ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা। ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুর জন্য দায়ী নগরবাসী?

এখনই এডিস মশাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

তানজিল রিমন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০১৯, ২০:৫২ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৯, ২১:১৪
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০১৯, ২০:৫২ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০১৯, ২১:১৪


ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যা ছিল ৭৩।

চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৩ দিনে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই, শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত এক হাজার ৯১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ৯৯৮ জন। অথচ ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে জানুয়ারি থেকে জুলাই (পুরো মাস) পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৩৭৪। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া ডেঙ্গু শুধু ঢাকায়ই নয়, ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেকের হিসাবই নেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে।

গবেষক ও চিকিৎসকরা বলছেন, চলতি বছর এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ গত কয়েক বছরের মধ্যে বেশি। এখনই এডিস মশাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলে ডেঙ্গু ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এজন্য নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। কারণ এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হচ্ছে জমে থাকা পরিষ্কার পানি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। জ্বর হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন হতে হবে।

মশার ওপর গবেষণা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবিরুল বাশার। তিনি মনে করেন, এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি, তবে ডেঙ্গু থেকে নিজেদের রক্ষায় সচেতনতার বিকল্প নেই। এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।

প্রথমত, এডিস মশার ঘনত্ব বেশি এবং জলবায়ুর পরিবর্তন। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টি হয়েছে। মাঝখানে কয়েকদিন বিরতি নিয়ে আবারও বৃষ্টি হয়েছে। এভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়াতে সহজেই পানি জমে থাকছে এবং এডিস মশা সৃষ্টি হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, পানির সমস্যা। ঢাকার অনেক এলাকায় সবসময় ওয়াসার লাইনে পানি থাকে না। ফলে যখন পানি থাকে, তখন অনেকেই ড্রাম বা কোনো পাত্রে পানি ধরে রাখেন। প্রতিদিন সেই ড্রামে পানি রাখলেও তা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এতে সহজেই এডিস মশা লাভা সৃষ্টি করতে পারছে।

তৃতীয়ত, ঢাকায় সারা বছরই ভবন নির্মাণ হয়। এসব নির্মাণাধীন ভবনের কাজ চলে কয়েক বছর ধরে। অনেক সময় ফ্ল্যাট বিক্রি না হওয়ায় এটার সময় আরও বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে এসব নির্মাণাধীন ভবনে ইট ভেজানোর জায়গা থাকে, লিফটের জন্য গর্ত থাকে, ভবনের বিভিন্ন তলায় দেওয়া পানি জমে থাকে। এসব কারণে প্রচুর মশার জন্ম হচ্ছে।

এডিস মশাকে গৃহপালিত মশা আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক কবিরুল বাশার জানান, মানুষের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এই মশার প্রজননক্ষেত্র ঘরের আশপাশে। তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এডিস মশা সাধারণত আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে হয়ে থাকে। এজন্য পানির পাত্র, ফুল বা গাছের টব, ছাদে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। আশপাশটা পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধে মানুষের পার্টিসিপেশনটা খুব জরুরি।’

মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের একটি বাড়ির ছাদে জমে আছে বৃষ্টির পানি। ছবি: প্রিয়.কম

শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে এডিস মশাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

রাজধানী ঢাকায় মশক নিধনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। আর ঢাকার বাইরে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বলছে, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। যদিও সাধারণ মানুষ মশার জ্বালায় যেন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী এডিস মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে আমাদের কাজ চলছে। ১৫ জুলাই বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের (গবেষক, চিকিৎসক, পরিবেশ বিজ্ঞানীও থাকবেন) সঙ্গে এ নিয়ে আমাদের মিটিং রয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হলে মশা নিধনের বর্তমান ওষুধ চেঞ্জ করা হবে।’

তিনি জানান, মশক নিধনে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রাশ প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন কাজ করছে ডিএনসিসি। মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য লিফলেট বিতরণ, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, র‌্যালি, মসজিদের ইমামদের চিঠিসহ বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। সকাল-বিকেল স্প্রেম্যান ও ক্রুম্যানরাও কাজ করছেন।

একই ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও (ডিএসসিসি)। এসব কার্যক্রমের পাশাপাশি ১৫ জুলাই থেকে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল সেবা চালু করা হবে বলেও জানান ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শরীফ আহমেদ।

সিটি করপোরেশনের এ দুই কর্মকর্তা জানান, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি যেন না হয়, সেজন্য সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ছাদে বা টবে যেন পানি না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যারা ছাদে বাগান করছে, তাদের অনেকে পানি ধরার চৌবাচ্চা রাখছেন, যেখানে পানি জমে থাকে; চৌবাচ্চায় পানি জমিয়ে রাখা যাবে না।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে কি না—এমন প্রশ্নে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিনজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর বাইরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব মৃত্যুর রিপোর্ট আসছে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে আমাদের একটি কমিটি রয়েছে, পর্যালোচনা কমিটি মৃত্যুর কারণ জানিয়ে সুপারিশ করে। তারপর তথ্য আমরা প্রকাশ করি।’

বিভিন্ন রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য পর্যালোচনা করতে আইইডিসিআরের মৃত্যু পর্যালোচনাবিষয়ক কমিটি রয়েছে। ১৩ জুলাই, শনিবার সেই কমিটির দুজন সদস্যের বরাত দিয়ে দেশের একটি শীর্ষ দৈনিক জানিয়েছে, এরই মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্যুর এই সংখ্যার বিষয়ে মীরজাদী সাব্রিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘ওরা ওদের মতো রিপোর্ট করেছে। এ নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। আমাদের কমিটি ডেথ রিপোর্ট রিভিউ করছে, সে তথ্য পাওয়ার পর আমরা নিশ্চিত করব।’

