বন্যাকবলিত এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

ঘরে ফিরতে শুরু করেছে বানভাসি মানুষ

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৫ উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:৫৬ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:৫৬
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:৫৬ আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯, ২২:৫৬


বন্যাকবলিত এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) প্রায় এক সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির। তবে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি ফসলের ক্ষতির কথা জানা গেছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলেও। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাবার সংকট। এদিকে শরীয়তপুরসহ মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ

জামালপুরে পানি কমায় বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন বানভাসি মানুষ। গত এক সপ্তাহের বন্যায় জেলার ২৮ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও সবজিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে বন্যা পরবর্তী পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্তদের সেবায় কাজ শুরু করছে স্বাস্থ্য বিভাগের ৬১টি মেডিকেল টিম।

খাবার সংকট

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। তবে পানিবন্দী আছেন জেলার কয়েক লাখ মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার সংকট। জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম বলে অভিযোগ বন্যার্তদের।

সিরাজগঞ্জের বন্যার খবর

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৫ উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষ। গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।

শরীয়তপুর ও ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি 

এদিকে পদ্মার পানি বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে শরীয়তপুর ও ফরিদপুরে। রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘরে পানি ওঠায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন্যাকবলিতরা।

সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামে ৯ লাখ বানভাসি

কুড়িগ্রাম জেলার সাড়ে ৯ লাখ বানভাসির দুর্ভোগ এখন চরমে। বন্যায় এত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বানভাসিরা। রাস্তায়, রেলস্টেশন ও বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে বন্যাদুর্গত মানুষ। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। সব মিলে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন সাড়ে ৯ লাখ বানভাসি।

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে জানা যায়, বন্যার কারণে তিনটি পৌরসভাসহ ৬০টি ইউনিয়নের ৮৯৪টি গ্রামের দুই লাখ ৩৮ হাজার ৬৭২টি পরিবার পানিবন্দী। প্রতি পরিবারের চারজন বানভাসি। সে হিসাবে বন্যাদুর্গত মানুষের সংখ্যা ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৬৮৮ জন। বন্যায় পানিবন্দী হয়ে এসব মানুষ গত ১০ দিন ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এদের মাঝে দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটের পাশাপাশি রয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ।

সেই সঙ্গে বন্যায় ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর। এক হাজার ২৪৫ কিলোমিটার রাস্তা, ৪০ কিলোমিটার বাঁধ ও ৪১টি ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪টি। দুই লক্ষাধিক গবাদিপশু পানিবন্দী রয়েছে। বন্যার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কলেজ মিলে এক হাজার ২৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন থেকে ৮০০ টন চাল, ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাত হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছয় হাজার ৪২৮ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যায় নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার করে তিন লাখ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি। ছবি: সংগৃহীত 

এদিকে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বানভাসিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে পাঁচ হাজার পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল, সয়াবিন তেল, ডাল, চিনি, চিঁড়া, গুড়, মুড়ি, নুডলস, বিস্কুট, পানি ও স্যালাইনসহ একটি করে ত্রাণের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে জেলা পরিষদের উদ্যোগে ১০ লাখ টাকার শুকনো খাবার, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কর্তৃক চিলমারীতে ৫০০ পরিবারকে সাড়ে চার হাজার টাকা করে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ডব্লিউএফপি কর্তৃক সদর উপজেলায় এক হাজার ২৫১টি, উলিপুরে ৮৫৫টি এবং চিলমারীতে দুই হাজার ৩০৮টি পরিবারকে সাড়ে চার হাজার করে এক কোটি ৯৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল