বিশ্বকাপে নিজের শেষ ম্যাচে টস করছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানকে হারালে যত প্রাপ্তি যোগ হবে বাংলাদেশের মুকুটে

আপাতদৃষ্টিতে নিয়মরক্ষার ম্যাচ মনে হলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে মাশরাফি-সাকিবদের পাওয়ার আছে অনেক কিছু।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০১৯, ১৬:০৬ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০১৯, ১৬:০৬
প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০১৯, ১৬:০৬ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০১৯, ১৬:০৬


বিশ্বকাপে নিজের শেষ ম্যাচে টস করছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সেমিফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে ভারতের বিপক্ষে জয় ছাড়া ভিন্ন কোনো বিকল্প ছিল না বাংলাদেশ দলের সামনে। কিন্তু বাঁচা-মরার এই ম্যাচটিকে প্রায় নিজেদের করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমানের পাঁচ উইকেট এবং ব্যাট হাতে সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জোড়া হাফ সেঞ্চুরির পরও বাংলাদেশের সঙ্গী হয় ২৮ রানের পরাজয়।

বিশ্বকাপে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে মাশরাফি-সাকিবদের সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন। পাকিস্তানের বিপক্ষে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচটি তাই রূপ নিয়েছে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতায়। নিয়মরক্ষার ম্যাচে ঐতিহাসিক লর্ডসে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ৫ জুলাই, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে তিনটায় শুরু হয়েছে ম্যাচটি।

আপাতদৃষ্টিতে নিয়মরক্ষার ম্যাচ মনে হলেও এই ম্যাচ থেকে মাশরাফি-সাকিবদের পাওয়ার আছে অনেক কিছু। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেসব তথ্য-

১. বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ তিনটি করে জয় আছে বাংলাদেশের। ২০১১ ও ২০১৫ আসরে তিনটি করে ম্যাচে জয় পান সাকিব-তামিমরা। এবারের আসরে এরই মধ্যে তিনটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলে সেই সংখ্যাটি দাঁড়াবে চারে। এটাই হবে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের সেরা সাফল্য।

২. পাকিস্তানের বিপক্ষ জয় পেলে সেরা পাঁচে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করবে বাংলাদেশ। এ জন্য অবশ্য ভারতের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কাকে হারতে হবে।

৩. বিশ্বকাপের এক আসরে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি ছিল দুটি। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসরে দুটি সেঞ্চুরি হাঁকান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এবার এরই মধ্যে হয়ে তিনটি গেছে সেঞ্চুরি হয়ে গেছে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের। সাকিব দুটি ও মুশফিক করেছেন একটি সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে কেউ তিন অঙ্কের রান স্পর্শ করলে সেটা হবে চতুর্থ সেঞ্চুরি।

৪. এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ৫৪২ রান করেছেন সাকিব আল হাসান। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১৯ রান করতে পারলে বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় শীর্ষ দশে ঢুকে যাবেন তিনি। এ তালিকায় উপরে রয়েছেন শচিন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং, কুমার সাঙ্গাকারা, ব্রায়ান লারার মতো কিংবদন্তিরা। এ ছাড়া ১৮ রান করতে পারলেও বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১১০০ রান হবে সাকিবের।

৫. বিশ্বকাপের এক আসরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক সাকিব। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে সেটিকে তিনি কতদূর টেনে নিয়ে যেতে পারেন, তাও দেখার। বড় একটি ইনিংস খেলে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে পারলে সেটাও হবে বাংলাদেশের জন্য বড় প্রাপ্তি।

৬. বিশ্বকাপের এক আসরে এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি মুস্তাফিজুর রহমান। ইতিমধ্যেই ১৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। এতদিন এক আসরে সবচেয়ে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি ছিল আবদুর রাজ্জাকের দখলে। ২০০৭ সালে ৯ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। এবারের আসরে সাত ম্যাচেই তাকে টপকে গেছেন মুস্তাফিজ। এবার বাঁহাতি এই পেসারের সামনে সুযোগ থাকছে উইকেটের সংখ্যাটা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার।

৭. ২০১৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পায়নি পাকিস্তান। বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে সেই ধারা অব্যাহত থাকে কিনা সেদিকেও লক্ষ্য রাখছেন বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থক ও ক্রিকেটপ্রেমীরা।

প্রিয় খেলা/কামরুল