আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে ডিআইজি মিজানকে। ফাইল ছবি

৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন: ডিআইজি মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ

দুর্নীতির মামলা থেকে মুক্তি পেতে ডিআইজি মিজান দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯, ২০:০৪ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৯, ২০:০৪
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯, ২০:০৪ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৯, ২০:০৪


আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে ডিআইজি মিজানকে। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে সাময়িক বরখাস্ত পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে কেরানীগঞ্জে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

১৫ জুলাই, সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত  প্রায় ২ ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব ইসলাম।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল খবর প্রচার করে, দুর্নীতির মামলা থেকে মুক্তি পেতে ডিআইজি মিজান দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে এক সংবাদ পাঠিকাকে জোর করে বিয়ে করার সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরসহ দুদকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

নিজেকে বাঁচাতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন কিনা সেই অভিযোগের অনুসন্ধানে মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করেন দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস ১৫ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

গত ১০ জুলাই ঘুষ লেনদেন প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার একটি এ আদেশ দেয়।

যেভাবে কারাগারে মিজান

১ জুলাই হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে গেলে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্টে বেঞ্চ মিজানের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করেন। ২ জুলাই পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এস ইমরুল কায়েস তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে।

মিজানের বিরুদ্ধে মামলা

২৪ জুন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর পরিচালক মনজুর মোর্শেদ বাদী হয়ে মিজান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মিজানের স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে পুলিশের এসআই মাহমুদুল হাসান ও ছোটভাই মাহবুবুর রহমান। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা অর্জন ও ৩ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ৪২১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

সম্পদের অনুসন্ধান ও সাময়িক বরখাস্ত

দুদক ২০১৮ সালের শুরুর দিকে ডিআইজি মিজানের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে। অভিযোগ ওঠার পর থেকেই মিজানকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

২৫ জুন পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তাকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হবে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন।