দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। ছবি: সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবে জাপা

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের মধ্যে আলোচনা করতে হবে।’

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০১৯, ২০:২১ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:০০
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০১৯, ২০:২১ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:০০


দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ১৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা এ দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ও দলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাপার নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

তিনি বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী জিএম কাদের সাহেব আজকে থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। আপনারা জানেন, এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় ২০ এর ১/ক ধারা অনুযায়ী উনার অবর্তমানে জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করে গেছেন।’

নতুন চেয়ারম্যান জি এম কাদের এ সময় মহাসচিবের পাশেই ছিলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভ রায়, এসএম ফয়সাল চিশতী, মো. আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান, মেজর (অব.) খালেদ আখতার প্রমুখ। তবে এরশাদের স্ত্রী ও দলের সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ ছাড়াও প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, দেলোয়ার হোসেন খাঁন, ফখরুল ইমাম, মুজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম, দিলারা খন্দকারসহ দলের সিনিয়র নেতাদের দেখা যায়নি।

সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

গত ৪ মে এক সাংগঠনিক নির্দেশে জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছিলেন, ‘আমি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এই মর্মে ঘোষণা করছি যে, আমার অবর্তমানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব আমার ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদের পালন করবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য আমি জাতীয় পার্টির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং নির্দেশ প্রদান করছি।’

পার্টির নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব বা বিভেদ নেই। সবাই ঐক্যবদ্ধ আছেন। পল্লীবন্ধুর শোক শক্তিতে পরিণত করে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে আরও শক্তিশালী করবো।’

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জিএম কাদের বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের দলের মধ্যে আলোচনা করতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের নেতৃত্ব নিয়ে এরশাদপত্নী রওশন এরশাদের সঙ্গেও শীতল সম্পর্ক চলছে জি এম কাদেরের। তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার পর থেকেই সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন দলের কর্মসূচিতে আসছেন না।

এ অবস্থায় এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির হাল কে ধরবেন, কীভাবে এ দল পরিচালিত হবে- সেসব প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরছিল। এমন অবস্থায় জিএম কাদেরকে দলের চেয়াম্যান নির্বাচিত করা হলো।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল