যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশী নারী প্রিয়া সাহা। ছবি সংগৃহীত

প্রিয়া সাহার অভিযোগের বিষয়ে যে যা বললেন

প্রিয়া সাহা আমাদের সংগঠনের ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। তবে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন না।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৯, ১৪:৪৬ আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৯, ১৪:৪৬
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৯, ১৪:৪৬ আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৯, ১৪:৪৬


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশী নারী প্রিয়া সাহা। ছবি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত গোষ্ঠীর প্রতিনিধির কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য শোনার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নারী প্রিয়া সাহা ‘সংখ্যালঘুদের’ নিয়ে একটি অভিযোগ করেছেন।

গত ১৬ জুলাইয়ের ওই অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে ও দেশে থাকতে পারছে না, ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান গুম হয়ে গেছে।’

তার ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ও সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বুধবার হোয়াইট হাউজে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ওই অভিযোগ করেন প্রিয়া সাহা।

বেসরকারি টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মাইদুর রহমান রুবেল তার ফেসবুকে লিখেন, ‘প্রিয়া সাহা নামের এই হিন্দু নেত্রী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নালিশ করেছে বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানকে গুম করছে মুসলিম মৌলবাদীরা। প্রশ্ন হলো গুম হওয়ার পরও বাংলাদেশে কত হিন্দু আছে? তবে মুসলমান কত? আর বাংলাদেশের মানুষইবা কতো?

অথচ প্রিয়া পিসি হিন্দুদের উপর আঘাত আসলে এই দেশে মুসলিমরাই প্রতিবাদ করে, মানববন্ধন করে। আর আপনি মুসলিমদের নিয়ে উপহাস করলেন।’

আবুল কালাম আজাদ তিনি লিখেছেন,  ‘দয়া করে অপরাধীকে অপরাধী হিসাবেই দেখুন। ধর্ম পরিচয় দিয়ে নয়। মনে রাখা দরকার---আমাদের দেশের আইন কিন্তু অপরাধীর শাস্তি নির্ধারণ করার সময় ধর্মীয় পরিচয় আমলে নেওয়া না। কেবল অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে। এবং ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারো দণ্ড লঘু-গুরুও করে না। নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য সকল ধর্ম-বর্ণের অপরাধীর শাস্তি’ই এক এবং অভিন্ন। তবে নাগরিক হিসাবে অপরাধীর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আমরা অনেকেই এতো শোরগোল করি কেন? এ জাতীয় মানসিকতা পরিহার করা বাঞ্চনীয়।’

এদিকে সাংবাদিক ও কারুশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয়া সাহার বিষয়টি নিয়ে জাতি বিক্ষুদ্ধ, কিন্তু এটাকে ইস্যু করে যারা সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা প্রিয়া সাহার চেয়েও বড় দেশদ্রোহী।  সে তার ব্যক্তিস্বার্থে অথবা অন্য কোনো চক্রান্তের অংশ হিসাবে তার সম্প্রদায়কে ব্যবহার করতে চেয়েছে। এমন হীন কর্ম আগেও হয়েছে। আমরা চক্রান্ত উন্মোচন করব। কিন্ত এটা নিয়ে কাউকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে দেবো না।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আপাত দৃষ্টিতে এই প্রিয়া সাহাদের শুধু আওয়ামী লীগ বিরোধী মনে হয়। আসলে তারা ভীষন ভাবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটিরই বিরোধী। প্রিয়া একা নয়, এটি একটি চক্র। নানা রকম সামজিক আন্দোলন, এনজিও বা কোনো প্রগতিশীল সংগঠনের ছাপ গায়ে তারা চমৎকার ছদ্মবেশ নিয়ে আছেন। ফলে প্রত্যক্ষ সহযোগিতাও পাচ্ছেন আমাদের বড় বড় নেতা বা মন্ত্রী আমলাদের। জামাত যুদ্ধাপরাধীদের আমরা সহজেই চিহ্নিত করতে পারি, কিন্তু এই ছদ্মবেশীদের অনেকেই চিনতে পারি না। এরা জামাত জঙ্গীদের চেয়েও ভয়ংকর। এখন মনে হয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’

এ ছাড়াও রাজীব আহমদ নামে একজন ব্যক্তি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেছেন, তার বা‌ড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার জ‌মি জিরাৎ বেদখল হয়ে গেছে। অ‌ভি‌যোগ খ‌তি‌য়ে দেখা উ‌চিত। সরকারের উ‌চিৎ তদন্ত ক‌রে দেখা, প্রিয়া সাহা বা তার প‌রিবা‌রের স‌ঙ্গে ওপর নির্যাতন হয়েছে কী না। তাদের জ‌মি দখল হয়েছে কী না। প্রিয়ার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ হ‌লে তার বিরু‌দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পা‌রে। কিন্তু কিছু প্রমাণের আ‌গেই প্রিয়া সাহাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দি‌য়ে তার সাজার জন্য ঝাঁ‌পি‌য়ে পড়াটা অসহিঞ্চুতা। যা প্রকা‌ন্তরে প্রিয়ার অভিযোগ্যকে ন্যায্যতা দেয়।’

প্রিয়া সাহার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের নারী প্রিয়া সাহা সংখ্যালঘুদের নিয়ে কেন অভিযোগ করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ১৯ জুলাই শুক্রবার রাতে প্রতিমন্ত্রী তার ফেসবুক পেজে এক বার্তায় এ তথ্য জানান।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের এনজিওদের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তর মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে। তার অভিযোগগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পও জানেন যে তার কাছেও মিথ্যা অভিযোগ করা হয়। মার্কিন প্রশাসন তাদের এখানকার দূতাবাসের মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত তথ্য পেয়ে থাকে এবং আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগে থাকি।’

‘প্রিয়া সাহার সমালোচনা করতে গিয়ে অনেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমালোচনা করছেন। এটাও ঠিক নয়। যেমনটি নয় প্রিয়া সাহার করা অভিযোগ। সমাজের সব স্তরে যার বিচরণ এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যার যোগাযোগ তার এইরকম আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।’

শাহরিয়ার আলম তার বার্তায় বলেন, ‘ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থে বা না বুঝে এটার ক্ষতি করে ফেলেন। সবার উচিত এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা।’

প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিশ্চয়ই চক্রান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংখ্যালঘুদের নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের নারী প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তাতে চক্রান্ত দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন প্রিয়া সাহা।

প্রিয়া সাহার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করবে না এবং করেও না। কারণটা হলো, আমাদের এটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমের ফলে আমরা অর্জন করেছি, যেটা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল।’

তিনি বলেন, ‘যে মহিলাটি বলছেন, এই মহিলাটি তো কোনো দিন আমাদের কাছে দুঃখের কথা বলেননি। আমাদের পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টিতে থাকে, যাতে কোনো রকম সংখ্যালঘুরা কোনো জায়গায় অত্যাচারিত না হয়। এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। এইটা নিশ্চয়ই কোনো চক্রান্ত কিংবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই মহিলাটি বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি।’

প্রিয়া সাহার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাকে এখনো বলব, এই ধরনের কোনো ঘটনা যদি ঘটে থাকে তাহলে যেন আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। আমরা এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা এখন পর্যন্ত খুঁজে পাইনি।’

হোয়াইট হাউজে প্রিয়া সাহার বক্তব্য তার নিজস্ব: রানা দাশগুপ্ত

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, তাদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু নিপীড়নের’ যে অভিযোগ করেছেন তা একান্তই তার নিজস্ব বক্তব্য, সংগঠনের নয়।

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বুধবার হোয়াইট হাউজে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ওই অভিযোগ করেন প্রিয়া সাহা। তার বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘তার সংগঠন থেকে তিনজন প্রতিনিধিকে ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে পাঠানো হয়েছিল। পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অশোক বড়ুয়া ও নির্মল রোজারিও এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী ছিলন ওই প্রতিনিধি দলে। এর বাইরে আমাদের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। প্রিয়া সাহা আমাদের সংগঠনের ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। তবে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন না।

তিনি বলেন, প্রিয়া যে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন, তা তিনি জেনেছেন শুক্রবার গণমাধ্যম থেকে।

৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রিয়া আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটর।

প্রিয়া সাহার বক্তব্যের ইস্যুতে যুক্তরাষ্টের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার

যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি’ শীর্ষক তিন দিনের ওই সম্মেলনের সমাপনীতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনও বক্তব্য দেন। তার আগে বুধবার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে হোয়াইট হাউজে যান।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডা বৌদ্ধ বিহারে এক অনুষ্ঠানে গেলে সাংবাদিকরা তাকেও এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ থেকে পাঁচ জন প্রতিনিধি এবং দুইজন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে পাঠিয়েছিল। সেখানে প্রিয়ার বক্তব্য নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

