এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী। ফাইল ছবি

৯০৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস, ৪১টিতে সবাই ফেল

৯ হাজার ৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। ৯০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পাস ও ৪১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৮ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৮
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৮ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৮


এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে আজ। সারাদেশের এবারের পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩। ফলাফলে দেখা গেছে পাসের হার গতবারের চেয়ে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৮৬ জন। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন।

১৭ জুলাই, বুধবার সকাল ১০টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১ এপ্রিল সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। শেষ হয় মে মাসের মাঝামাঝি সময়। ৯ হাজার ৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী, অর্থাৎ শতভাগ পাস করেছেন। অন্যদিকে, ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী এবার পাস করতে পারেননি বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বেড়েছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর পাসের হার ৭৩.৯৩ শতাংশ। এটি গতবারের চেয়ে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি। গতবার পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যাও বেড়েছে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে  ৪৭ হাজার ২৮৬ জন।  গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন। অর্থাৎ এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৮ হাজার ২৪ জন।

পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, ২০১৯ সালে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কেবল উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১ হাজার ৮০৭ জন। অর্থাৎ, ১০ বোর্ডে যতজন জিপিএ-৫ পেয়েছে, এর বেশিরভাগই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৮৬ জন।

গতবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গড় পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৫ হাজার ৫৬২ জন। অর্থাৎ, এবার এইচএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোই বেড়েছে।

অন্যদিকে, এবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৪৩ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৩৬ জন।

এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১০টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন।

বিদেশের কেন্দ্রে পাসের হার ৯৪.০৭ ভাগ

বিদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল আটটি। এই আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ২৭০ শিক্ষার্থী আটটি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে পাসের হার ৯৪.০৭ ভাগ বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

৪১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেননি কেউ

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৪১ শিক্ষা প্রতিষ্টানের কেউ পাস করেনি। অপরদিকে ৯০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। এবার মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ৮ হাজার ৯৮৫টি।

মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৮.৫৬ শতাংশ

এ বছর মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে এবার মোট পরীক্ষা দিয়েছেন ৮৬ হাজার ১৩৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯৭ হাজার ৭৯৩ জন। এবারের পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি ৯ হাজার ৮৫৭ জন শিক্ষার্থী। গতবার এ সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৮৬১ জন।

শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬১৫টি। আর, একজনও পাস করতে পারেনি, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সাতটি। এবছর মোট ৪৪৮টি কেন্দ্রে ২৬৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন। বহিষ্কার হয়েছেন ১৩১ জন।

কারিগরিতেও বেড়েছে পাসের হার ও জিপিএ ৫

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা উভয়ই বেড়েছে। কারিগরি বোর্ডে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ ছাড়া এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৩৬ শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পান ২ হাজার ৪৫৬ শিক্ষার্থী।

কারিগরি বোর্ডে এ বছর ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২০ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১ লাখ ২ হাজার ৭১৫ জন। গড় পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৩৬ জন। ২০১৮ সালে এ বোর্ডে ১ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন ৮৯ হাজার ৮৯ জন। পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পান ২ হাজার ৪৫৬ শিক্ষার্থী।

৫৫ দিনে এইচএসসির ফল দিতে পারায় খুশি প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যেকোনো দেশের উন্নয়নে সমাজের উন্নয়নে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশকে উন্নত এবং দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ৭৩ দশমিক ৯৩ ভাগ পাসের হার এটা ভালো। আমরা এখন ৬০ দিনে ফলাফল দিতে পারছি। এবার ৫৫ দিনে এইচএসসির ফলাফল দিতে পারায় আমি খুব খুশি। এজন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ। প্রতিটি পরীক্ষার ফল সময় মতো প্রকাশ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

যেভাবে ফল পাওয়া যাবে

আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোবাইলের মাধ্যমে ফল পেতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।

মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে MAD স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে TEC লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা সমন্বিত ওয়েবসাইট www.educationboardresults.gov.bd এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে পারবে।

৭ দিন পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন

প্রকাশিত ফলে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী ৭ দিন (১৮-২৪ জুলাই) পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে RSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।

ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মতি থাকলে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে।

যেসব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যেসব বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এ ক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে। তবে অনলাইন ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