বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

মোদির জয়ে এবার আর উচ্ছ্বাস নেই বিএনপির

ফলাফলে ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে এবার বিজেপি এগিয়ে আছে। নিশ্চিত বিজয়ের পথেই আছে বিজেপি। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা বাকি।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০১৯, ১০:২৫ আপডেট: ২৪ মে ২০১৯, ১০:২৫
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০১৯, ১০:২৫ আপডেট: ২৪ মে ২০১৯, ১০:২৫


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ভারত শাসনের ভার ফের নরেন্দ্র মোদির হাতেই উঠছে। প্রতিবেশী দেশ এবং রাজনৈতিক ইতিহাসে মিল থাকার কারণে বাংলাদেশের রাজনীতি ও দলগুলোর কাছে ভারতের নির্বাচন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপির সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে রাজনীতিতে প্রচলিত।

এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে এবারও বিজেপি এগিয়ে আছে। নিশ্চিত বিজয়ের পথেই আছে বিজেপি। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা বাকি।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কংগ্রেসের পরাজয়ে আভাস পেয়ে বেশ উৎফুল্লই ছিল বিএনপি। বিএনপি তখন মনে করেছিল, ভারতের কংগ্রেস সরকারের সমর্থনের কারণে আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে।

এ ছাড়া কংগ্রেসের সঙ্গে শেখ হাসিনা পরিবারেরও সু-সম্পর্ক রয়েছে। সেদিক থেকে বিজেপি ক্ষমতায় আসাতে বিএনপি বেশ খুশিই হয়েছিল। দলটির ধারণা ছিল, বিজেপি কংগ্রেসের মতো একতরফাভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করবে না। 

গতবার ভোটের পর বিজেপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণার আগেই বিএনপি নরেন্দ্র মোদি ও দলটির সভাপতি অমিত শাহকে অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বার্তা নিয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে গিয়ে উপস্থিত হন চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। এটি লেখার দায়িত্ব ছিল তৎকালীন বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা শমশের মবিন চৌধুরীর (এখন দল পরিবর্তন করে বিকল্পধারায় যোগ দিয়েছেন) ওপর। তখন বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নানা কর্মসূচিতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের বিজেপির জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

২০১৫ সালে আন্দোলনের সময় যখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে আটকে ছিলেন, তখন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ তাকে ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়। যদিও এর দুদিন পর অমিত শাহ জানান, তিনি খালেদা জিয়াকে ফোন করেননি। এই ঘটনায় বিএনপিকে রাজনীতিতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।

মোটাদাগে মোদির ৫ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক ভালোই ছিল বলে দেখা গেছে। এই সম্পর্ক একটি উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতির তেমন কোনো পরিবর্তন নেই জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ নরেন্দ্র মোদির প্রতি “আকৃষ্ট” ছিল এ কারণে যে মোদি জয়লাভ করলে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ খুলবে। যেহেতু একটা ধারণা ছিল কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সখ্য বেশি। তবে মোদি নির্বাচিত হওয়ার পরে ভারতের রাজনীতি বা পররাষ্ট্রনীতি কোনোটাই যে পরিবর্তনশীল না, এটা প্রমাণিত হয়েছে গত পাঁচ বছরে। আর এই পাঁচ বছরে বিএনপির সঙ্গে বিজেপির তেমন কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এখানে দলের বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কটা মুখ্য না। দুই দেশের সম্পর্কটাই মূল।’

গতবারের উচ্ছ্বাস প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা একটা জিনিস দেখে আসছি বা ধারণা করা হয়ে থাকে, ভারত সব সময়ই বাংলাদেশের প্রশ্নে কোনো ব্যক্তি বা দলকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। সে কারণেই গতবারের উচ্ছ্বাসটা “জনগণের” ছিল। স্বাভাবিক কারণেই এবার আর সেটা (উচ্ছ্বাসটা) নাই।’

এদিকে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বে এনডিএ জোট নিরঙ্কুশ জয়ের পথে থাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৩ মে, বৃহস্পতিবার পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় এই অভিনন্দন জানান তিনি। বার্তায় সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মোদিকে আমন্ত্রণও জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,  কার্যত বিগত ৫ বছর বিজেপির সঙ্গে বন্ধন দৃঢ় হয়েছে আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে বিজেপির দৃশ্যমান কোনো সম্পর্ক দেখা যায়নি। ফলে মোদির দ্বিতীয়বার জয়ে বিএনপিকে অতীতের মতো উচ্ছ্বসিত হতে দেখা যায়নি। প্রতিক্রিয়া প্রকাশে এবার অনেকটাই সতর্ক ও সংযত দলটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘বিজেপির সঙ্গে বিএনপির খারাপ সম্পর্ক নেই। তবে ক্ষমতাসীন দলের (আওয়ামী লীগ) সঙ্গে সম্পর্ক আরও গাঢ়। এই পাঁচ বছরে বিএনপি বিজেপির সঙ্গে সেভাবে সম্পর্ক রাখতে পারেনি। বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা তেমন তৎপরও ছিলেন না। আর বিজেপিও হয়তো আগ্রহ দেখায়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিজেপির পুনরায় ক্ষমতায় আসাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সম্পর্কে হয়তো তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।’ তবে ভারতে অভ্যন্তরীণ সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাদের কাছে বিষয়টা হচ্ছে যে-ই ক্ষমতায় আসুক সেটা বড় ব্যাপার নয়। তারা দু-দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নজর দেবে এবং যেসব অমীমাংসিত বিষয়গুলো আছে, যেমন তিস্তার পানি, সীমান্তে হত্যা, ফারাক্কা বাঁধ, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আমাদের টানাপোড়েন আছে ভারত সেখানে নজর দেবে।’

প্রিয় সংবাদ/রুহুল