(প্রিয়.কম) মহা সমারোহে পুরো বিশ্ব দেখল আইফোন টেন। জঁমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অ্যাপলের স্পেসশিপ ক্যাম্পাসের স্টিভ জবস থিয়েটারে ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আইফোন ৮ এবং ৮ প্লাসের সাথে নতুন এ স্মার্টফোন উন্মোচন করা হয়।

এতে এজ-টু-এজ ওএলইডি ডিসপ্লে, ফেস আইডির মতো চমৎকার সব ফিচার বিদ্যমান। অনেক আইফোন ভক্তই অধিক আগ্রহে নতুন ফোনটি কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে ফোন কেনার আগে কিছু বিষয় সত্যিই ভাবাতে পারে ভক্তদের। প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য আইফোন টেন না কেনার ৫টি কারণ উল্লেখ করা হলো-

১. আইফোন টেনের দাম বেশি

আইফোন টেন না কেনার প্রধানতম কারণের মধ্যে একটি হলো এর অত্যাধিক দাম। নতুন এ ফোনটির দাম রাখা হয়েছে ৯৯৯ মার্কিন ডলার। এ তো গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইতালি, রাশিয়া, পোল্যান্ডের গ্রাহকদের আইফোন টেন ২৫৬ জিবি সংস্করণ কিনতে গুণতে হবে অন্তত ১৬০০ মার্কিন ডলার।

আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের ব্যবসার সিংহভাগ অর্থ উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটি জানে এক হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে প্রিমিয়াম, হাই ইন্ড স্মার্টফোন কেনার জন্য বাজারে গ্রাহক আছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে গ্রাহকের পকেটের টাকাও এখন ভালোই উধাও হচ্ছে।

২. টাচ আইডিবিহীন আইফোন

টাচ আইডি সরিয়ে নতুন আইফোনে ফেস আইডি দেখে অনেকেই বিব্রত হতে পারেন। আইফোন টেনের এজ-টু-এজ ওএলইডি ডিসপ্লের সাথে হয়তো এই প্রযুক্তি কাজ করত না তবে কয়েক বছর ধরে টাচ আইডি দ্রুততম এবং সবচে নিরাপদ বায়োমেট্রিক আনলকিং সিস্টেম হিসেবে পরিণত হয়েছিল। আইফোন টেন গ্রাহকদের এই নিরাপদ আনলকিং সিস্টেমটি হারাতে হলো। তাদেরকে এবার অপরিক্ষীত ফেস আইডির সাথে আপোস করে চলতে হবে। ফেস আইডি নিয়ে ইতোমধ্যে জনমনে নানান কৌতুহল ও প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।

৩. ইউজার ইন্টারফেসে জটিলতা

আইফোন টেনে হোম বাটন না থাকায় পুরো আইওএস ১১ অপারেটিং সিস্টেমের ইউজার ইন্টারফেস পরিবর্তন হয়ে গেছে। ফোনের ডিসপ্লেতে আঙ্গুলের নড়াচড়ায়ও পরিবর্তন এসেছে। আইফোন টেন গ্রাহকদের এক হাত দিয়েই ডিভাইস পরিচালনা করতে হচ্ছে এবং সেটা কিছুটা কঠিনও। অ্যাপ বন্ধ করতে হলে এখন ফোনের উপর থেকে নিচের দিকে সোয়াইপ করা লাগে। আর উপরের দিকে সোয়াইপ করে হোল্ড করলে মাল্টিটাস্কিং অ্যাপ সুইচার খুলে যায়। স্মার্টফোনের ডান কোণা থেকে নিচের দিকে সোয়াইপ করলে কন্ট্রোল সেন্টার চলে আসে। আর বাম দিকে সোয়াইপ করল নোটিফিকেশন লিস্ট চলে আসে।

এরকম আরও অনেক ধরণের ‘অদ্ভূত’ সব ইন্টারফেস আইফোনে যুক্ত করা হয়েছে। আর এসব কিছু এক হাতে করতে হবে। এটাই আইওএস ১১ অপারেটিং সিস্টেমের সবচে বড় জটিলতা। এখন আপনার যদি বড় হাত না থাকে তবে আইফোন টেন ব্যবহার করাটা কিছুটা জটিল হবে।

৪. অ্যাপলকেয়ার প্লাসের খরচ ন্যূনতম ১৯৯ মার্কিন ডলার

আইফোন টেনে অ্যাপলকেয়ার প্লাস ইন্স্যুরেন্স প্লানের দাম পড়বে ১৯৯ মার্কিন ডলার। অথচ আইফোন ৭ এবং আইফোন ৮ স্মার্টফোনের এর খরচ ছিল ১২৯ মার্কিন ডলার। ব্যয়বহুল স্ক্রিনের কারণে দাম বাড়তে পারে।

৫. আইফোন ৮ স্মার্টফোন সিরিজেই এ১১ বায়োনিক চিপ, ফেস আইডি তারবিহীন চার্জিং প্রযুক্তি বিদ্যমান

আইফোন টেন এবং আইফোন ৮ উভয় স্মার্টফোনেই অ্যাপলের শক্তিশালী এ১১ বায়োনিক চিপ বিদ্যমান। আইফোন ৮ স্মার্টফোনে তারবিহীন চার্জিং প্রযুক্তি এবং ফেস আইডি সমর্থণ করে। আইফোন টেনের বিশেষত্ব হলো এতে ওএলইডি এজ-টু-এজ ডিসপ্লে আর ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা প্রযুক্তি বিদ্যমান। সেক্ষেত্রে এক হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে আইফোন টেন না কিনেও বেশিরভাগ নতুন সার্ভিস আইফোন ৮ ব্যবহার করে উপভোগ করতে পারবেন গ্রাহকরা।

প্রিয় টেক/মিজান