(প্রিয়.কম) গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অব্যাহত গণহত্যা-‘জাতিগত নিধন’ চালানোর প্রেক্ষিতে আলোচনার জন্য ফের বৈঠক ডাকতে বলেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্যসহ মিসর, কাজাখস্তান, সেনেগাল ও সুইডেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্য হলেন- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

এই সাত দেশ রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর পরিচালিত অভিযানের বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে ফের বৈঠকের অনুরোধ করে বলে শুক্রবার জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি বাহিনীর চলমান নির্মম নির্যাতনের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এ বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য এবং অস্থায়ী সদস্য সুইডেন।

তবে ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ কিউ জেইয়া দেশটির সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই বৈঠকে অংশ নেবেন না মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি। আর বুধবার বৈঠক শেষে আরাকানে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো।

এদিকে ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবারের স্যাটেলাইট ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, রাখাইন রাজ্যে আরও বহু জায়গায় নতুন করে আগুন দেওয়া হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র ছাড়াও শুক্রবার রাখাইন রাজ্যের তিনটি ভিডিও এসেছে অ্যামনেস্টির হাতে।

ভিডিওগুলোতে নতুন করে আগুন দেওয়ার চিত্র স্পষ্ট এবং এসব ভিডিওতে তীব্র ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা গেছে। রাখাইনের স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী নতুন করে এসব আগুন দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করে। ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। পুরানো পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার সাথে নতুন অভিযানে ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা।

সারা বিশ্বে ইউএনএইচসিআর কতৃক নিবন্ধিত ১৭.২ মিলিয়ন শরণার্থীর ৩০% এখন বাংলাদেশে। এরই মধ্যে চলমান রোহিঙ্গা ঢল অব্যাহত থাকলে শরণার্থীর এ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এত সংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব তাদের পক্ষেও নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