তবে মিলার বলেন, ‘রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়ে আসার পর গত আট মাসে সবগুলো বিভাগ ঘুরে এবং প্রধান চার ধর্মের উপাসনালয়ে গিয়ে তার ধারণা হয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ দেখিয়েছে।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মসজিদ, মন্দির, গির্জা আর প্যাগোডা ঘুরে ইমাম, পুরোহিত আর পাদ্রিদের কাছ থেকে একটি বার্তাই তিনি পেয়েছেন, ঐক্যবদ্ধ না থাকলে কোনো দেশের পক্ষেই উন্নতি করা সম্ভব না। এটা আমার দেশের জন্য একটা শিক্ষানীয় বিষয়, পুরো বিশ্বের এখান থেকে শেখার আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে যা বললেন প্রিয়া সাহা

প্রিয়া সাহা বলেন, ‘প্লিজ আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। এখনো সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ আছে। আমার অনুরোধ, আমাদের সাহায্য করুন। আমরা দেশ ছাড়তে চাই না। তারা আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার জমি কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু বিচার হয়নি।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতে চেয়েছিলেন- কারা তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, জমি কেড়ে নিয়েছে।

উত্তরে প্রিয়া বলেন, ‘তারা মুসলিম মৌলবাদী, তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান গুম হয়ে গেছে।’

সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবৃতি

সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের প্রিয়া সাহা যেসব কথা বলেছেন, তা বাংলাদেশের হাজার বছরের চেতনা বিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের দর্শনকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করার সামিল। প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশের শুভবোধসম্পন্ন সব মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশ প্রিয়া সাহার এই মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ করছে।’

প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশ বিরোধী : ন্যাপ মহাসচিব

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিকট বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে প্রিয়া সাহার বক্তব্য সম্পূর্ণরুপে দেশ বিরোধী ও রাষ্ট্র বিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রতিবাদ বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ আমাদের বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িক বন্ধনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমাদের প্রিয় এই মাতৃভূমি। আমাদের প্রিয় দেশে আমরা সবাই অনুষ্ঠানে যাই, একসাথে খাই। এমনকি পাশাপাশি বাস করা এক পরিবারের পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমরা একসাথে অংশ গ্রহন করি।

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, আমাদের ভাতৃত্ববোধ, আবহমান কাল ধরে চলে আসা এ' সম্প্রীতি নষ্ট করতে কারা এখন কাজ করছে। কারা নাটাইয়ের পেছনে সুতো ধরে পুতুল নাচের খেলা শুরু করেছে। দেশের বিরুদ্ধে কোথায় যেনো একটি গভীর ষড়যন্ত্রের আঁচ পাচ্ছি। এরা ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা, হিন্দু-মুসলমানদের বিরাজমান সৌহার্দপূর্ণ এই পরিবেশকে ধ্বংস করার জন্যেই উঠে পড়ে লেগেছে।

তিনি বলেন, এইভাবেই একদিন ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে ডেকে এনে এ'দেশের স্বাধীনতাকে দু'শ বৎসরের জন্যে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিলো। যাদের জন্যে দু'শ বৎসরের গোলামী পুরো ভারতবর্ষের জনগণ ভোগ করেছিলো সেই মীর জাফর, ইয়ার লতিফ, ঘসেটি বেগম, রাজা রাজভল্লভ, উঁমিচাদ, জগৎশেঠ, রাজা নন্দকুমারদের বংশধরেরা এখনো এই দেশে বহাল তবিয়তে বসবাস করছে।

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘এদেশের আলো-বাতাসে বড় হয়ে সুযোগ পেলেই দেশে কিংবা দেশের বাইরে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। এসব কিসের ইঙ্গিত। কার স্বার্থে করছে এসব। সরকারের উচিত অবিলম্বে এ সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শক্তহাতে মোকাবেলা করা। অন্যথায় দেশ-জাতি ও রাষ্ট্রকে কঠিন মূল্য দিতে হতে পারে।’

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে তথ্য দেওয়া প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করবেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে তিনি এ ঘোষণা দেন।

প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে বাংলাদেশের জন্য একটি চক্রান্ত উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিকট যে বক্তব্য উনি দিয়েছেন, এটি পুরোপুরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। উনি বলেছেন, প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ মাইনরিটি মানুষকে আমরা নাকি বাংলাদেশ থেকে গুম করে দিয়েছি এবং বাকি যারা আছে তারাও নাকি গুম হওয়ার পথে। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি জায়গায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, আমি মনে করি এটা শুধু ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না; এটা রাষ্ট্রদ্রোহের এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। রবিবার আদালত খোলা হলে আমি প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা করব।’

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