বালিশ উঠানোর প্রতীকী ছবি।

বালিশ কাণ্ডে কোটি কোটি টাকার গরমিল!

প্রতিবেদন থেকে মালামালের হিসাবে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। এই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেবার সুপারিশও করেছে কমিটি।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯, ২২:০০ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৯, ২২:০০
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৯, ২২:০০ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৯, ২২:০০


বালিশ উঠানোর প্রতীকী ছবি।

(প্রিয়.কম) পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য বিছানা, বালিশ ও আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে ক্রয়ের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

১৫ জুলাই, সোমবার গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এমন একটি প্রতিবেদন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করেছে। আগামী ২১ জুলাই বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সেই প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিলের সময় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে পারেন। প্রতিবেদন থেকে মালামালের হিসাবে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। এই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেবার সুপারিশও করেছে কমিটি।

বালিশ কাণ্ড নিয়ে হাইকোর্টে রিট

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন একজন আইনজীবী। গত ১৯ মে আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।

রিট দায়েরের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পত্র-পত্রিকায় আমরা দেখেছি আসবাবপত্র কেনাকাটায় যে অস্বাভাবিক মূল্য ধরা হয়েছে, সেই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটির প্রতি জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তাই আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট করেছি। সুমন বলেন, ‘প্রত্যেক কাজের একটা জবাবদিহিতা থাকা দরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পে যে টাকা খরচ দেখানো হয়েছে- তা এ দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকা। তাই বিষয়টি জবাবদিহিতায় আসা উচিত।’

রিটে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সচিবসহ ৬ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিনসিটি প্রকল্পের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক মূল্যে আসবাবপত্র কেনা ও ভবনে উঠানোর ঘটনা অনুসন্ধানে নামছে দুদক।

বালিশ কাণ্ড বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

গত ২০ মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পের সরঞ্জাম কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুই কমিটির করা তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী আগামী ২১ জুলাই প্রতিবেদনটি দাখিল করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিনসিটি প্রকল্পে ২০ ও ১৬ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা এবং ভবনে উঠানোর কাজে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। 

রূপপুর প্রকল্পের বালিশ-কাণ্ডে সংসদীয় কমিটির অসন্তোষ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। গত ১৮ জুন, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির সভায় এ সুপারিশ করা হয়।

সভা সূত্র জানা যায়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কেনাকাটায় দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। কমিটির সদস্য হাবিবে মিল্লাত বিষয়টি আলোচনায় তোলেন। একটি বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা কীভাবে হয়, সে প্রশ্ন রাখেন তিনি। পরে কমিটির সভাপতি আ ফ ম রুহুল হক এ বিষয়ে মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনের কাছে ব্যাখ্যা চান।

জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য ২১টি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা ওই সব ভবনে থাকবেন। এসব ভবন নির্মাণের কাজ করছে গণপূর্ত বিভাগ। তারা তাদের মতো করে কাজ করছে, বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিচ্ছে। তখন কমিটি প্রশ্ন রাখে, গণপূর্ত বিভাগ নিজেদের ইচ্ছামতো খরচ করবে আর বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় কিছু করবে না বা তদারক করবে না?

এমন প্রশ্নের জবাবে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি তদারক করতে হলে আলাদা প্রকৌশল বিভাগ প্রয়োজন হবে, সেটা নেই। তা ছাড়া পূর্ত বিভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান, এখানে তাদের কাজ সেভাবে তদারক করার সুযোগও নেই। এই কাজ তারা করছে, কোনো ধরনের অডিট আপত্তি এলে তার জবাবও পূর্ত বিভাগকে দিতে হবে।

সংসদীয় কমিটির প্রশ্নের মুখে বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ঘটনা তদন্তে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে একটি রিটও হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল