স্মৃতি পালকে শিকলে বেঁধে রেখেছিলেন তার ভাই রনি পাল। ছবি: সংগৃহীত

বোনকে পাগল বানাতে ইনজেকশন পুশ!

স্মৃতি ২০১৮ সালে স্থানীয় রাবন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে এলাকায় বিনা বেতনে ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতেন।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০১৯, ০৯:৩৭ আপডেট: ১০ জুন ২০১৯, ০৯:৩৭
প্রকাশিত: ১০ জুন ২০১৯, ০৯:৩৭ আপডেট: ১০ জুন ২০১৯, ০৯:৩৭


স্মৃতি পালকে শিকলে বেঁধে রেখেছিলেন তার ভাই রনি পাল। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় সম্পত্তির লোভে প্রায় এক মাস ধরে বোনকে পাগল বানিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ভাইয়ের বিরুদ্ধে। উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার চামড়াব গ্রামে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে ৮ জুন, শনিবার সকালে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন মোল্লা ঘরের তালা ভেঙে শিকল বাঁধা অবস্থায় স্মৃতি পাল (১৮) নামের ওই তরুণীকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। স্মৃতি ২০১৮ সালে স্থানীয় রাবন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে এলাকায় বিনা বেতনে ছোট ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাতেন।

এদিকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে স্মৃতির ভাই রনি পাল (২৫) পালিয়ে যান। এ সময় স্মৃতির চাচা রিপন পালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করে। স্মৃতি পৌর এলাকার চামড়াব গ্রামের মৃত দেবেশ চন্দ্র পালের মেয়ে।

পলাশ থানার ওসি মকবুল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘সকালে খবর পেয়ে স্মৃতি রানী পালকে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। একটু সুস্থ হলে বিকেলে থানায় নিয়ে আসি।স্মৃতি পুরোপুরি সুস্থ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘোড়াশাল পৌর এলাকার চামড়াব গ্রামের দেবেশ চন্দ্র পাল প্রায় আট বছর আগে ও তার স্ত্রী বিনা রানী পাল প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। তাদের রেখে যাওয়া প্রায় ১২০ শতাংশ জমি ছেলে রনি পাল ও মেয়ে স্মৃতি পাল ভোগ করে আসছিলেন। 

নির্যাতিত স্মৃতি জানান, রনি পাল বাবার রেখে যাওয়া সব সম্পত্তি একা ভোগ করার জন্য তাকে কোনো কলেজে ভর্তি না করিয়ে পাগল বানানোর চেষ্টা চালান। এ উদ্দেশ্যে গত এক মাস ধরে তাকে একটি কক্ষে খাটের সঙ্গে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরের দরজা-জানালা, ফ্যান ও বাতি বন্ধ করে অন্ধকারে ফেলে রাখেন রনি। মাঝে-মধ্যে তিনি স্মৃতিকে মানসিক নির্যাতন চালাতে ইনজেকশন এবং বিভিন্ন ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন। নির্যাতনের এই এক মাসে তাকে তিন বেলা ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হয়নি।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল