১৯৭৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ী দল। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেরা ফাইনাল কোনটি?

নাটকীয় এই জয়টিই কি ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ ফাইনাল। চলুন এক নজরে দেখে নিই বিশ্বকাপের যত ফাইনাল।

আশরাফ ইসলাম
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:৫২ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:৫৩
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:৫২ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:৫৩


১৯৭৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ী দল। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) রুদ্ধশ্বাস বিশ্বকাপ ফাইনালে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। ফুটবলে তাও টাইব্রেকারে ড্র হলে সাডেন ডেথের সুযোগ থাকে, ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড সেই সুযোগও পেল না। ম্যাচ টাই, সুপার ওভারও টাই, শেষ পর্যন্ত ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি মারার সুবাদে ২০১৯ বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড। নাটকীয় এই জয়টিই কি ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ ফাইনাল। চলুন এক নজরে দেখে নিই বিশ্বকাপের যত ফাইনাল-

১৯৭৫ বিশ্বকাপ ফাইনাল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপ আসর ছিল ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপটি। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ৫টি শহরের ৬টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টি। ওই বিশ্বকাপে মোট ৮টি দল অংশগ্রহণ করে। ওই সময় ৬টি টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্ত দেশ- ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও আইসিসির সহযোগী দেশ হিসেবে শ্রীলঙ্কা ও পূর্ব আফ্রিকা অংশগ্রহণ করেছিল। 

প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের প্রথম আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৭৫ সালের ২১ জুন ইংল্যান্ডের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ৬০ ওভারের এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৯১ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবীয়রা। উইন্ডিজের অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড চমকপ্রদ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। ৫০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট পতনের পর দলের প্রারম্ভিক বিপর্যয় রোধে ৫ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে রোহন কানহাইয়ের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ১৪৯ রান করে দলকে খেলায় ফিরিয়ে আনেন। লয়েড আউট হবার সময় দলের রান ছিল ৪ উইকেটে ১৯৯। তার দায়িত্বপূর্ণ ৮৫ বলে ১০২ রানে করা সেঞ্চুরির ইনিংসে তিনি সর্বমোট ১২টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকান। ফলে তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি কিথ বয়েসের ঝড়োগতিতে ৩৪ রানের ফলে ৬০ ওভারে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় ২৯২। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অ্যালান টার্নার ৫৪ বলে ৪০ ও অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল ৯৩ বলে ৬২ রান সংগ্রহ করেন। কিন্তু তাদের পুরো ইনিংসে ৫টি রান-আউটের ফলে তারা নিজেরাই দলের সর্বনাশ ডেকে আনেন। ৫৮.৪ ওভারে সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ১৭ রানে বিজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা ঘরে তুলে।

১৯৭৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল

প্রথম বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার চার বছর পর দ্বিতীয় আসরটিও ইংল্যান্ডেই বসে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এবার রানার্সআপ হয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ১৯৭৯ সালের ফাইনালটি অনুষ্ঠিত হয় ২৩ জুন দেশটির লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।

ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্বিতীয় বিশ্বকাপটিও তুলে ধরে ক্যারিবীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। প্রথমে ব্যাট করতে নামা ক্যারিবীয়দের সূচনাটি মোটেও ভালো ছিল না। ৫৫ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসেন ক্যারেবীয়রা। ৪৪ রান যুক্ত করতে আরও ১ উইকেট হারায় তারা। হারান মূল্যবান উইকেট গর্ডন গ্রিনিজ, ডেসমন্ড হেইন্স, আলভিন কালীচরণ ও ক্লাইভ লয়েডকে। এরপর ৫ম উইকেট জুটিতে ভিভ রিচার্ডস ও কলিস কিং ১৩৯ রানের জুটি গড়েন। কলিস ৮৬ রানে সাজঘরে ফিরেন। রিচার্ডস একপ্রান্তে আগলে রেখে দলের রান সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকেন। নিচের সারির ব্যাটসম্যানেরা সবাই শূন্য রানে আউট হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত রিচার্ডস ১৩৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাইনাল স্কোর ৮ উইকেটে ২৮৬। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় করতে প্রয়োজন ছিল ৬০ ওভারে ২৮৭ রান।

ওপেনিংয়ে ইংরেজ ব্যাটসম্যানরা সূচনা ভালো করলেও পরবর্তীকালে রিচার্ডসের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে রান সংগ্রহ ধীরলয়ে ঘটে। মাইক ব্রিয়ারলি এবং জিওফ্রে বয়কট মিলে ১২৯ রান করলেও তারা ৩৮ ওভার ব্যয় করে ফেলেন। পরেরজন দ্বিতীয় অংকে পৌঁছতেই ১৭ ওভার খেলেন। ফলে তারা আউট হলেও প্রয়োজনীয় রান রেট উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে।  এরপর গ্রাহাম গুচ ও ডেরেক র‌্যান্ডল সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলিংকে বিপর্যস্ত করেন। তারা দলটিকে অগ্রসর করলেও ২ উইকেটে ১৮৩ রানের পর অপ্রত্যাশিতভাবে ১১ রান তুলতে গিয়েই বাকি ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে ইংলিশরা। ফলাফল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯২ রানে জয়ী। জোয়েল গার্নার মাত্র এগারো বলের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট তুলে নেন ওই ফাইনালে।

১৯৮৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল

এবারও ইংল্যান্ড স্বাগতিক। প্রথম দুই আসরের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে। এবার লর্ডসের মাঠে ২৪,৬০৯ জন দর্শকের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের মুখোমুখি হয়। 

এশিয়ার প্রথম কোনো দেশ হিসেবে ১৯৮৩ সালে ভারত বিশ্বকাপ জয় করে। ছবি: সংগৃহীত

সুনিল গাভাস্কার ইনিংসের শুরুতেই মাত্র ২ রানে আউট হয়ে যান। ভারতের হয়ে একমাত্র শ্রীকান্ত ৩০-এর বেশি রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। উইন্ডিজ বোলার অ্যান্ডি রবার্টসের তিন উইকেটের সুবাদে ৬০ ওভারের ম্যাচে ভারতের ইনিংস ৫৮.৪ ওভারে থামে মাত্র ১৮৩ রানে।

জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ব্যাট করতে নেমে মদন লালের বোলিং নৈপুণ্যে মাত্র ছয় রানের ব্যবধানে ভিভ রিচার্ডস, ডেসমন্ড হেইন্স ও ল্যারি গোমস আউট হন। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ধসে ১৪০ রানে অল-আউট হয় ও ভারত ৪৩ রানের ব্যবধানে জয়ী হয়ে শিরোপা লাভ করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পরপর তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডটি আর করতে পারল না। নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রথমবারের মতো ভারতীয় দলের অধিনায়ক কপিল দেব ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন। মহিন্দর অমরনাথ সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ৭ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ম্যাচসেরা হন। 

১৯৮৭ বিশ্বকাপ ফাইনাল

পরপর তিনবার বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবার পর ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করে ভারত। আইসিসির  পরিচালনায় ওই ফাইনালটি ৮ নভেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম বিশ্বকাপের রানারআপ অস্ট্রেলিয়া ও দ্বিতীয় বিশ্বকাপের রানারআপ ইংল্যান্ড ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে। অধিনায়ক অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া ৭ রানের ব্যবধানে চীরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শিরোপা লাভ করে। ১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার প্রদান করা হয়নি। ডেভিড বুন ফাইনালে ১২৫ বলের বিনিময়ে ৭৫ রানের অসাধারণ ইনিংসের জন্যে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম বিশ্বকাপ পায় ১৯৮৭ সালে। ছবি: সংগৃহীত

ওই ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন ডেভিড বুন। শেষদিকে মাইক ভেলেটার ছয়টি চারের মারে ৩১ বলে ৪৫ রান করেন। শেষ ছয় ওভারে অস্ট্রেলিয়া ৬৫ রান করে। ফলে, নির্ধারিত ৫০ ওভারে দলটি ২৫৩ রান করে ৫ উইকেটের বিনিময়ে। এ প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো ৫০ ওভারের ইনিংস খেলা হয়।

২৫৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে টিম রবিনসন প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হন। বিল অ্যাথে ১০৩ বলে ২ চারের সাহায্যে ৫৮ রান উঠান। অধিনায়ক মাইক গ্যাটিং ৪৫ বলে ৪১ রান সংগ্রহ করেন। অ্যাথে-গ্যাটিং জুটি ১৩ ওভারে ৬৯ রান করে। অ্যালান ল্যাম্বও ৪৫ রান করেন।

প্রায় ৭০,০০০ দর্শক সমাগমে ইংল্যান্ডের বিল অ্যাথে, মাইক গ্যাটিং ও অ্যালান ল্যাম্বের মাঝারি সারির ব্যাটিংয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও জয়ের জন্য চূড়ান্ত ওভারে ১৭ রানের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু শেষ ওভারে দলটি ৯ রান করতে সক্ষম হয় ও ৭ রানে পরাজিত হয়।

