নতুন আগত রোহিঙ্গা ৬ লাখ ৮৮ হাজার : আইওএম

যাদের ফেরত পাঠানো হবে তাদের পূর্ণ তালিকা তৈরি শেষ হয়নি। তাছাড়া ভেরিফিকেশন ও ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপন এখনো বাকি রয়েছে। তাই এ প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
২২ জানুয়ারি ২০১৮, সময় - ২১:৫৩

নদীপথ পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ। ছবি : ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে এখন পর্যন্ত ৬ লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

২২ জানুয়ারি, সোমবার  আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, গত ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এক জরিপের মাধ্যমে নতুন করে আগত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা জানা গেছে। তবে খুব অল্প সংখ্যায় হলেও রোহিঙ্গারা এখনে আসছে।     

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সাথে ‘ফিজিক্যাল এরেঞ্জমেন্ট’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে মিয়ানমার। ওই চুক্তিতে বলা হয়, আগত রোহিঙ্গাদের আগামী দুই বছরের মধ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ফিরিয়ে নেওয়ার এই প্রক্রিয়া ২৩ জানুয়ারি, মঙ্গলবার থেকেই শুরু হওয়ার কথা।

কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। যাদের ফেরত পাঠানো হবে তাদের পূর্ণ তালিকা তৈরি শেষ হয়নি। তাছাড়া ভেরিফিকেশন ও ট্রানজিট ক্যাম্প এখনো বাকি রয়েছে। তাই এ প্রক্রিয়া দেরি হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, গেল বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান শুরু হওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ছয় লাখ ৮৮ হাজার মানুষ পালিয়ে এসে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার টেকনাফ ও উখিয়ার শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে; যাদের ৯০ শতাংশই নারী-শিশু ও বৃদ্ধ।

ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ৪ লাখ ৫০ রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে; যার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজারই নতুন। এসব শিশুর মধ্যে আবার অভিভাবকহীন ৩৬ হাজার ৩৭৩ শিশুও রয়েছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। পালিয়ে আসা শিশু শরণার্থীদের বাইরেও প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ১০০ নবজাতক। 

উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয় শিবির। ছবি: ফোকাস বাংলা

উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয় শিবির। ছবি : ফোকাস বাংলা

বর্বর ওই অভিযানে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচার গণহত্যা-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, রাখাইনে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছে এবং এটি মানবতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধ

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা জেইদ আল রাদ আল হুসেইন বলেছেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হয়তো গণহত্যার মতো অপরাধ সংঘটিত করেছে। এর আগে তিনি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো সহিংসতাকে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযানের জ্বলন্ত উদাহরণ (টেক্সটবুক এক্সাম্পল অব এথনিক ক্লিনজিং) বলে বর্ণনা করেছিলেন।

প্যারিসভিত্তিক মানবিক সাহায্য সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) জানায়, আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার এক মাসেই হত্যার শিকার হয়েছিলেন কমপক্ষে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা নাগরিক

বার্তা সংস্থা এপি জানায়,  মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ করেছে। এদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বয়স ১৮-এর নিচে। সবচেয়ে ছোটজনের বয়স ছিল ৯ বছর।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ স্যাটেলাইটে তোলা ছবি বিশ্লেষণের পর জানায়, ২৫ অগাস্ট সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর রাখাইনে মোট ৩৫৪টি গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে

প্রিয় সংবাদ/আবু আজাদ/আজাদ চৌধুরী

 

 

 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন