প্রতীকী ছবি

যদি বিজ্ঞান অমরত্ব দেয়!

আমাদের এই ক্ষুদ্র যুগে আমাদের কাছে ফেলে আসা সময়ের দাম অনেক বেশি কিন্তু অমরত্বের যুগে বর্তমান সময়টাই বেশি মূল্যবান হবে।

ফরিদ উদ্দিন শিমুল
লেখক
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০১৮, ১৮:৪৯ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৭:১৬
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০১৮, ১৮:৪৯ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৭:১৬


প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) যেদিন জন্ম নিয়েছি, সেদিনই সঙ্গে করে মৃত্যুকে নিয়ে এসেছি। কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে আমার মৃত্যু হবে জানি। তবে গড় আয়ু অনুযায়ী ধরে নিলাম আমি ৬০-৬৫ বছর বাঁচব। এর মধ্যে জীবনের তিন ভাগের এক ভাগ শেষ, এর মাঝে বুঝে গেছি জীবন অনেক উপভোগ্য অনেক সম্পর্ক, মায়া—সব মিলিয়ে মৃত্যুর কথা মাথায় এলেই কষ্ট লাগে; আমারও  একদিন যেতে হবে!...

মানে জীবনের প্রতি অদ্ভুত এক মায়া ধরে গেছে।

আলাদিনের চেরাগের গল্প আমরা কমবেশি সবাই শুনেছি। গল্পে যে আলাদীনকে পেত সে হকুম করে আলাদিনকে ব্যস্ত রাখত। সবাই তার নিজস্ব ইচ্ছা, ধন-সম্পদ, রূপ, কেউবা রাজা হওয়ার জন্যেও হুকুম করত।

কিন্তু কেউ কি তার অমরত্ব দাবি করেছে, এমনটা শুনেছেন? কারণ এটা পুরোই ভিত্তিহীন।

পৃথিবীতে কেউই অমর নয়, আমিও না।

ধরুন,

আপনি আল্লাহতালার সম্মুখীন হলেন এবং আল্লাহতালা আপনাকে প্রশ্ন করলেন, ‘হে আমার গোলাম, তুমি আমার কাছে কী চাও?’

আমাদের মানুষের প্রথম চাওয়াই হবে, ‘আমি অমরত্ব চাই।’ মানে কেয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চাই।

যদি এমনটা হতো, পৃথিবীর সব মানুষ অমরত্ব পেল। যখন আপনার বয়স ৩৬৫ বছর এবং আজই আপনার ৩৬৫তম জন্মদিন আর ৩৬৫তম জন্মদিনে আপনি আপনার প্রিয় মানুষটির কাছে কী চাইবেন?

তা ছাড়া এতগুলো জন্মদিন পালন করতে গিয়ে আপনার অরুচি আসবে না? 

তবুও আপনার জন্য ভালো একটা পার্টির আয়োজন হয়েছে। ভালো একটি রোমান্টিক গানের হালকা ভলিউমে আপনি আর আপনার প্রিয় মানুষটি নৃত্য করছেন।

যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়, আচ্ছা এই ৩৬৫ বছরে ইনি আপনার কত নাম্বার প্রিয় মানুষ?

হওয়াই স্বাভাবিক মানুষ যখন অমরত্ব পেয়ে যাবে, যদিও সে বিয়ে করবে, তবে তা কত বছরের জন্য? একসঙ্গে তো এক জোড়ে থাকা শতাব্দীর পর শতাব্দী! কী মনে হচ্ছে?...থাকতে পারবেন তো?

বর্তমান অবস্থায় আশা যাক।

আমাদের সামান্য কিছুদিনের সাংসারিক জীবনের বিচ্ছেদের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে...খেয়াল করে দেখবেন।

আমাদের এই ক্ষুদ্র যুগে আমাদের কাছে ফেলে আসা সময়ের দাম অনেক বেশি কিন্তু অমরত্বের যুগে বর্তমান সময়টাই বেশি মূল্যবান হবে। এখনকার মতো বার্থডে গিফ্টে তখন কেউ আর দামি স্বর্ণ গিফ্ট দেবে না। আপনার প্রিয় মানুষটির কাছে আপনার একটাই চাওয়ার থাকবে ‘সময়’।

তাহলে অমরত্বে কেমন হবে?

শুনেছি বিজ্ঞান এই অমরত্ব নিয়ে খুব শিগগির হাজির হচ্ছে। আপনার হাতেই আপনার রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মেশিন থাকবে। আপনার জন্মানো সন্তানকে আপনি আপনার ইচ্ছেমতো গুণাগুণ দিয়ে তৈরি করতে পারবেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আধুনিক বিজ্ঞান  কি নিজেকে ঈশ্বর সমতুল্য করে ফেলছে না তো? ফল খারাপ হবে বোঝা যাচ্ছে।

কারণ এমনটার ফল আগেও ভালো হয়নি।

 

প্রিয় বিজ্ঞান/আজাদ চৌধুরী