১৯৯২ বিশ্বকাপ ফাইনাল

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে আয়োজন করে। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত খেলাটি প্রথমবারের মতো ডে-নাইটে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলতে নেমে টসে জয়ী হয়ে পাকিস্তান  ব্যাটিংয়ে নামে। ডেরেক প্রিঙ্গল শুরুতে দুই উইকেট লাভ করলেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইমরান খান ও জাভেদ মিয়াঁদাদ ১৩৯ রান যোগ করেন। পরে ইনজামাম উল হক ও ওয়াসিম আকরাম ত্রিশোর্ধ্ব রান করলে পাকিস্তান ৫০ ওভারে সর্বমোট ৬ উইকেটে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে।

ফাইনাল জিতার পর পাকিস্তান দল। ছবি: সংগৃহীত

৮৭,০০০ দর্শকের সম্মুখে ওয়াসিম আকরাম অল-রাউন্ডার ইয়ান বোথামকে শূন্য রানে আউট করাসহ তিন উইকেট লাভ করেন। অন্যদিকে গুগলিতে বিভ্রান্ত হয়ে গ্রেইম হিকও আউট হন। ফলে ইংল্যান্ড ২২৭ রানে অল আউট হয় ও পাকিস্তান ২২ রানে বিজয়ী হয়। ওয়াসিম আকরাম ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল

১৯৯৬ ক্রিকেট বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পরিচালিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ষষ্ঠ আসর। ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে বিশ্বকাপটির আয়োজন করে। পাঞ্জাবের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে।

১৯৯৬ সালের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া লড়াই করে। ছবি: সংগৃহীত

ফাইনালে টসে জিতে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। অধিনায়ক মার্ক টেলর ও রিকি পন্টিংয়ের দ্বিতীয় উইকেট জুটির ১০১ রান দলকে ৭ উইকেটে ২৪১ রানে নিয়ে যায়। অরবিন্দ ডি সিলভা’র সেঞ্চুরি, অশঙ্কা গুরুসিনহা ও রানাতুঙ্গা’র সাথে জুটি গড়ে দলকে ২২ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিজয়ী হয়। ফলে প্রথমবারের মতো কোনো স্বাগতিক দল জয়ী হয়, যদিও তা পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়াও প্রথমবারের মতো কোনো দল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করে বিজয়ী হয়েছে। অরবিন্দ ডি সিলভা ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

১৯৯৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল

টানা তিন আসর বিরতির পর আবারও আয়োজক ইংল্যান্ড। তবে এবার আর এককভাবে নয়। আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসসহ যৌথভাবে ১৯৯৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করে দেশটি। এই বিশ্বকাপটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়। কারণ ৯৯ বিশ্বকাপেই প্রথম ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে টাইগাররা। 

টানা ১২ বছরের যাত্রার প্রথমটি। ছবি সংগৃহীত

সেবার গ্রুপ বি’তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ড। নিজেদের পাঁচ ম্যাচের ২টিতে জয় পায় টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬২ রানের বড় জয় ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানের জয় ছিলে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নবাগত বাংলাদেশের দুর্দান্ত অর্জন।

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপের মাধ্যমে ১২-বছরব্যাপী অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের সূচনা ঘটে। ২০ জুন অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে আগের আসরের রানার্স-আপ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় ১৯৯২ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তুলে অস্ট্রেলিয়া।

ওই ফাইনালে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে অজি বোলারদের তোপের মুখে বেশি সময় মাঠে থাকতে পারেনি তারা। ৩৯ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৩২ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তানিরা। অজি বোলার শেন ওয়ার্ন ৯ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন। ১৩৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের কার্যকারী অর্ধশতক এবং মার্ক ওয়াহ, রিকি পন্টিং ও ড্যারেন লেহম্যানের যোগ্য সহযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২০.১ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছায় ও সেই সাথে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে। শেন ওয়ার্ন বোলিংয়ে অনন্য সাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের মাধ্যমে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার অর্জন করেন। 

২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল

প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পায় ২০০৩ বিশ্বকাপে। সহযোগী আয়োজক হিসেবে ছিল জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ অংশ নেয় ওই বিশ্বকাপে। ১৯৯৯-এর চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া এবারও ফাইনালে উঠে। শুধু ফাইনালই নয় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তারা ভারতকে ১২৫ রানের বড় ব্যবধানে হারায়।

২০০৩ সালে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ফাইনালে মুখোমুখি হয়। ছবি: সংগৃহীত

ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাটিং করে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৫৯ রানের বিশাল স্কোর করে। অধিনায়ক রিকি পন্টিং ১৪০ ও মার্টিন ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন। জবাবে ভারত ৪০তম ওভারেই সব কয়টি উইকেট হারিয়ে ২৩৪ রান তুলতে সক্ষম হয়। গ্লেন ম্যাগরা ৩টি ও ব্রেট লি ২টি উইকেট পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর অস্ট্রেলিয়াই প্রথম দল যারা টানা ২ বিশ্বকাপ অর্জন করে। 

২০০৭ বিশ্বকাপ ফাইনাল

২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট বিশ্বকাপ। মার্চ ১৩ থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় এপ্রিল ২৮-এ। ফাইনালটি বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত হয়। অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকাকে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা নিউজিল্যান্ডকে সেমি-ফাইনালে পরাজিত করে এ সুযোগ পায়। 

২০০৭ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো এ বিশ্বকাপের ফাইনালে দুই দলের অংশগ্রহণের পুণরাবৃত্তি ঘটে। দল দু’টো ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে অংশ নিয়েছিল সেবার শ্রীলঙ্কা বিজয়ী হয়। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে অংশ নেয়।অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক রিকি পন্টিং টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু, বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে দেরি হয়। ফলে, উভয় দলের ইনিংস ৩৮ ওভারে নির্ধারণ করা হয়। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ১৪৯ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। এ রানটি বিশ্বকাপের ফাইনালে যে-কোনো ব্যাটসম্যানের জন্য সর্বোচ্চ। ফলে অস্ট্রেলিয়া বিরাট রান সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা ও সনাথ জয়াসুরিয়া দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১১৬ রান করলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠে। উভয়ে আউট হলে শ্রীলঙ্কার জয়ের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। পুণরায় বৃষ্টি নামলে শ্রীলঙ্কার ইনিংস ৩৬ ওভারে ২৬৯ রান নির্ধারণ করা হয়। ৩৩তম ওভার শেষে আম্পায়ারদ্বয় মন্দ আলোকের জন্য খেলা স্থগিত করেন।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়েরা তাদের বিজয় উৎসব করতে শুরু করে। আম্পায়ারদ্বয় ভুলক্রমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফলে, চূড়ান্ত তিন ওভার পরদিন খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য ১৮ বলে ৬১ রানের প্রয়োজন ছিল। মাহেলা জয়াবর্ধনে পরদিন না খেলতে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি দলকে ব্যাটিং চালিয়ে যাবার পরামর্শ দেন। রিকি পন্টিং কেবলমাত্র স্পিনার দিয়ে খেলাতে সম্মত হন। পরবর্তীতে আম্পায়াররা তাদের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। খেলা শেষে ৩৭ রানে জয়ী হয় অস্ট্রেলিয়া দল। শেষ তিন ওভার পুরোপুরি অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। এ সময়ে শ্রীলঙ্কা দল মাত্র ৯ রান করে। এরফলে ডাক-ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়া ৫৩ রানের জয় পায় ও অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় ২ ওভার কম ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়।

অস্ট্রেলিয়া দল প্রতিযোগিতায় অপরাজিত অবস্থায় শিরোপা জয় করে। বিশ্বকাপে পরাজয়বিহীন অবস্থায় দলটি ২৯টি খেলায় জয় পায়। এ ছাড়া প্রথম কোনো দল হিসেবে পর পর তিনবার বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরার যোগ্যতা অর্জন করে।  

২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনাল

২০১১ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত হয়। এই বিশ্বকাপেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো আয়োজক দেশ হওয়ার সুযোগ পায়। সেবার ২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ফাইনাল ম্যাচটি। বিশ্বকাপের দশম আসরে ভারত শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়। এটি ছিল প্রথম কোনো বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে এশিয়ার দুইটি দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

২০১১ সালে শ্রীলঙ্কাকে ফাইনালে হারিয়ে দ্বিতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ইন্ডিয়া। ছবি: সংগৃহীত

২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাটিং করে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ২৭৪ রান করতে সক্ষম হয়। মাহেলা জয়াবর্ধনে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের হয়ে জহির খান ও যুবরাজ সিং ২টি করে উইকেট নেন। ভারত ব্যাটিংয়ে নামার পর শূন্য রানে শেবাগ আউট হলে সাময়িক বিপর্যয়ে পরে ভারত। কিন্তু গৌতম গম্ভীরের ৯৭ ও অধিনায়ক ধোনির হার না মানা ৯১ রানের সুবাদে ১০ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা ৪২ রানে ভারতের ২ উইকেট নেন।

২০১৫ বিশ্বকাপ ফাইনাল

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৫ প্রতিযোগিতার একাদশ আসর। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে আয়োজন করে। এই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সহ-স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। 

একবার বিরতি দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ২০১৫ সালে পঞ্চমবারের মতো ট্রফি নিয়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত

