২০১০ সাল থেকে নন ক্যাডার পদে নিয়োগে সুপারিশের জন্য বিধিমালা তৈরি করে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

৯ বছরে ক্যাডার পদে ২৮ হাজার, নন ক্যাডারে ৮ হাজার নিয়োগ

গত ৯টি বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় (লিখিত ও মৌখিক) উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬২ হাজার ৮৬৮ জন। এদের মধ্যে ক্যাডার পদে নিয়োগ পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯৪৮ জন। আর নন ক্যাডার পদে ৮ হাজার ১৫৭ জন নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৮ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৮
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৮ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৮


২০১০ সাল থেকে নন ক্যাডার পদে নিয়োগে সুপারিশের জন্য বিধিমালা তৈরি করে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সরকারের ২৭টি ক্যাডার সার্ভিসের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে থাকে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। প্রতিটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীরা তিন ধাপে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রথমে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। সরকার ২০১০ সাল থেকে নন ক্যাডার পদে নিয়োগে সুপারিশের জন্য বিধিমালা তৈরি করে। এর ফলে ২৮তম বিসিএস থেকে নন ক্যাডার নিয়োগের সূচনা হয়। গত ৯ বছরে বিসিএস থেকে ক্যাডার পদে ২৭ হাজার ৯৪৮ জন আর নন ক্যাডারে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) ৮ হাজার ১৫৭ জন পিএসসির সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন।

নন ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা-২০১০ এর আওতায় ২০১০ সাল থেকে বিসিএস পরীক্ষার সব স্তরে উত্তীর্ণ কিন্তু ক্যাডার পদ স্বল্পতার কারণে ক্যাডার পদে সুপারিশকৃত নন—এমন প্রার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। প্রথমদিকে ২৮তম বিসিএস থেকে ৩২তম বিসিএস পর্যন্ত শুধু নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হতো। পরে ২০১৪ সালে বিধিমালা সংশোধন করে নন ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির (১০ম, ১১তম ও ১২তম গ্রেড) পদে নিয়োগের সুপারিশের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। এর ফলে ৩৩তম বিসিএস থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশ করে আসছে পিএসসি।

তিন ধাপে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রথমে ক্যাডার পদে নিয়োগ শেষ হলে শুরু হয় নন ক্যাডার নিয়োগের কার্যক্রম। নন ক্যাডার পদে নিয়োগের কার্যক্রম পরবর্তী বিসিএসের চূড়ান্ত ফল দেওয়ার আগ পর্যন্ত অব্যাহত রাখে পিএসসি। 

একসময়ে একাধিক বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও চাকরি পাননি হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। কিন্তু এখন একটি বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরি পাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। কেননা আগে বিসিএস থেকে নন ক্যাডার প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণি পদে নিয়োগের সুযোগ না থাকায় কাউকে নিয়োগের সুপারিশ করতে পারত না এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

গত ৯টি বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় (লিখিত ও মৌখিক) উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬২ হাজার ৮৬৮ জন। এদের মধ্যে ক্যাডার পদে নিয়োগ পেয়েছেন ২৭ হাজার ৯৪৮ জন। আর নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে ৩৪৬৭ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির পদে (৩৭তম বিসিএস চলমান) ৪৬৯০ জন নিয়োগ পেয়েছেন।

জানা গেছে, ৩৭তম বিসিএসে দ্বিতীয় শ্রেণিতে আরও দেড় হাজার নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গত ৯টি বিসিএসে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে নিয়োগের জন্য এখন পর্যন্ত (৩৭ বিসিএস দ্বিতীয় শ্রেণির নিয়োগ চলমান) ৮ হাজার ১৫৭জন পিএসসির সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। এ হিসেবে গত ৯টি বিসিএসে নন ক্যাডারে নিয়োগ হবে প্রায় ১০ হাজার। আর প্রতিটি বিসিএসেই নন ক্যাডারে নিয়োগের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এর ফলে মেধাবীদের হতাশাও কাটতে শুরু করেছে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে যেকোনো সময়ের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বিসিএসের জন্য নিজেদের তৈরি করতে পড়ার টেবিলে অধিকতর মনোযোগী হচ্ছে।

পিএসসি সূত্রে জানা যায়, ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয় ৫১০৫ জন। এদের মধ্যে ক্যাডার পদে ২১৯০ জন নিয়োগ পায়। আর নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগ পায় ২৯৮ জন। ২৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয় ৫০৬২ জন। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ১৭২২ জন নিয়োগ পায়। আর নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণিতে ১৯৩ জন নিয়োগ পায়। ৩০তম বিসিএসে ৫৮১০ জন উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ২৩৬৭ জন নিয়োগ পায়। আর নন ক্যাডারে প্রথম শ্রেণিতে নিয়াগ পায় ৩৬৩ জন।

৩১তম বিসিএসে ৫৪৮৯ জন উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ২০৭২ জন নিয়োগ পায়। আর নন ক্যাডারে প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগ পায় ১২০ জন। ৩২তম (বিশষ) বিসিএসে ২৫৯২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮০ জন ক্যাডারে পদে নিয়োগ পায়। আর নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণিতে ৬৩ জন নিয়োগ পায়। ৩৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয় ১৫৯৫১জন। এর মধ্যে ৮১১৫ জন ক্যাডারে পদে নিয়োগ পায়। আর নন ক্যাডারে প্রথম শ্রেণির পদে ৩৭০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ৫২৩ জন নিয়োগ পায়।

৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয় ৬৫৮৪ জন। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ২১৫৯ জন। আর নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে ৪০৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণি পদে ১৮৪৮ জন নিয়োগ পায়। ৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয় ৫৫১৭ জন। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ২১৫৮ জন। আর নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে ৬৯২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ১৩১৪ জন নিয়োগ পায়। ৩৬তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয় ৫৯৯০ জন। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ২৩২৩ জন নিয়োগ পায়। আর নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির পদে ২৮২ জন দ্বিতীয় শ্রেণির পদে ১০০৫ জন নিয়োগ পায়। ৩৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয় ৪৭৬৮ জন। এর মধ্যে ক্যাডার পদে ১৩১৪ জন নিয়োগ পায়। আর নন ক্যাডার নিয়োগ চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির পদে ৬৭৭ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি।

৩৭তম বিসিএসের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নন ক্যাডারে নিয়োগের বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক জানান, তারা বেশ কিছু দ্বিতীয় শ্রেণির (নন ক্যাডার) শূন্য পদের তালিকা পেয়েছেন। দ্বিতীয় শ্রেণির পদের চাহিদা প্রায় ৩০০। এ ছাড়া প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের পদ আছে প্রায় আড়াই হাজার।

মোহাম্মদ সাদিক জানান, অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ দিতে তারা চেষ্টা করেন।

পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘স্বচ্ছতার সাথে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পিএসসির প্রতি শতভাগ আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। বিসিএস থেকে ক্যাডারের বাইরে নন ক্যাডার নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়াতে মেধাবীরাই উপকৃত হচ্ছেন। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে নন ক্যাডার নিয়োগ বিধিমালা পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় উপহার।’

প্রিয় সংবাদ/কামরুল/রুহুল