আদালতে হাজির করা হয় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে। ছবি: সংগৃহীত

‘গণপিটুনির ভয়ে ওসি মোয়াজ্জেম বাইরে বের হননি’

আইনজীবী বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম অপরাধী না নির্দোষ তা পরে বিচার হবে, জনরোষে পড়লে পুলিশ অফিসার না নিরীহ মানুষ তা দেখা হয় না। জনরোষের ভয়ে আদালতে আসতে পারেননি।’

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০১৯, ১৮:৫৮ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৯, ১৮:৫৮
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০১৯, ১৮:৫৮ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৯, ১৮:৫৮


আদালতে হাজির করা হয় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বিচারকের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি মোয়াজ্জেমের আইনজীবী ফারুক হোসেন বলেন, ‘গোপনে না থেকে বাইরে বের হলে মোয়াজ্জেমকে যে কেউ চিনে ফেলত।’

আইনজীবী আরও বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম অপরাধী না নির্দোষ তা পরে বিচার হবে, জনরোষে পড়লে পুলিশ অফিসার না নিরীহ মানুষ তা দেখা হয় না। গণপিটুনি শুরু হয়। ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক ছিলেন না। জনরোষের ভয়ে আদালতে আসতে পারেননি।’

১৭ জুন, সোমবার নুসরাত জাহান রাফীকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ফেসবুকে ছড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে সাইবার আদালতে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওস) মোয়াজ্জেমের পক্ষে এমন যুক্তি তুলে ধরেন। এবং জামিনের প্রার্থনা করেন।

জামিন আবেদনে আইনজীবী ফারুক আহমেদ উল্লেখ করেন- মামলায় বলা হয়েছে, আসামি মোয়াজ্জেমের আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তার আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানো হয়নি। ভিডিও ছড়ানো হয়েছে মো. আতিয়ার হাওলাদার সজল নামে এক সাংবাদিকের আইডি থেকে। অথচ তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি।

ওসির আইনজীবীর দাবি সজলের আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানোর কথা জানতে পেরে ওসি মোয়াজ্জেম গত ১৪ এপ্রিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তাই মোয়াজ্জেম এ মামলায় আসামি হতে পারেন না। তিনি জামিন পেতে পারেন।

শুনানিতে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস শামস জগলুল হোসেন আসামির আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন যে, মোয়াজ্জেম হোসেন ভিডিওটি করেছিলেন কি না? কিন্তু আইনজীবী ফারুক আহমেদ কৌশলে এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।

এতদিন আদালতে জামিন নিতে আসেননি কেন? বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে আসামির আইনজীবী বলেন, ‘নিরাপত্তার অভাবে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।’ এ সময় বিচারক বলেন, ‘একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন?’

আইনজীবী উত্তরে বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেমের বিষয়টি যেভাবে মিডিয়ার এসেছে তাতে তিনি বাইরে বের হলে যে কেউ তাকে চিনে ফেলে। অপরাধী না নির্দোষ তা পরে বিচার হবে, জনরোষে পড়লে পুলিশ অফিসার না নিরীহ মানুষ তা দেখা হয় না। গণপিটুনি শুরু হয়। ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক ছিলেন না। জনরোষের ভয়ে আদালতে আসতে পারেননি।’

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মোয়াজ্জেমের আইনজীবী বলেন, ‘আসামি নির্দোষ, এটা মামলার ট্রায়ালে প্রমাণ করব।’

নুসরাত জাহান রাফীকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার আগে ফেনীর সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত জাহান রাফি। তখন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনে বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...