প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করছে জনগণ : বিএনপি

সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০১৯, ১৮:৪৭ আপডেট: ১৪ জুন ২০১৯, ১৮:৪৭
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০১৯, ১৮:৪৭ আপডেট: ১৪ জুন ২০১৯, ১৮:৪৭


প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) নতুন অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রস্তাবিত বাজেট জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

১৪ জুন, শুক্রবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির পক্ষ থেকে বাজেটের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এ দাবি করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। যেভাবে জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।’

২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গণমানুষের কোনও আগ্রহ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘বছর শেষে এই বাজেট কাটছাঁট করা হয়। এবারের বাজেট উচ্চাভিলাষী। বাজেটে সরকারের ব্যয় করার উচ্চাভিলাষ থাকলেও আয় করার সামর্থ্য কমে গেছে।’

বাজেটে আরও ঘাটতি বাড়বে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেটের স্লোগান, ‘সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের।’ আসলে এটা তাদের (আওয়ামী লীগ), একমাত্র তাদের। এটা জনগণের বুঝতে কোনও সমস্যা হচ্ছে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকল্প ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। করের মাধ্যমে, ভ্যাটের মাধ্যমে বা অন্যান্য মাধ্যমে এই টাকা সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নেবে। অনির্বাচিত সরকার একটি অনির্বাচিত সংসদে এই বাজেট দিয়েছে। গণতন্ত্র না থাকায় সুশাসন নেই দেশে। সু-শাসনের অভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বন্ধ, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা, ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে। সরকার দেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতির বৃত্তে আবদ্ধ করে রেখেছে। এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে।’

তিনি বলেন, ‘রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বেকার বাংলাদেশে। প্রবৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে, তার সত্যতা নিয়ে মারাত্বক প্রশ্ন আছে। দেশের অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা একটি শ্রেণীর কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। অনির্বাচিত সরকারের নৈতিক অধিকার নেই বাজেট দেয়ার। সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। যেভাবে জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতিবছরই বাজেটে বিপুল পরিমাণ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ঘাটতি মেটাতে ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। বাজেট বাস্তবায়নের হারেও দেখা যায় নিম্নমুখীতা। বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। কোথাও যেন আস্থার অভাব আছে। প্রকৃতপক্ষে সরকারের ওপর কেউ আস্থা রাখতে পারছে না। কারণ সরকারই যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এবং এর ফলে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতাও নেই।’

প্রিয় সংবাদ/কামরুল