নাব্যতা হারিয়ে নদীটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দুই পাশে চর পড়ে প্রায় খালে পরিণত হয়েছে নদীটি। ছবি: সংগৃহীত

অস্তিত্ব সংকটে খরস্রোতা ধলেশ্বরী

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও চর পড়ে ধলেশ্বরীর গতি একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯, ১৬:১৩ আপডেট: ২৭ মে ২০১৯, ১৬:১৩
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯, ১৬:১৩ আপডেট: ২৭ মে ২০১৯, ১৬:১৩


নাব্যতা হারিয়ে নদীটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দুই পাশে চর পড়ে প্রায় খালে পরিণত হয়েছে নদীটি। ছবি: সংগৃহীত

(ইউএনবি) ব্রিটিশ শাসনামলে যে নদী দিয়ে কলকাতা থেকে যাত্রী ও পণ্যবোঝাই নৌকা ও জাহাজ চলত, টাঙ্গাইলের একসময়ের সেই খরস্রোতা নদী ধলেশ্বরী আজ মৃতপ্রায়। নাব্যতা হারিয়ে নদীটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দুই পাশে চর পড়ে প্রায় খালে পরিণত হয়েছে নদীটি।

ভারত বিভাগের পরও ঢাকাসহ ধলেশ্বরী নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলত নৌকা, লঞ্চ ও জাহাজ। সারা বছরই ছিল এমন অবস্থা। এককালে নদীটি ছিল টাঙ্গাইলের অর্থনীতিতে জীবনী সঞ্চালক। ভারত বিভাগের পরও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলত নৌকা, লঞ্চ ও জাহাজ। সারা বছরই ছিল এমন অবস্থা।

বর্তমানে চর পড়ে নদীটির অবস্থা এমন হয়েছে যে, শুষ্ক মৌসুমে ধলেশ্বরীর বুকে ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ হয়। পানির অপেক্ষায় নদীর চরায় পড়ে থাকে নৌকা। হেঁটে, মোটরসাইকেলে, রিকশা-ভ্যান, ঘোড়ার গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে ধলেশ্বরীর বুক পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যায় মানুষ।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গোল চত্বর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পূর্ব পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে চর জেগেছে। উত্তর-পশ্চিম পাশেও চর। মূল নদীর অনেক স্থানে ধান আবাদ করা হয়েছে। একটু উঁচু জায়গায় কিছুদিন আগে আবাদ করা হয়েছিল মাসকলাই ও খেসারি কলাই। কোনো কোনো স্থানে আখ লাগানো হয়েছে। মাঝে মাঝে ছোট-বড় গর্তে জমে আছে পানি। অনেক জায়গা শুকিয়ে গেছে।

ধলেশ্বরী পাড়ের আবদুল আলীম জানান, গোল চত্বর থেকে অনেক পশ্চিমে ছিল যমুনা নদীর একটি শাখা। আর মূল ধলেশ্বরী নদী ছিল গোল চত্বর এলাকা দিয়ে। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার আগে ধলেশ্বরী নদীতে প্রচণ্ড স্রোত ছিল। নদীও ছিল খুব গভীর। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে ধলেশ্বরীতে চর পড়া শুরু হয়। আর সেখানে আস্তে আস্তে গড়ে ওঠে বসতি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও চর পড়ে ধলেশ্বরীর গতি একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, মানুষ পারাপারের জন্য একটি স্থানে কাঠ দিয়ে সাঁকো বানানো হয়েছে। সেখান দিয়ে যাতায়াতের জন্য টোল আদায় করা হয়। সে সাঁকোর নিচের অংশও শুকনো। দুই পাড়ের মানুষ হেঁটে, মোটরসাইকেল অথবা অটোরিকশা নিয়ে চলাচল করছে।

এই পথ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন এমন একজন পথচারী রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরের মধ্যে অতিরিক্ত চর পড়ে নদীটি আরও সরু হয়ে গেছে।’

ধলেশ্বরী নদীর পাশের মাকোরকোল গ্রামের রেজাউল করিম বলেন, ‘আগে দেখেছি নদী অনেক প্রশস্ত এবং প্রবল স্রোত ছিল। শ্যালোচালিত নৌকা দিয়েও নদী পার হতে ঝামেলা হতো। ১০ বছর আগেও নদীতে খুব স্রোত থাকত। এখন সে নদীর রূপ আর নেই।’

গোল চত্বর এলাকায় ২৫ বছর ধরে নদীতে খেয়া পারাপার ও টোল আদায় করেন আবদুস ছালাম। তিনি বলেন, ‘১০ বছর আগেও নদীর এপার থেকে ওপারে নৌকা নিয়ে যেতে স্রোতের কারণে অনেক ভাটিতে গিয়ে নৌকা থামাতে হতো। এখন সোজা গিয়ে নদী পার হওয়া যায়। বছরের অর্ধেকের বেশি সময় নদীতে পানি থাকে না। ধলেশ্বরীর গোল চত্বর থেকে উভয় পাশের চর বাদে মূল নদীর অংশ ধরে অন্তত ১০ কিলোমিটার খনন করা হলে নদী আবার চালু হতে পারে।’ 

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, যমুনা নদী থেকে ধলেশ্বরী নদীর মুখ দেড় কিলোমিটারের মধ্যে ওঠা-নামা করে। বন্যার সময় উজান থেকে আসা কাদামাটি জমে মুখে চর পড়ে মুখ উঁচু হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে ধলেশ্বরীতে আর পানি থাকে না। নদীটিকে সচল করতে নতুন প্রকল্প প্রণয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল/আজাদ চৌধুরী