সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

কৃষকদের দুরবস্থা সরকারের ভুল নীতির প্রতিফলন: মির্জা ফখরুল

‘সরকার একদিকে বলছে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করছে।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৯, ১৫:১০ আপডেট: ২৫ মে ২০১৯, ১৫:১১
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৯, ১৫:১০ আপডেট: ২৫ মে ২০১৯, ১৫:১১


সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দলের মধ‍্যস্বত্বভোগী নেতাকর্মীদের সুবিধা দিতেই সরকার চাল আমদানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

তিনি বলেন, ‘কৃষকদের যে দুরবস্থা তা সরকারের ভুল নীতির প্রতিফলন। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী দেশ খাদ্যে বিশেষ করে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চাল উৎপাদনের পরিমাণ তিন কোটি ৬২ লাখ টন। অথচ এই সময়ে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল আমদানির পরিমাণ ৬৯ লাখ মেট্রিক টন। গত ১০ মাসে তিন লাখ তিন হাজার হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। আমদানির অপেক্ষায় রয়েছে ৯৭ হাজার টন চাল।’

২৫ মে, শনিবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারি ধান-চাল সংগ্রহের মূল দুটি উদ্দেশ্যের একটি হলো কৃষককে মূল্য সহায়তা (প্রাইজ সাপোর্ট) দেয়া, আরেকটি হলো সরকারি মজুদ ব্যবস্থপনা (পাবলিক স্টক ম্যানেজমেন্ট)। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল সংগ্রহ করতে হবে। এতে কিছুটা হলেও কৃষক লাভবান হবে। কিন্তু সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে না কিনে কিনছে চালকল মালিকদের কাছ থেকে। অর্থাৎ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছ থেকে। এতে লাভবান হচ্ছে চালকল মালিকরা। আর সর্বস্বান্ত হয়ে মনের দুঃখে কৃষক তার ধান ক্ষেতেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলছে।’

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘সরকার একদিকে বলছে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করছে। ফলে সরকারের কর্মকাণ্ডেই মিথ্যাচার ধরা পড়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘চাল আমদানির ক্ষেত্রে দুর্নীতির মাত্রা এতই ব্যাপকতা লাভ করেছে যে, সরকারের অংশীদারি একটি দলের প্রধান সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও চাল আমদানিতে সরকারের দুর্নীতির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। এ ছাড়াও সরকারি দলের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনও এহেন পরিস্থিতির জন্য এ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে দায়ী করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকার ধান-চাল সংগ্রহের মাধ্যমে দলীয় ব্যবসায়ী চালকল মালিকদের মুনাফা পাইয়ে দিচ্ছে। বাজার থেকে কম মূল্যে ধান কিনে চাল কল মালিকরা চাল তৈরি করে সরকারের কাছে বিক্রি করে প্রতি কেজিতে মুনাফা করছে ১০ টাকা। আর কৃষক তার জমিতে উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি করে কেজিপ্রতি লোকসান গুনছে ১০/১২ টাকা।’

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...