দায়িত্ব পালন কালে সুব্রত রঞ্জন। ছবি: সংগৃহীত

হাতে কাজ নেই, চলচ্চিত্র নির্মাতা এখন নিরাপত্তারক্ষী!

৬২ বছরের সুব্রত রঞ্জন দত্তকে টালিউডে অনেকেই চেনেন। ঋত্বিক ঘটকের কাছে ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ ছবিতে শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৪ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৪
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৪ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৯, ১৫:২৪


দায়িত্ব পালন কালে সুব্রত রঞ্জন। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সুব্রত রঞ্জন দত্ত ২০১৬ সালে নির্মাণ করেছেন ‘প্রবাহিণী’ নামের একটি চলচ্চিত্র। তারপর শিশি-বোতল কুড়ানো মেয়েদের জীবন নিয়ে নির্মাণ করেছেন ‘কলি’। ছবিটি এখনো মুক্তি পায়নি। জীবনের পালাবদলে এই চলচ্চিত্র নির্মাত নিজেই এখন বাস্তব জীবনের চরিত্র হয়ে উঠেছেন। বাঁচার লড়াই আর সংসারধর্ম পালন করতে গিয়ে হয়ে গিয়েছেন বাড়ির দারোয়ান।

৬২ বছরের সুব্রত রঞ্জন দত্তকে টালিউডে অনেকেই চেনেন। ঋত্বিক ঘটকের কাছে ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ ছবিতে শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ শুরু করা সুব্রত আশির দশকে বহু ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

এমনকি মুম্বাইয়ে শশধর মুখোপাধ্যায়ের প্রোডাকশন হাউসেও কাজ করেছেন তিনি। সুব্রতর কথায়, ‘সময় পেলেই নতুন চিত্রনাট্যের খসড়া তৈরি করার চেষ্টা করি এখনো। তবে সময় বের করাটাই কঠিন।’

ভিআইপি রোডের একটি আবাসনে ১২ ঘণ্টার নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেই সময় চলে যায়। তা সত্ত্বেও নতুন কাজের আশায় সারা রাত ডিউটির পরেও সকালে ছোটেন টালিপাড়ায়। ফিরে এসে আবারও আবাসনের গেটের সামনে রাত পাহারার কাজে যোগ দেন তিনি।

তার কথায়, ‘স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে সংসার। চলতে হবে তো। কয়েক বছর বসে রয়েছি। শেষে এ কাজেই ঢুকে গেলাম। কোনো কাজই ছোট নয়।’

সুব্রতর নতুন পেশার খবর ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই জানেন। তবুও তেমনভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মানুষের সংখ্যা কম। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স ডিরেক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল দে বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যের। সুব্রত টালিগঞ্জের পরিচিত মুখ। এখন যাদের হাতে ক্ষমতা, তাদের দলের লোকজনই শুধু কাজ পায়। সুব্রতবাবুর মতো অভিজ্ঞ মানুষেরা কাজ পান না। এতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির দৈন্যদশাই ফুটে উঠছে।’

তবে হাল ছাড়েননি সুব্রত। তার কথায়, ‘জীবন সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই গতিশীল। ভালো কাজের সুযোগ নিশ্চয়ই পাবো। চেষ্টা চালাতেই হবে।’

প্রিয় বিনোদন/মিঠু/আশরাফ