মাহেলা জয়াবর্ধনে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার ডাক প্রত্যাখ্যান করলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে

‘তাদের সঙ্গে কাজ করার আমার রুচি নেই। আমার জন্য এই জায়গাটাও ঠিক না।’

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯, ১৪:০০ আপডেট: ২৭ মে ২০১৯, ১৪:০০
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯, ১৪:০০ আপডেট: ২৭ মে ২০১৯, ১৪:০০


মাহেলা জয়াবর্ধনে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কাজের প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে। কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, এই জায়গাটা তার কাজের জন্য ঠিক নয়। আসন্ন ২০১৯ বিশ্বকাপের আগেও জয়াবর্ধনেকে জাতীয় দলের সঙ্গে চাইছিল লঙ্কানরা। সেই প্রস্তাবও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১২তম আসরে মাহেলা জয়াবর্ধনের কোচিংয়েই চ্যাম্পিয়ন হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এরপর তাকে আবারও শ্রীলঙ্কা দলের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জয়াবর্ধনে সেই প্রস্তাব সযত্নে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দেশের ক্রিকেটের যা পরিস্থিতি, তাতে তিনি কোনোভাবেই যুক্ত হতে চান না বলে জানিয়েছেন।

এ নিয়ে জয়াবর্ধনের ভাষ্য, ‘আমাকে বেশ কয়েকবার অনেক কমিটিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু আমি তাতে সাড়া দেইনি। আমার দায়িত্বটা কী হবে সেটাই তো পরিষ্কার করে বলা হচ্ছিল না। আর এমন পরিস্থিতিতে দলের কৌশলগত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত হওয়ার কোনো মানে নেই। চূড়ান্ত দল নির্বাচন হয়ে গেছে। আমার আর কী কাজ? দলের ম্যানেজমেন্টে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পেরেই খুশি। বোর্ডের আর কোনোকিছুর সঙ্গে জড়াতে চাই না। তাদের সঙ্গে কাজ করার আমার রুচি নেই। আমার জন্য এই জায়গাটাও ঠিক না।’

বেশকিছু দিন ধরেই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কার ঘরোয়া ক্রিকেট। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটকে ঢেলে সাজাতে তিন সাবেক ক্রিকেটার জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা ও অরবিন্দা ডি সিলভা বোর্ড সভাপতিকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব আমলেই নেয়নি তারা। সেজন্যই নিজেকে লঙ্কান ক্রিকেট থেকে গুটিয়ে রেখেছেন জয়াবর্ধনে। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো ভেঙে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ জয়াবর্ধনে বলেন, ‘আমরা আট মাস ধরে ওই প্রস্তাবটা তৈরি করেছিলাম। আমাদের প্রস্তাবকে তারা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিল। আমরা এটা করেছিলাম কারণ আমরা চাই না দেশের ক্রিকেটাররা অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডের লিগে চলে যাক। ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দরকার। আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেক দলেরই গড় বয়স ২৫, এটা খুবই হতাশাজনক। আমাদের সময় সিনিয়র ক্রিকেটাররা গাইড করতেন। তাদের ছাড়া আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো ভেঙ্গে পড়বে। তখন স্টেডিয়াম বানিয়েও লাভ হবে না।’

অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস এবং দীনেশ চান্দিমালের নেতৃত্বকেও একহাত নিয়েছেন জয়াবর্ধনে। তার ভাষ্য, ‘আমি এবং সাঙ্গাকারা যে পরামর্শ ম্যাথুসকে দিয়েছিলাম, তা হলো রাজনীতির কাছে সে যেন নতিস্বীকার না করে। তাকে শক্ত ধাঁচের নেতা হতে হবে। কিন্তু ক্রিকেটে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটলে দলে তার প্রভাব পড়ে। আমরা তাকে বারবার এই বিষয়টা নিয়ে সচেতন করেছিলাম। সেটা সে মেনে চললে আজকের এই অবস্থা হত না। এর জন্য সেই দায়ী।’

আরেক অধিনায়ক চান্দিমালকে নিয়ে জয়াবর্ধনের ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় চান্দিমাল আরও একজন ক্রিকেটার যে ক্রিকেট রাজনীতির শিকার। ম্যাথুসের মতো সেও মাঠের বাইরের অনেকের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে। দল নিয়ন্ত্রণ তারাই করছে। কড়া ধাঁচের নেতা থাকলে এটা হত না।’

প্রিয় খেলা/রুহুল