ফাইনালে নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাটিং করে মাত্র ৪৫ ওভারেই সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রান করতে সক্ষম হয়। গ্রান্ট এলিয়ট ৮৩ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল জনসন ও জেমস ফকনার ৩টি করে উইকেট নেন। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৩৩ ওভার ১ বলেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ৭৪ রান করেন। আর নিউজিল্যান্ডের ম্যাট হেনরি ২টি উইকেট নেন। 

২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল

১৪ জুলাই, রবিবার বিশ্বকাপের মতো আসরের ফাইনাল ম্যাচে দু’দুবার টাই! এ যেন অভাবনীয়, সবার কল্পনাতীত ব্যাপার। লর্ডসে যারা ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল ম্যাচটি নিজ চোখে দেখেছেন তারা হয়তো এখনো ঘোরের মধ্যেই আছেন। 

ইংল্যান্ডের প্রথম শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। অনেক কিছুরই প্রথম দেখেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ওয়ার্ল্ড কাপ। 

২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর ইংল্যান্ড দল। ছবি: সংগৃহীত

স্কোরকার্ডের দিকে তাকালে দেখা যাবে, ম্যাচের ফলাফল লেখা হয়েছে বাউন্ডারির হিসেবে। মূল ম্যাচের পর সুপার ওভারও টাই। এরপর দুই দলের ম্যাচে মোট বাউন্ডারি হিসাব করা হয়। সুপার ওভারসহ ইংল্যান্ড ম্যাচে বাউন্ডারি (চার ও ছয়) মেরেছে ২৬টি। নিউজিল্যান্ড ১৭টি। তাতেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড!

আগে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ বোলারদের তোপে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহটা ২৪১ রানের বেশি হয়নি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শেষ বলে গুটিয়ে যায় ইংলিশরা, তাদের সংগ্রহও ২৪১। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল গড়ালো সুপার ওভারে। সুপার ওভারে ইংল্যান্ড করল ১৫ রান। নিউজিল্যান্ডও করল ঠিক ১৫!

সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই। তখন দেখা হলো, ম্যাচে বাউন্ডারি বেশি কাদের। ইংল্যান্ড তাতেই চ্যাম্পিয়ন! এ যেন রূপকথাকেও হার মানানো ফাইনাল!

রবিবার লর্ডসের ফাইনালে রান তাড়ায় যখন ধুঁকছিল ইংল্যান্ড, জস বাটলারের সঙ্গে স্টোকসের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় দল। বাটলারের বিদায়ের পর স্টোকস একরকম একাই টানেন দলকে। অপরাজিত থাকেন ৯৮ বলে ৮৪ রানে। ম্যান অব দা ফাইনালের বিবেচনায় তার কাছাকাছিও ছিল না আর কেউ।

এদিকে ফাইনালের ভেন্যু লর্ডসে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা ম্যাচটি (তর্কসাপেক্ষে) শেষে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হিসেবে উইলিয়ামসনের নাম ঘোষণা করা হয়। ১১ ম্যাচের ১০ ইনিংসে ব্যাটিং করে ৮২.৫৭ গড়ে ৫৭৮ রান করেন ২৮ বছর বয়সী উইলিয়ামসন। তিনি দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি করেন।

ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের দৌড়ে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান বেশ এগিয়ে ছিলেন। ব্যাটে-বলে সমানতালে আলো ছড়িয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। আট ম্যাচে তুলে নিয়েছেন দুটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি। বাকি ম্যাচটিতে আউট হয়েছেন ৪১ রানে। সবমিলিয়ে ৮৬.৫৭ গড়ে সাকিবের নামের পাশে রয়েছে ৬০৬ রান। এ ছাড়া বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট। কিন্তু কিউই অধিনায়কের ব্যাটের ওপর ভর করেই ফাইনালে পৌঁছায় নিউজিল্যান্ড। অবশ্য শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই নয়, অধিনায়কত্ব দিয়েও নজর কেড়েছেন তিনি। দলকে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। আর তাই সাকিবকে নয় উইলিয়ামসনকেই এই পুরস্কারের জন্য বেছে নিলো আইসিসি।

২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ক্লাইম্যাক্স-অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্স, টাইয়ের ওপর টাই, চড়াই-উতরাই, নানা বাঁক- সব মিলিয়ে টান টান উত্তেজনায় ভরপুর স্নায়ুক্ষয়ী এক ফাইনাল দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। এই ফাইনালকে তাই অনেকেই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা ফাইনাল বলছেন। 

সূত্র: উইকিপিডিয়া, ক্রিকিইনফো

প্রিয় খেলা/রুহুল