মোহাম্মদ আমির। ছবি: সংগৃহীত

ইংল্যান্ডে কলঙ্কিত, ইংল্যান্ডেই বিশ্বকাপ অভিষেক

ইংল্যান্ডে আমিরের যেমন দুর্দশার গল্প আছে, তেমনি আছে সফলতার গল্পও।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০১৯, ১৬:৩৭ আপডেট: ৩১ মে ২০১৯, ১৬:৩৭
প্রকাশিত: ৩১ মে ২০১৯, ১৬:৩৭ আপডেট: ৩১ মে ২০১৯, ১৬:৩৭


মোহাম্মদ আমির। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) শুরুতে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। কিন্তু স্কোয়াডে মোহাম্মদ আমিরের না থাকা নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। ভক্ত-সমর্থক ও ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে ওয়াসিম আকরাম, শোয়েব আখতারদের মতো দেশটির সাবেক তারকারাও সমালোচনায় সরব ছিলেন। শেষ মুহূর্তে আমিরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বিশ্বকাপ স্কোয়াডে।

শুধু তা-ই নয়; বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি দিয়েই বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে আমিরের। উইন্ডিজের বিপক্ষে বাঁহাতি এই পেসারকে একাদশে রেখেই মাঠে নেমেছে সরফরাজ আহমেদের দল। ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিষেক হওয়াটা হয়তো আমিরের জন্য কিছুটা অন্য রকম অনুভূতির। কেননা ৯ বছর আগে ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে কলঙ্কিত হয়েছিলেন পাকিস্তানের এই গতি তারকা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমিরের পথচলা শুরু ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে। সেবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বলে রবি বোপারার উইকেট তুলে নেন বাঁহাতি এই পেসার। ওই টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচ খেলে মাত্র ৬ উইকেট নিলেও নিজের বোলিং দিয়ে মুগ্ধতা ছড়ান আমির।

তখন থেকেই আমিরের মধ্যে ওয়াসিম আকরামের ছায়া দেখতে শুরু করেছিলেন অনেকে। ওই বছরই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে টেস্ট ও ওয়ানডেতে অভিষেক হয় আমিরের। তবে বিপত্তি ঘটে ২০১০ সালে। আমির তখন ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত সময় পার করছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২ টেস্টে ১১ উইকেট নেওয়ার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ টেস্টে ১৯টি উইকেট তুলে নেন তিনি। কিন্তু ইংল্যান্ড সিরিজেই স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়েন আমির।

লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন আমির। ছয় মাস কারাভোগও করতে হয় তাকে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন বাঁহাতি এই পেসার। ফিরেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ও এশিয়া কাপ দুটিতেই দুর্দান্ত বোলিং করেন তিনি। পরের বছর ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পেয়েছেন শিরোপার স্বাদ। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১৬ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দলের শিরোপা জয়েও রাখেন দুর্দান্ত ভূমিকা।

ইংল্যান্ডে আমিরের যেমন দুর্দশার গল্প আছে, তেমনি আছে সফলতার গল্পও। ইংল্যান্ডের মাটিতে আইসিসির দুটি টুর্নামেন্টে খেলেছেন, দুটিতেই দলের হয়ে জিতেছেন শিরোপা। এবার সেই ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিষেক হলো ২৮ বছর বয়সী আমিরের।

প্রিয় খেলা/আজাদ চৌধুরী