বিশ্বকাপ ফাইনালের এই সিদ্ধান্তটি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের। ছবি: সংগৃহীত

ওভার-থ্রো’তে ছয় রান: পরিষ্কার ভুল সিদ্ধান্ত!

কী বলছে আইসিসির নিয়ম?

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০১৯, ০৯:৩৪ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৯, ০৯:৩৪
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০১৯, ০৯:৩৪ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৯, ০৯:৩৪


বিশ্বকাপ ফাইনালের এই সিদ্ধান্তটি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ইংল্যান্ড ইনিংসের শেষ ওভারের ওভার-থ্রো। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৫ রান। ট্রেন্ট বোল্টের প্রথম দু’বলে কোনো রান নিতে পারেননি বেন স্টোকস। তৃতীয় বলে ছক্কা মারেন। ৩ বলে তখনো প্রয়োজন ছিল ৯ রানের। ওভারের চতুর্থ বলটি বেন স্টোকস মারেন লং অনের দিকে।

সেখান থেকে বলটি কুড়িয়ে উইকেট রক্ষকের উদ্দেশে ছুঁড়ে দেন মার্টিন গাপটিল। ওই সময় দ্বিতীয় রানের জন্য প্রাণপন ছুটছেন স্টোকস। গাপটিলের ছোঁড়া বলটি উইকেটরক্ষকের কাছে পৌঁছানোর আগেই দ্বিতীয় রান নিতে আসা স্টোকসের ব্যাটে লেগে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ইংল্যান্ডকে ৬ রান উপহার দেন।

ওই রানের জোরেই নিউজিল্যান্ডের সমান স্কোর করে ম্যাচ সুপার ওভার পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। সুপার ওভারও অবশ্য টাই হয়। শেষ পর্যন্ত বাউন্ডারি সংখ্যার বিচারে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।

সেই ওভার থ্রো। ছবি: সংগৃহীত

ফাইনাল শেষে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ওই ওভার থ্রোতে আম্পায়ারদের ৬ রান দেওয়া নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে চলে তুমুল আলোচনা। টেলিভিশন রিপ্লে’তে স্পষ্ট দেখা যায় যে, ডিপ মিডউইকেট থেকে গাপটিল বল ছোঁড়ার সময় স্টোকস ও তার নন-স্ট্রাইক পার্টনার আদিল রশিদ দ্বিতীয় রানের জন্য পরস্পরকে ক্রস করেননি।

আইসিসি’র নিয়ম (১৯.৮) অনুযায়ী ওভার থ্রো’র বাউন্ডারির ক্ষেত্রে ফিল্ডার বল ছাড়ার মুহূর্তে ব্যাটসম্যানরা পরস্পরকে ক্রস করলে তবেই তাদের ফিল্ড রান যোগ হবে ওভার থ্রো’র বাউন্ডারির সঙ্গে।

তাই যদি হয়, তবে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে ওভার-থ্রো’র বাউন্ডারির সঙ্গে বাড়তি এক রান যোগ হওয়া উচিত। অথচ ফিল্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ৬ রানের (২টি ফিল্ড রান ও ওভার-থ্রো’র চার) সংকেত দেন। এক রান কম হলে শেষ ২ বলে জয়ের জন্য ৩-এর বদলে ৪ রান দরকার হতো স্বাগতিকদের। ম্যাচের ছবিটা তখন বদলে যেতেও পারত।

আইসিসির নিয়ম কী বলছে?

ইংল্যান্ডকে এই ছয় রান দেওয়া পরিষ্কার ভুল বলে মনে করেন আইসিসির তিনবারের সেরা সাবেক আম্পায়ার ও ক্রিকেট আইন প্রণয়নকারী সংস্থা এমসিসির উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য সাইমন টোফেল। ফক্সস্পোর্টসকে এই আম্পায়ার বলেন, ‘এটা আম্পায়ারদের জাজমেন্টের ভুল। ইংল্যান্ড ৬ রান নয়, ৫ রান পায়।’

ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইসিসির  মুহুর্তে রং পাল্টানো এ ম্যাচে আম্পায়ারদের কিছু পরিষ্কার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছের সাবেক আম্পায়ার সাইমন টোফেল।

এমসিসির আইন বইয়ের ১৯:৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যাটসম্যান দৌড়ে রান পূর্ণ করার আগেই ওভার থ্রো’তে বাউন্ডারি হলে শুধু ওভার থ্রো’র রান গণনা করা হবে। অর্থাৎ, দৌড়ে নিতে যাওয়া রানটা বাতিল হয়ে যাবে, আর ব্যাটসম্যানও বদল হবে। সে হিসাবে দৌড়ে নেওয়া ২ রানের জায়গায় ইংল্যান্ড পেত ১ রান।

সঙ্গে স্ট্রাইকিং প্রাপ্তে স্টোকসের জায়গায় থাকতেন আদিল রশিদ। আর শেষ ২ বলে তখন জয়ের জন্য ৪ রান প্রয়োজন হতো ইংল্যান্ডের। এই হিসেবে ওভার থ্রোতে ৬ রান দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পরিষ্কারভাবেই ভুল ছিল। যদিও টোফেলের এমন মত একেবারেই মানছে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।

আইসিসির সাফ কথা, অনফিল্ড আম্পায়ররা খেলা চলাকালীন তাদের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই বিষয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা কিছু বলবে না।

প্রিয় খেলা/আশরাফ