ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

দাড়ি-গোঁফও রক্ষা করতে পারেনি ওসি মোয়াজ্জেমকে

জামিনের জন্য অপেক্ষা করেছেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। গ্রেফতার হয়েছেন তারই সহকর্মী পুলিশ বাহিনীর হাতে।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০১৯, ২২:২৮ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯, ২২:৩১
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০১৯, ২২:২৮ আপডেট: ১৬ জুন ২০১৯, ২২:৩১


ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ২০ দিন ধরে পলাতক ছিলেন ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন। আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

গ্রেফতার এড়াতে হাইকোর্টে এসেছিলেন আগাম জামিন নিতে। নিয়ম অনুযায়ী আগাম জামিন নিতে হলে আদালত স্বশরীরে উপস্থিত হতে হয়। এরপর শুনানি করে আদালত জামিন দিলে আসামিকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার থেকে বিরত থাকে পুলিশ। কিন্তু আদালত পর্যন্ত আসতে হবে তো! আদালতে হাজির হওয়ার আগেই আসামিকে গ্রেফতার করতে বাধা নেই পুলিশের। তবে হাইকোর্ট পর্যন্ত আসতে পুলিশ চোখ ফাঁকি দিতে মুখে দাড়ি, গোঁফ আর পায়ে স্যান্ডেল ছিল মোয়াজ্জেমের।  তিনি এসেছিলেনও সকাল ১০টায়। জামিনের জন্য অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। গ্রেফতার হয়েছেন তারই সহকর্মী পুলিশ বাহিনীর হাতে।

রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ জামিন আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু শুনানি হয়নি, আগামীকাল সোমবার আবেদনটি  শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। আর এটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় ওসির। তাকে হাইকোর্ট দেখে চিনতে পারেননি কেউ। হাইকোর্টে কর্মরত সাদা পোশাকে নিয়োজিত আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবাক হন দাড়ি-গোঁফ ওয়ালা মোয়াজ্জেমকে দেখে।

তারা জানান, নুসরাত হত্যার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের যে ছবি ছড়িয়েছিল, আজকে গ্রেফতার হওয়া মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সেই চেহারার মিল খুঁজতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।

১৬ জুন রবিবার দুপুরে তিনি যখন হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে আসেন তখন থেকেই তাকে গ্রেফতারে তৎপর ছিলেন সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা।

যৌন নিপীড়নের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে ফেনীর সোনাগাজী মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এরপরও তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তিনি আত্মসমর্পণও করেননি।

পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গত ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। গত কদিন থেকে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলি চলছিল। ঈদের আগে সেখান থেকে নিরুদ্দেশ হন ওসি মোয়াজ্জেম।

সূত্র জানায়, সকালে ওসি মোয়াজ্জেম জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আসার পর প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের একটি কক্ষে বসেন। মোয়াজ্জেমের দূর সম্পর্কের আত্মীয় খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান জামিনের জন্য মোয়াজ্জেম এসেছিলেন আদালতে। পরে শুনানির তারিখ পিছিয়ে কাল সোমবার নির্ধারণ করা হলে। তিনি আদালত থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার হন। 

বেলা পাঁচটার দিকে রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার তাঁর কার্যালয়ে সাংবাকিদকের জানান, হাইকোর্টের কদম ফোয়ারার কাছে থেকে মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর শাহবাগ থানায় তাকে নেওয়া হয়।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল