প্রতীকী ছবি

প্লে-স্টোরে থাকা সব অ্যাপই কি নিরাপদ?

পূর্বে অন্য কোনো সোর্স বা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ইনস্টলের প্রবণতা বেশি থাকলেও এখন শিক্ষিত মানুষের মাঝে এই প্রবণতা অনেকটা কমে এসেছে।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩০ আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩৩
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩০ আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩৩


প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) প্রায় ১০ বছর আগে এক প্ল্যাটফর্মে সব অ্যাপ নিয়ে আসার ঘোষণা দেয় গুগল। আর এক স্থানে সব অ্যাপ পাওয়ার এই প্ল্যাটফর্ম গুগল প্লে-স্টোরের সঙ্গে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের চেনাজানা পাকাপোক্ত হয় ২০১২ সালে। আজ অবধি অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চালিত মোবাইল ব্যবহারকারীদের কাছে এই প্লে-স্টোরের ব্যবহার তুঙ্গে।

এর মাঝে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে তাদের অ্যান্ড্রয়েডের দিকে নজর দিতে হয়েছে। যেমনটি ঘটছে নোকিয়ার সিম্বিয়ান অপারেটিংয়ের ক্ষেত্রেও। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব অপারেটিং সিস্টেম না দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ অ্যান্ড্রয়েডের সমৃদ্ধশালী প্লে-স্টোর।

বর্তমান সময়ে হাতে থাকা স্মার্টফোন এবং সেখানে থাকা অ্যাপস্টোরটিই যেন অনেকের কাছে সমস্যা সমাধানের মাধ্যম। জ্যোতির বিদ্যা থেকে শুরু করে যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবহারকারীরা দারস্থ হয় এই প্লে-স্টোরে।

পূর্বে অন্য কোনো সোর্স বা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ইনস্টলের প্রবণতা বেশি থাকলেও এখন শিক্ষিত মানুষের মাঝে এই প্রবণতা অনেকটা কমে এসেছে। তবে তাদের মধ্যে প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টলের প্রবণতা অনেকটাই বেশি। অধিকাংশরই ধারণা প্লে-স্টোরে যেসব অ্যাপ রয়েছে সেগুলো তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হবে না।

আসলেই কী তাই?

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিসটার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সময়ের ব্যবধানে প্লে-স্টোরে বর্তমানে অ্যাপ রয়েছে ২৭ লাখ (জুন ২০১৯)। যেখানে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী গুগল প্লে-স্টোরে অ্যাপের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৬ হাজার।

আপাত দৃষ্টিতে প্লে-স্টোরের ২০০৯ সাল এবং চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত অ্যাপের সমীকরণ দেখলে মনে হতে পারে গত কয়েক বছরে প্লে-স্টোরের সংখ্যা দেড়শ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্ট্যাটিসটা বলছে ঘটনা আসলে ভুল। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মার্চে প্লে-স্টোরে অ্যাপ ছিল ৩৬ লাখ। ওই মাসেই সর্বোচ্চ অ্যাপ ছিল প্লে-স্টোরে।

এরপর থেকে প্রতি মাসেই কমছে এই অ্যাপের সংখ্যা। আবার কখনো বাড়ছে। বাদ পড়ার তালিকার মধ্যে এমন কিছু অ্যাপ ডেভেলপার রয়েছে যাদের নিজ থেকে বাদ দিচ্ছে গুগল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে সবশেষ প্লে-স্টোর থেকে সাতটি অ্যাপ সরানোর খবর জানা গেছে।

জানা গেছে, এই অ্যাপগুলো যেকোনো স্মার্টফোনের নজর রাখতে সক্ষম। তবে এর জন্য অপর ব্যবহারকারীর অনুমতির প্রয়োজন হয়। অ্যাপগুলো হলো- ট্রাক ইমপ্লয়ি চেক ওয়ার্ক ফোন অনলাইন স্পাই ফ্রি, স্পাই কিডস ট্রাকার, ফোন কল ট্রাকার, মোবাইল ট্রাকিং, স্পাই ট্রাকার, এসএমএস ট্রাকার, ইমপ্লয়ি ওয়ার্ক স্পাই। গুগল প্লে-স্টোরে থাকা এসব অ্যাপের মাধ্যমে অন্যের স্মার্টফোনের উপর নজরদারি রাখা যেত।

এই ঘটনার কিছুদিন আগে গুগল কর্তৃপক্ষ প্লে-স্টোর থেকে লুডু মাস্টার নিউ লুডু গেম ২০১৯ ফর ফ্রি, স্কাই ওয়ারিওরস: জেনারেল অ্যাটাক, কালার ফোন ফ্ল্যাস- কল স্ক্রিন থিম, বায়ো ব্লাস্ট: ইনফিনিটি ব্যাটেল শুট থিম ভাইরাস, শুটিং জেটসহ মোট ১৬টি অ্যাপ মুছে ফেলে। এজেন্ট স্মিথ নামের অ্যাডওয়ারে আক্রান্ত হওয়ার কারণে এসব মুছে ফেলা হয়।

এর আগে ২০১৭-১৮ সালে নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক ডেভিড ছফেন্সের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল প্লে-স্টোরের ১৭ হাজার অ্যাপের উপর পরীক্ষা চালায়। তার দল ৯ হাজার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ খুঁজে পেয়েছেন যেগুলো গোপনভাবে ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনের স্ক্রিনের স্ক্রিনশট নিয়ে থাকে। অর্থাৎ প্লে-স্টোরে থাকলেই অ্যাপটি ক্ষতির কারণ হবে না তা শতভাগ বলা যাবে না।

অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে

প্রয়োজনের অতিরিক্ত অ্যাপ ইনস্টল করা কখনোই বুদ্ধিমানের পরিচয় দেয় না। তবে প্রয়োজনের খাতিরে বেশ কিছু অ্যাপ ইনস্টল করতে হয় ব্যবহারকারীদের।

অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে বেশ কিছু বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপটির পরিষেবার শর্তাবলী কতটুকু শক্তিশালী, যোগাযোগ করার ঠিকানা, ট্রাবলশুটিং এফএকিউ, অ্যাপটির ডেভেলাপার প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য।

এ ছাড়া প্রতিটি অ্যাপ ইন্সটল করার আগে অ্যাপটি কি ধরনের পারমিশন নিয়ে থাকে এসব জেনে-বুঝে অ্যাপ ইনস্টল করা উচিত।

প্রিয় প্রযুক্তি/রুহুল