এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী। ফাইল ছবি

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৭৩.৯৩

সমাজ উন্নত করতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১১:২৫ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১১:২৫
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১১:২৫ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১১:২৫


এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশের এবারের পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন।

১৭ জুলাই, বুধবার সকাল ১০টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০। এ ছাড়া মাদরাসার আলিমে ৮৮ হাজার ৪৫১ এবং কারিগরিতে এইচএসসি (বিএম) এক লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫৫ দিনেই এই ফল প্রকাশ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সমাজকে উন্নত করতে হলে একটি দেশকে দারিদ্র্য, ক্ষুধামুক্ত এবং উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিক্ষিত জাতিই পারে দেশকে দারিদ্র্য ক্ষুধামুক্ত ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে। দেশ এগিযে যাচ্ছে, যাবে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। এই গতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘এবারও আমাদের ছাত্রীদের পাসের হার একটিু বেশি। জেন্ডার সমস্যা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত। এখন আমাদের বলতে হয়, আমাদের ছাত্রদের ও তাদের পাসের হারের সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে যেন জেন্ডার সমতা এসে যায়। এ বছর পাসের হার ৭৩. ৯৩ ভাগ। এটা ভালো। আশা করি, সামনে পাসের হার আরও বাড়বে।’

গণভবনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ফল দুটোই যেন সময় মতো হয়, যাতে তাদের সময় নষ্ট না হয়। তারা যেন সময় মতো ভর্তি হতে পারে। এর জন্য ৬০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। এর মধ্যেই পরীক্ষার ফল দিতে হবে এবং তা সময়মতোই হয়েছে। এর জন্য প্রতিটি বোর্ড, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। তার সুফলও আমরা পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

এদিকে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত ফল প্রকাশ করবে। আর পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে একযোগে ফল প্রকাশ করা হবে বেলা ১টায়। গত ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল।

যেভাবে ফল পাওয়া যাবে

আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোবাইলের মাধ্যমে ফল পেতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে MAD স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে TEC লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা সমন্বিত ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে পারবে।

৭ দিন পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষার আবেদন

প্রকাশিত ফলে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী ৭ দিন (১৮-২৪ জুলাই) পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে RSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মতি থাকলে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে।

যেসব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যেসব বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এ ক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে। তবে অনলাইন ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