সবাই খেলবে একে অপরের বিপক্ষে। নেই কোনো গ্রুপ। প্রত্যেক দলের ৯টি করে ম্যাচ থাকায় কঠিন এক বিশ্বকাপ আশা করছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন হোল্ডার।

সবশেষে বিশ্বকাপ নিয়ে নিজেদের ভাবনাকে তুলে ধরেছেন প্রতি অধিনায়ক। এ নিয়ে মাশরাফির ভাষ্য, ‘এখন সবকিছু নির্ভর করছে আমরা মানসিকভাবে কতটা এগিয়ে সেদিকে। যখন আমরা একটা দল হয়ে খেলবো। আশা করি সবকিছু ভালোভাবেই এগোবে। যেকোনো দলকে হারানোর আত্মবিশ্বাস আমরা রাখি।’

সবমিলিয়ে বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মুর্তজা থেকে ইংল্যান্ডের ইয়ন মরগ্যান—১০ দলের অধিনায়কই স্বীকার করে নিলেন, ক্রিকেটের ইতিহাসে সব চেয়ে কঠিন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বিশ্বকাপ এবারই হতে চলেছে।

ভিডিওতে দেখুন ১০ অধিনায়কের বিশ্বকাপ ভাবনা-

প্রিয় খেলা/রুহুল