সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই সড়কটি বন্ধ করে নির্মাণ করা হচ্ছে মার্কেট। ছবি প্রিয়.কম

সড়কে মার্কেট নির্মাণে ‘অবরুদ্ধ’ হতে যাচ্ছে শতাধিক পরিবার

স্থানীয় বাসিন্দারাই দাবি করছেন- পৌরসভার ওই জায়গা ব্যবহার করে সড়ক প্রশস্ত করা হোক।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০১৯, ২১:৪১ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯, ২১:৪১
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০১৯, ২১:৪১ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯, ২১:৪১


সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই সড়কটি বন্ধ করে নির্মাণ করা হচ্ছে মার্কেট। ছবি প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের উত্তর গেট সংলগ্ন সড়ক প্রশস্ত না করে সড়কের পাশে মার্কেট নির্মাণ করছে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এতে সড়ক পথে ঐতিহ্যবাহী কলেজটির সঙ্গে যোগাযোগের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি মার্কেটের কারণে রাস্তা না পেয়ে অবরুদ্ধ হতে যাচ্ছে শতাধিক পরিবার।

এলাকাবাসী জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে অর্থাৎ পাকিস্তান আমলের শুরুর দিকে বেশ কিছু পরিবার মিলে ওই এলাকায় জমি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন। সে সময় ওই সড়কের জায়গাটি খাল বা নালা ছিল। কিন্তু জয়াগা কিনে তারা ওই খাল ভরাট করে সড়কের ব্যবস্থা করেছিলেন। পরে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে এর উত্তর গেট সংলগ্ন ওই সড়ক কালের পরিক্রমায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হয়ে ওঠে। স্থানীয় পরিবারগুলো সড়ক সংলগ্ন পৌরসভার সামান্য কিছু জায়গা ব্যবহার করতে থাকেন।

স্বাধীনতার পর কোনো দিন ওই জায়গা অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের প্রয়োজন অনুভব করেনি কেউ। বরং স্থানীয় বাসিন্দারাই মাঝে মাঝে দাবি তুলেছেন- পৌরসভার ওই জায়গা ব্যবহার করে সড়ক প্রশস্ত করা হোক।

কিছুদিন হলো জায়গাটি পৌরসভার নজরে আসে। এরপর পৌর কর্তৃপক্ষ জায়গাটি খালি করেন। এ সময়, জায়গাটির মাধ্যমে কলেজ সংলগ্ন সড়ক প্রশস্ত করার আবেদন জানান স্থানীয়রা। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ, স্থানীয় আলিয়া মাদরাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও পৌরসভায় এই আবেদন জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও চিঠি পাঠানো হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ সে সময় সড়ক প্রশস্ত করার মৌখিক আশ্বাস দেয়। কিন্তু তার কদিন পরই সেখানে মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় পৌরসভা কর্তপক্ষ।

কদিন আগে উদযাপিত হওয়া ঈদুল ফিতরের পর পরই ওই মার্কেট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে দেখা যায়। বিশ্ব ব্যাংক প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু ওই সড়কে আছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ, ভিক্টোরিয়া স্কুল, আলিয়া মাদরাসা ও সিরাজগঞ্জ মহিলা কলেজ উল্লেখযোগ্য।

সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে প্রবেশে এটিই প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বড় বড় রাজনৈতিক জনসভাও অনুষ্ঠিত হয় কলেজের বিশাল মাঠে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জনসভাও আয়োজন করা হয় এই মাঠে। অতিথিসহ সাধারণ জনগণ এই সড়ক দিয়েই মূলত মাঠে প্রবেশ করেন।

এমনকি কলেজের যেকোনো পরীক্ষা বাধলেই সড়টিকে যানজট শুরু হয়। সাইকেল বা গাড়ি রাখার কোনো জায়গা পান না পরীক্ষার্থীরা। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ উত্তর পাশে সড়কের পাশেই বাস করে শতাধিক পরিবার। আর পুরো এলাকায় বাস করে কয়েক লাখ মানুষ। এদের সবাই এই সড়ক ব্যবহার করেন। আর তাই সুশৃঙ্খল এই আবাসিক এলাকায় মার্কেটের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান না করে সড়ক প্রশস্ত করার দাবি তাদের।

এমন সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা সায়মা ইয়াসমীন বলেন, ‘পূর্ব পুরুষের এই ভিটে মাটিতে বাস করে আসছি। আজ পৌরসভা মার্কেট বানিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে, গলি দিয়ে নাকি চলাচল করতে হবে! পৌরসভায় জায়গায় পৌরবাসী কেন রাস্তা পাবে না? জায়গা থাকতেও কেন পৌরসভা নাগরিকদের রাস্তা দেবে না? হঠাৎ পৌরসভার উদ্ভট এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো কোন লাভের আশায়? পৌরবাসীকে বিপদে ফেলে পৌরসভা এভাবে মার্কেট নির্মাণ করতে পারে না।’

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বাড়ি-ঘরে হঠাৎ আগুন লাগার মত দুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি তো দূরের কথা, একটা ভ্যান বা রিকশাও ঢুকতে পারবে না! কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্সও প্রবেশ করতে পারবে না। নাগকিদের এভাবে বিপদে ফেলে মার্কেট নির্মাণ করতে পৌরসভার কোন আইন আছে?’ 

স্থানীয় ব্যবসায়ী ডলার তালুকদার বলেন, ‘পৌরসভা হটাৎ এমন দেউলিয়া হলো কেন যে, পৌরবাসীকে আটকে দিয়ে মার্কেট বানাতে হচ্ছে? তাও আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে! এখানে সড়ক প্রশস্ত করা খুবই জরুরি; তাতে শুধু এলাকাবাসীর নয়, শিক্ষার্থীদের জন্যও অভাবনীয় সুবিধা হবে।’

ফরিদা নামের এলাকার এক ‍গৃহিনী বলেন, ‘এলাকাবাসীর দাবির মুখে যে চিকন গলি দেওয়ার সিদ্ধান্ত পৌরসভা নিয়েছে, তা জনবিরোধী। আমাদের পরিবারগুলোর কেউ মারা গেলে ওই গলি দিয়ে একটা খাটিয়াও বের করা কঠিন হবে! কোন শত্রুতার জেরে স্থানীয় কমিশনারসহ মেয়র অবাস্তব এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে?’

স্থানীয় রিকশা গ্যারেজের মালিক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘এখানে বহু রিকশা রাতে রাখা হয়, মেরামত করা হয়। গ্যারেজের বাইরে বহু রিকশা পার্কিংও করা হয়। তা ছাড়া আশেপাশের এলাকাগুলোতে মাদকের রমরমা ব্যবসা আছে। এখানে মার্কেট করা হলে তার পেছনে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ শুরু হবে। মা-বোন নিয়ে এখানে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা সিরাজীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

প্রিয় সংবাদ/কামরুল