মিজানুর রহমান (বামে) ও এনামুল বাছির। ফাইল ছবি

ঘুষ লেনদেন: মিজানের পর বাছিরও কারাগারে

মামলার আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিল বাছির।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:১২ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:১২
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:১২ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৯, ২২:১২


মিজানুর রহমান (বামে) ও এনামুল বাছির। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) নিজেকে বাঁচাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান। তাদের মধ্যে ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আগেই কারাগারে গিয়েছেন মিজান। এবার সেই পথে যেতে হলো খন্দকার বাছিরকেও।

জামিন না মঞ্জুর, কারাগারে বাছির

৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের মামলার আসামি দুদকের বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২৩ জুলাই, মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েসের আদালত এ আদেশ দেয়। এর আগে দুপরে পুলিশের কড়া পাহারায় তাকে আদালতে নেওয়া হয়। শুনানি শেষে তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়।

যেভাবে গ্রেফতার হলেন বাছির

দুদক থেকে সাময়িক বরখাস্ত খন্দকার  এনামুল বাছির। ছবি: সংগৃহীত

সোমবার রাতে তাকে রাজধানীর দারুস সালাম থেকে গ্রেফতার করে দুদক। দুদকের তদন্ত টিমের প্রধান শেখ মো. ফানাফিল্লাহর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি টিম সোমবার রাত ১১টার দিকে মিরপুরের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। রাতেই তাকে রমনা থানা হাজতে হস্তান্তর করা হয়।

মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা

১৭ জুলাই ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় খন্দকার বাছিরসহ পুলিশের ‘বিতর্কিত’ ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ফরেনসিক পরীক্ষায় ঘুষ লেনদেন নিয়ে তাদের কথোপকথনের অডিওর সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা মিজান কিছু দিন আগে গ্রেফতার হলেও বাছিরকে গ্রেফতারে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর শাজাহানপুর ও আজিমপুরে তিন দফা অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদক পরিচালক এনামুল বাছির ঘুষগ্রহণ করেছেন, এটি অডিও রেকর্ডে প্রমাণ আছে। অন্যদিকে ডিআইজি মিজান নিজেই ঘুষ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। দুদক মনে করছে, এর মাধ্যমে মিজান নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দুজনই ঘুষ লেনদেনে জড়িয়েছেন, যা দণ্ডবিধি ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) (ক্ষমতার অপব্যবহার) ধারায় অজামিন ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

মামলার আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়েছিলেন বাছির

মামলা করার আগেই বাছিরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন। ১০ জুন দুদকে হাজির হয়ে তার ঘুষের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি সেদিন এ ব্যাপারে কোনো মতামত দেননি। পরে ঘুষ লেনদেন মামলায় সাময়িক বরখাস্ত এনামুল বাছিরকে গ্রেফতার করে দুদক।

বাছিরের মামলায় কি বলা হয়েছে

দুদকের মামলার এজাহারের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এনামুল বাছিরকে। ওই অনুসন্ধান চলা অবস্থায় ৯ জুন ডিআইজি মিজান ওই অনুসন্ধান থেকে বাঁচতে এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়। এর পর পরই দুদকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে খন্দকার এনামুল বাছিরের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পায়। এর পর ১৩ জুন পরিচালক ফানাফিল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়।

যেদিন কারাগারে পাঠানো হয় মিজানকে

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় ডিআইজি মিজানকে। ছবি: সংগৃহীত

বাছিরের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলায় ২১ জুলাই কারাগারে পাঠানো হয় মিজানকে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ ফানাফিল্লাহ মিজানকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলে ২১ জুলাই ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েস তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল