ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন (বামে) অগ্নিদগ্ধ হয়ে নির্মমভাবে নিহত নুসরাত জাহান রাফী (ডানে)। ছবি সংগৃহীত

কোথায় ছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম? জানে না পুলিশ

পরোয়ানা মাথায় নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তিনি এতদিন কোথায় ছিলেন, কীভাবে ছিলেন- সেটি জানে না পুলিশ।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০১৯, ১৯:১৫ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯, ১৯:১৭
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০১৯, ১৯:১৫ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯, ১৯:১৭


ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন (বামে) অগ্নিদগ্ধ হয়ে নির্মমভাবে নিহত নুসরাত জাহান রাফী (ডানে)। ছবি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ২০ দিন ধরে নিখোাঁজ ছিলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। তবে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পরোয়ানা মাথায় নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে তিনি এতদিন কোথায় ছিলেন, কীভাবে ছিলেন- সেটি জানেন না কেউ।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন, খুব শিখগিরই গ্রেফতার করা হবে ওসি মোয়াজ্জেমকে। এই দুই মন্ত্রীর ঘোষণার পরই গ্রেফতার হলেন মোয়াজ্জেম। তার আগে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করা যায়নি। কিন্তু কেন? সে প্রশ্নের উত্তরও জানেন না কেউ।

তাহলে আদালতের আদেশের চেয়ে মন্ত্রীদের কথাই কী বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কথা হয় ডিএমপির পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে।   

১৬ জুন, রবিবার বিকেলে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার এ বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- ‘মোয়াজ্জেম ২০ দিন পলাতক ছিল। এতদিন সে কোথায় ছিল? কেন তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি?’ জবাবে ডিসি মারুফ হোসেন বলেন, ‘এটা বলা যাবে না। কারণ কেউ গ্রেফতারের পর বলবে না যে সে কোথায় ছিল।’

জিজ্ঞাসাবাদে মোয়াজ্জেম কী বলেছেন? জানতে চাইলে মারুফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই থানায় তার নামে কোনো মামলা নেই। তাই আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার কোনো কারণ নেই। তারপরও আমরা মাত্র কিছুক্ষণ আগেই তাকে গ্রেফতার করেছি। এখনো কথা বলারই সময় পাইনি।’

গ্রেফতারের বিষয়ে ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘শাহবাগ থানাধীন হাইকোর্ট মোড়ের কদম ফোয়ারার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল তিনি এখানে থাকতে পারেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সোনাগাজী থানায় তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। গ্রেফতারের পরপরই আমরা সোনাগাজী থানায় যোগাযোগ করেছি। সেই থানার প্রতিনিধি আসলে আমরা তাদের কাছে মোয়াজ্জেমকে হস্তান্তর করব। যতক্ষণ হস্তান্তর না করা হবে ততক্ষণ শাহবাগ থানায় রাখা হবে তাকে। আদালতে কখন তুলবে এটা সোনাগাজী থানা পুলিশের সিদ্ধান্ত।’

মোয়াজ্জেম সকালে আদালতে জামিনের জন্য গিয়েছিলেন, সেখান থেকে ফেরার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি সত্য কি না? এ বিষয়ে ডিসি মারুফ বলেন, ‘জামিন নিতে গিয়েছিলেন কি না সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। আমাদের কাছে আসা গোপন তথ্য অনুযায়ী আমরা কদম ফোয়ারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করি।’

যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে ফেনীর সোনাগাজী মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এরপরও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আত্মসমর্পণও করেননি।

পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গত ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। গত কদিন থেকে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলি চলছিল। ঈদের আগে সেখান থেকে নিরুদ্দেশ হন ওসি মোয়াজ্জেম।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...