ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ ১১ জন নিহতের ঘটনাটি ঘটে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। ছবি: সংগৃহীত

অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে নিহত ১১: ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

এ ঘটনায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি), এলজিআরডি সচিব এবং এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীকে বিবাদী করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০১৯, ২১:১৬ আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৯, ২১:১৬
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০১৯, ২১:১৬ আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৯, ২১:১৬


ট্রেনের ধাক্কায় বর-কনেসহ ১১ জন নিহতের ঘটনাটি ঘটে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায়। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে বর-কনেসহ ১১ জন নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে রিটে।

১৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব।

কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

এর আগে গতকাল (১৭ জুলাই) বুধবার এ ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১১ জনের পরিবারকে কোটি টাকা করে দিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এ ছাড়া আহতদের ১০ লাখ টাকা করে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

রিটে বিবাদী হলেন যারা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি

এ ঘটনায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি), এলজিআরডি সচিব এবং এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীকে বিবাদী করা হয়েছে।

নিহতের ঘটনা কখন ঘটে?

গত ১৫ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের বেতকান্দি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও মাইক্রোবাস সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১১ জন নিহত হন। নোটিশ গ্রহণের পর এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে আইনের আশ্রয় নেওয়া হবে বলে জানান ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব।

লেভেল ক্রসিং স্থাপন নিয়ে আবেদনে কি বলা আছে?

এ ছাড়া রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো লেভেল ক্রসিং স্থাপন থেকে বিরত থাকা, সারা দেশের অবৈধ লেভেল ক্রসিং বন্ধ, সব লেভেল ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যথাযথ গেইটম্যান দেওয়া এবং ট্রেনের ছাদে যাত্রী বহন না করতে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণে কি চাওয়া হয়েছে?

যারা নিহত ও আহত হয়েছেন তাদের জন্য আবেদনে ক্ষতিপূরণের কথা বলা হয়েছে। নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য এক কোটি ও আহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণেই কি সমাধান?

হতাহতদের জন্য ক্ষতিপূরণ কতটুকু কাজে আসবে? এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, আসলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে যত টাকাই দেওয়া হোক না কেন তাতে পোষাবে না। কারণ টাকা দিয়ে তো মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা যাবে না। এই টাকাটা দিয়ে নিহত ও আহত পরিবারের  সদস্যরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবে। পরিবারের কিছু চাহিদা মেটানো যবে। 

যারা নিহত হয়েছেন

সদ্য বিবাহিত বর সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে রাজন শেখ (৩২), কনে উল্লাপাড়া উপজেলার এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (২১), বরের মামা কান্দাপাড়া গ্রামের শামীম হোসেনের ছেলে আলিফ ওরফে বায়েজিদ (৯), বরযাত্রী চুনিয়াহাটি গ্রামের ভাষা শেখ (৫৫), রামগাতি এলাকার আব্দুল মতির ছেলে আব্দুস সামাদ (৫০), তার ছেলে শাকিল (২০), বরের বন্ধু দিয়ারধানগড়া এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে শরীফুল ইসলাম (২৬), চাচাতো ভগ্নিপতি রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণদিয়ার গ্রামের আলম শেখের ছেলে খোকন শেখ (৩৫), মমতা বেগম (৩৫), মাইক্রোবাস চালক কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের নূরে আলম স্বাধীন (৫৫) ও চালকের সহকারী সয়াধানগড়া এলাকার সুরুত আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ সুজন (২১)। 

আহতরা হলেন

বরের ভগ্নিপতি পৌর এলাকার রায়পুর এলাকার আবু মুছার ছেলে সুমন (৩০), কান্দাপাড়া গ্রামের ইয়াকুবের ছেলে বায়েজিদ (২৮), মাসুদ সরকারের ছেলে ইমরান সরকার (২৭), বাবুর ছেলে লাদেন (১৬) ও টুটুল (৩০)।

নিহত ব্যক্তিদের লাশ গ্রহণ করেন যারা

পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়া রাতেই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৬ জুলাই বেলা ১১টার থেকে দুপুর (বাদ জোহর) পর্যন্ত নিজ নিজ এলাকায় নিহত ব্যক্তিদের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ ঘটনায় জেলা প্রসাশনের ভূমিকা

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার ও আহতদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল