(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ‘সন্ত্রাসী দমন’ অভিযানে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪০০ নাগরিকের প্রাণ গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের সময় নাফ নদী পার হতে গিয়ে নৌকা ডুবে গত কয়েক দিনে প্রাণ গেছে আরও ৩৯ রোহিঙ্গার।

১ সেপ্টেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে মিয়ানমার সীমান্ত পাড় হয়ে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন অন্তত ৩৮ হাজার রোহিঙ্গা। এ ছাড়া দেশটিতে চলা বর্তমান সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০০ মানুষ। এদের মধ্যে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় নাফ নদীতে নৌকা ডুবে গত তিনদিনে প্রাণ গেছে অন্তত ৩৯ রোহিঙ্গার। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি।

এদের মধ্যে শুক্রবার সকালে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের গোদামপাড়া, ওয়াব্রাং, মৌলভীবাজার ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকে ১৬ জন (৯ জন শিশু ও ৭ জন নারী) রোহিঙ্গা নারী-শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  এ ছাড়া গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ থেকে পৃথকভাবে ২৩ জন নারী ও শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হয়, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি পুলিশ চেক পোস্টে হামলা চালায় দেশটির জঙ্গি সংগঠন আরাকান রহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি যা সংক্ষেপে এএসআরএ বাহিনী। এই হামলায় বেশ কয়েকজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়। তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিকেরও বেশি লোকজন। এদের মধ্যে স্থানীয় সংখ্যালঘুদের সংখ্যাই বেশি।

পরবর্তীতে ‘সন্ত্রাসী’ দমনের নামে রাখাইন রাজ্যে বিপুল পরিমাণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে দেশটির সরকার। এরপরই ওইসব এলাকাগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা সন্ত্রাস দমন করছেন। তবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, দেশটির সরকার তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। নির্বিচারে মেরে ফেলা হচ্ছে তাদের।

এদিকে নির্বিচারে মানুষ হত্যায় কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় বিশ্ব নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন মিয়ানমারের  গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী নামে পরিচিত অং সান সূচি।

প্রিয় সংবাদ/মিজান