প্রিয়া সাহা (বামে) ও ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। ফাইল ছবি

প্রিয়ার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ, সুমনের বিরুদ্ধে শুরু

সুমনের মামলাটি খারিজ হয়ে যাওয়ার পরই হিন্দু আইনজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি করা হলো।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:২৮ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:২৮
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:২৮ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:২৮


প্রিয়া সাহা (বামে) ও ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নালিশের পরই সমালোচনা শুরু হয় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে। প্রিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন আদালতে মামলাও হয় বেশ কয়েকটি। কিন্তু মামলাগুলোর অধিকাংশই খারিজ হয়ে যায়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রিয়া সাহার বক্তব্যের জন্য তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। অন্যান্য বিষয়ের মতোই প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে মামলা করেন সুমন। সুমনের মামলাটি খারিজ হয়ে যাওয়ার পরই হিন্দু আইনজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি করা হয়।

প্রিয়া সাহা ‍ও ব্যারিস্টার সুমনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আসেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সায়েদুল হক সুমন। তিনি সিলেটের বাসিন্দা। তিনি নিজ এলাকার পাশাপাশি জাতীয় বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক ইস্যু নিয়ে উচ্চ আদালতে রিটের পাশাপাশি মামলাও করে থাকেন।

আর প্রিয়া সাহা হলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক। এ ছাড়া তিনি ‘দলিত কণ্ঠ’ নামের একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সে ‘দলিত কণ্ঠ’ পত্রিকায় প্রিয়া সাহার পুরো নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রিয় বালা বিশ্বাস। বয়স দেখানো হয়েছে ৫৪ বছর। পিতার নাম- মৃত নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। পিরোজপুরের বাসিন্দা তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রিয়া সাহা ছাত্রজীবনে ছাত্রইউনিয়নরে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের কাছে কি নালিশ করেছিলেন প্রিয়া সাহা?

গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ হয় প্রিয়ার। সেখানে নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, জমি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আইনি সুরক্ষা পাননি। নিপীড়ন থেকে বাঁচতে ট্রাম্পের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে এবং দেশে থাকতে পারছে না। দেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ‘গুম’ হয়ে গেছেন। দয়া করে বাংলাদেশি জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’

প্রিয়া সাহার বিষয়ে লাইভে এসে যা বলেছিলেন সুমন

গত শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে উনি (প্রিয়া সাহা) যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পুরোপুরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। আমাদের দেশ থেকে নাকি ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ গুম হয়েছে, হারিয়ে গেছে। বাকি যারা আছে তারাও নাকি গুম হওয়ার পথে। যুক্তরাষ্ট্রের যিনি অ্যাম্বাসেডর উনি বলেছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের একজন সিটিজেন (নাগরিক) হয়ে উনি (প্রিয়া সাহা) আমেরিকার মতো একটি জায়গায় গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটা আমি মনে করি, শুধু ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন নয়। এটা রাষ্ট্রদ্রোহ, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র। এজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী রবিবারে কোর্ট (আদালত) খোলার সঙ্গে সঙ্গে আমি উনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে মামলা করব।’

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলাগুলো খারিজ

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তুলে যেসব মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল তার বেশিরভাগই খারিজ হয়ে গেছে। ২১ জুলাই রবিবার ঢাকা, যশোর, নাটোর, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসব মামলার আবেদন করা হয়।

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে যে মামলাটি করেছিলেন ব্যারিস্টার সুমন

গতকাল ২১ জুলাই প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আবেদনটি খারিজ করেন।

সুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা

সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কটূক্তি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মামলাটি করা হয়।

২২ জুলাই, সোমবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারক আস-শামস জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলা করেন গৌতম কুমার এডবর নামে এক সমাজসেবক। এ বিষয়ে আদালত কোনো আদেশ দেননি। তাকে আইনগত সহায়তা করেন সুমন কুমার রায় নামের এক আইনজীবী।

তিনি জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, গেল ১৯ জুলাই ফেসবুকে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন হিন্দু ধর্মালম্বীদের নিয়ে কটূক্তি করেন। তার ‘আপত্তিকর ও উসকানিমূলক’ বক্তব্য হিন্দু সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। এর কারণে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে পৃথক আইনে মামলার প্রস্তুতির কথা গতকালই জানান হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি সুমন কুমার রায়। সেসময় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেই বিষয়টি জানান।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল