কাফরুল থানা ভবন। ফাইল ছবি

ধর্ষণচেষ্টা মামলায় টাকা, চাপে পড়ে ফেরত! (অডিও)

‘আমার বাচ্চাকে ধর্ষণকারীর হাত থেকে বাঁচিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে গিয়ে আমার কাছে চার হাজার টাকা চায়।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৯, ১৯:৫২ আপডেট: ২৫ মে ২০১৯, ১৯:৫২
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৯, ১৯:৫২ আপডেট: ২৫ মে ২০১৯, ১৯:৫২


কাফরুল থানা ভবন। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) চায়ের দোকানদার দরিদ্র বাবার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। দুর্বৃত্তকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দও করা হয়। কিন্তু এরপরই বাধে বিপত্তি—পুলিশের দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, টাকা লাগবে। দরিদ্র দোকানদার তা দিতে বাধ্য হন। পরে একটি মানবাধিকার সংস্থার চাপে পড়ে এসআই সেই টাকা ফেরত দিয়েছেন। 

ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে ২২ মে। আর এসআই টাকা ফেরত দেন ২৩ মে রাতে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর কাফরুল থানায়। আর ধর্ষণচেষ্টা মামলার বাদীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার এসআই কুদ্দুসের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী দোকানদার সুমন বলেন, ‘আমার বাচ্চাকে ধর্ষণকারীর হাত থেকে বাঁচিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে গিয়ে আমার কাছে চার হাজার টাকা চায়। আমাকে একপর্যায়ে টাকা দিতে বাধ্য করে। আমি প্রথা আপার কাছে গিয়ে ব্যাপারটি বলি। পরে তাকে নিয়ে থানায় গেলে আবার টাকা ফেরত দিয়ে দেয়।’

প্রথার পুরো নাম আনোয়ার-ই-তাসলিমা। তিনি সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটি নামের একটি মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান।

আনোয়ার-ই-তাসলিমা প্রথা বলেন, ‘বাদী আমার কাছে আসলে আমি মামলার কাগজ দেখতে চাই। তারা আমাকে জানায়, টাকা না দিলে পুলিশ কাগজ দেবে না। এরপর আমি ওই এসআইকে অন্তত ২০০ বার ফোন দিয়েছিলাম। পরে থানায় গিয়েছি। টাকা ফেরত নিয়ে দিয়েছি।’

কাফরুল থানার উপপরিদর্শক কুদ্দুসের সঙ্গে আনোয়ার-ই-তাসলিমা প্রথার মোবাইল ফোনে কথোপকথনের একটি অডিও পাওয়া গেছে। সেখানে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন কুদ্দুস। তার দাবি, অনেক ধরনের খরচ আছে, তা মেটাতে টাকা নিতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অডিও কথোপকথন ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী