এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত গৃহবধূর শ্বশুর ও শাশুড়িসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অভাবের তাড়নায় দুই সন্তান নিয়ে মায়ের আত্মহত্যা!

পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯, ১৫:৪৭ আপডেট: ২৭ মে ২০১৯, ১৫:৪৭
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০১৯, ১৫:৪৭ আপডেট: ২৭ মে ২০১৯, ১৫:৪৭


এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত গৃহবধূর শ্বশুর ও শাশুড়িসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) যশোরের শার্শা উপজেলার চালিতাবাড়িয়া দীঘা গ্রামে রবিবার (২৬ মে) রাতে অভাবের কাছে হার মেনে দুই শিশু সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর এক মা আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

নিহতরা হলেন—ইব্রাহীমের স্ত্রী হামিদা খাতুন (৩৫), স্কুলপড়ুয়া মেয়ে শরিফা খাতুন (১১) ও ছেলে সোহান হোসেন (৪)।

পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় কাইবা ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম টিংকু জানান, শুধু চা বিক্রি করে সংসার চলত দরিদ্র ইব্রাহিমের। পরিবারে অভাব লেগেই থাকত। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-ফ্যাসাদ হতো। এদিন রাতেও তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকেরা। এরপর দুই সন্তানকে বিষ ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার পর নিজেও বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই গৃহবধূ।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র্যতার নির্মম কষাঘাতে জর্জরিত পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা থাকে বছরের প্রায় সারাটা সময়। ফলে সংসারে গণ্ডগোল-ঝামেলা লেগেই থাকত। এমন অবস্থায় সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতরে সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় ও কেনাকাটা করতে না পারায় স্বামী ইব্রাহীমের সঙ্গে স্ত্রী হামিদা খাতুনের রাতে ঝগড়া হয়। এরপর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে স্কুলপড়ুয়া মেয়ে শরিফা খাতুন ও ছেলে সোহান হোসেনকে খাবারের সঙ্গে কীটনাশক (বিষ ট্যাবলেট) খাইয়ে নির্মমভাবে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর হামিদা খাতুন নিজেও বিষ ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত নারীর শ্বশুর ও শাশুড়িসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে।

তবে ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে গুঞ্জন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া এ ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।’

প্রিয় সংবাদ/কামরুল/আজাদ চৌধুরী