এবার বৈশ্বিকভাবেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানান তিনি। মীরজাদী সাব্রিনা বলেন, ‘এখনই যদি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে মারাত্মক আকার ধারণ করবে।’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মশা নিধনে নিয়মিত কাজ করলেও এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসে তেমন কিছু করতে পারছে না সিটি করপোরেশন। অবশ্য এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন অনেকটা নিরুপায়। কারণ মশা নিধনে সাধারণত রাস্তা-ঘাট, পরিত্যক্ত জায়গা, ড্রেন, ডোবায় সকালে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে ফগার মেশিন দিয়ে অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পরিষ্কার পানি সাধারণত থাকে বাড়ি বা ভবনের ভেতরে ও ছাদে। এক্ষেত্রে মশক নিধন কর্মসূচি বাড়ির বাইরেই সীমাবদ্ধ। যদিও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এজন্য বাড়ির মালিকদের সচেতন করতে তারা লিফলেট বিলি, মিটিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ করছেন।

এমনকি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গত বছরের মার্চে ডিএসসিসি ঘোষণা দেয়, কারো বাড়ি বা ভবনে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র পাওয়া গেলে জরিমানা করা হবে। এই লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযান চালানো হবে বলেও জানানো হয়েছিল। সে সময় নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছিল বলে মনে করেন সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা।

মশার উপদ্রব ও নিধন কার্যক্রম নিয়ে পাঠক প্রতিক্রিয়া 

১৩ জুলাই, শনিবার দুপুরে প্রিয়.কমের ফেসবুক পেজে পাঠকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাদের এলাকায় মশার উপদ্রব কেমন? মশার ওষুধ দেওয়া হয় কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে বেশিরভাগ মানুষই জানিয়েছেন, নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। মাঝে মাঝে দিলেও তাতে খুব একটা কাজ হয় না।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ার লিপি জামান গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন। তিনি বলেন, ‘এত বেশি মশা যে, বসে থাকা যায় না। গত এক বছরে কোনোদিন মশা মারার ওষুধ দিতে দেখি নাই।’

এ ছাড়াও মিরপুরের মেহেনাজ জান্নাত, কল্যাণপুর থেকে রবিউল হাসান, লালবাগের রাফিউদ্দিন, মিরপুরের পীরেরবাগের মামুনুর রশিদ, শনির আখড়ার সাইদুল হক, ডেমরার সারুলিয়ার স্বপ্ন, পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের জিয়াউর রহমান কানন, জুরাইনের মোহাম্মদ আমির হোসেন, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের (জুরাইন) আল-আমিন, উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের নীলুফা ইয়াসমিন, মিরপুর-১১ নম্বরের উর্মি জাহানারা, ১৩ নম্বরের অরণ্য দাস, আশকোনার ফারজানা আফরোজ, বাংলামোটরের মিঠুন কর, উত্তরা ৬ নম্বরের উম্মে সামিউন হাসনা তন্বী অভিযোগ করেন, তাদের এলাকায় সম্প্রতি মশার ওষুধ দেওয়া হয়নি। মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ তারা।

ছাদে, টবে, পানির চৌবাচ্চা, কংক্রিটের পানির বড় পাত্রে সহজেই এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করে। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার বাইরে বসবাস করা নাগরিকরা জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় কালেভদ্রেও মশার ওষুধ ছিটাতে দেখা যায় না।

মাগুরার শ্রীপুরের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আশিক বলেন, ‘আমাদের এখানে রয়েছে অনেক খাল। এজন্য এখানে বরাবরই মশার উপদ্রব অনেক বেশি। কিন্ত দুঃখজনক বিষয় আমাদের এখানে মশা মারার জন্য কোনো ওষুধ ছিটানো হয় না।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মাবতী রোডের নাজনী ইসলাম এবং ওমর ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের এলাকায় মশার ব্যাপক উপদ্রব। কিন্তু মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি।

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের মিল্টন হাওলাদার, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ পাভেল, সিরাজগঞ্জের ফেরদৌসী আরা, নরসিংদীর আলমগীর কবির ও জুয়েল রানা, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের মাহমুদুল হাসান, সিলেটের চালিবন্দরের টিটু চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতার কাজী রাসেল, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবু, নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে মো. সোহেল, ঝিনাইদহের হাবিবা সুলতানা মুক্তা অভিযোগ করেন, তাদের এলাকায় প্রচুর মশা। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয় প্রশাসনকে কখনো মশা নিধনে ওষুধ ছিটাতে দেখেননি তারা। কয়েল বা স্প্রেতেও খুব একটা কাজ হয় না, মশার কামড়ে অনেকেই অসুস্থ।

শেরপুরের শ্রীবরদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশরাফুল আলম মোবাইলে জানান, দিনে বা রাতে সবসময় মশার কামড়ে অতিষ্ঠ। শহরের ভেতরে তারা মশা মারার ওষুধ দিতে দেখেননি। ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে নিয়ে চিন্তায় থাকেন, বাসায় যতক্ষণ থাকেন, ছোটদের মশারির ভেতরে রাখার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, ‘মশারি টাঙিয়ে রাখি সবসময়। বাচ্চারা পড়াশোনাসহ সব কাজ এখন মশারির নিচেই করে। কারণ কয়েল কাজ করে না।’

বান্দরবানের মধ্যমপাড়া এলাকা থেকে মং চ্যাই স্যু মারমা বলেন, ‘মশার উপদ্রব অনেক বেশি। নিয়মিত তো দূরের কথা, গত ২ বছরে একবার ছিটায় বলে মনে পড়ছে।’

প্রিয় সংবাদ/রুহুল