লালমনিরহাটে আবারো বন্যা, পানিবন্দি লাখো মানুষ

পানিবন্দি পরিবারের একজন নুরুল হক বলেন, 'আমরা দুই দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। এখন পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। কেউ আমাদের খোঁজ পর্যন্ত করেনি।'

আসাদুজ্জামান সাজু
কন্ট্রিবিউটর, লালমনিরহাট
১২ আগস্ট ২০১৭, সময় - ১৯:৩৫

লালমনিরহাটে আবারো বন্যা। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা, বুড়ি তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটে আবারো বন্যা দেখা দিয়েছে। নদী গুলোর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলোতে এ বন্যা দেখা দেয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।

হাতীবান্ধা উপজেলার ধুবনী গ্রামে একটি বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ১১ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে আবারো নদী গুলোর পানি বাড়তে শুরু করে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী পয়েন্টে ১২ আগস্ট শনিবার সকালে বিপদ সীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। আমরা প্রতি মুহুর্তে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।'

তিস্তা পাড়ের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন আগের বন্যায় চর এলাকা গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় বন্যায় সব চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। যে কারণে ওই এলাকায় বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি লোকজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ভারত গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারাজের বেশি ভাগ গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে তিস্তার পানিতে পাটগ্রামে অবস্থিত বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্চ উপজেলার ভোটমারী, শোলমারী, জমিরবাড়ী, বইরাতী, আদিতমারী উপজেলার কুঠিপাড়া, গোবর্দ্ধধন, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছা, রাজপুর, তিস্তা, গোকুন্ড এলাকার চরে ৩০ গ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানিবন্দি পরিবারের একজন নুরুল হক বলেন, 'আমরা দুই দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। এখন পর্যন্ত আমাদের মাঝে কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। কেউ আমাদের খোঁজ পর্যন্ত করেনি।'

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর তালিকা তৈরী করছেন। ইতোমধ্যে ত্রাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেছেন।'

লালমনিরহাট-১ আসনের (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন বলেন, 'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতির খোজঁ খবর নেয়া হচ্ছে। পানিবন্দি পারিবার গুলোর সহযোগিতার জন্য ত্রাণ মন্ত্রীর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

প্রিয় সংবাদ/সজিব 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন